নয়াদিল্লি: ভারতের জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়ার এক পাইলটের (pilots flying)নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ফ্লাইট পরিচালনার অভিযোগ নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান প্রায় ৩০০ মিটার নিচে নেমে যায়। বিমানটি ফুকেত থেকে দিল্লি আসছিল। মাঝরাস্তায় উড়িষ্যার আকাশে বিমানটি টার্বুলেন্সের মধ্যে পড়ে ৩০০ মিটার নিচে নেমে যায়।
তদন্তের পরে জানা যায় পাইলট নেশাগ্রস্ত ছিল। পাইলটের নেশাগ্রস্ত থাকার অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুতর বলেই দেখা হচ্ছে। বিমান চলাচলে অ্যালকোহল বা নেশাজাতীয় পদার্থের বিষয়ে জিরো টলারেন্সের নীতি রয়েছে। আরটিআই তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ৭২৪ জন পাইলট ও ক্রু সদস্য ব্রেথ অ্যানালাইজার পরীক্ষায় পজিটিভ এসেছেন। এই সংখ্যা উদ্বেগজনক।
আরও দেখুনঃ ফের বাড়ল অস্থিরতার আশঙ্কা! ‘যন্তরমন্তর সিজন ২’ আসছে, বললেন দিপকে
শুধু এয়ার ইন্ডিয়া নয়, পুরো বেসামরিক বিমান (pilots flying)চলাচল খাতে এই সমস্যা বারবার উঠে আসছে। ২০২২ সালে ৪১ জন পাইলট ও ১১৬ জন ক্রু সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালে ৫৪ জন পাইলটের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যাদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশি নাগরিকও ছিলেন। এই পরিসংখ্যানেই ফের প্রশ্ন উঠছে একজন মাতাল গাড়িচালক কয়েকজন যাত্রীর জীবন ঝুঁকিতে ফেলেন। কিন্তু একজন নেশাগ্রস্ত পাইলট কতটা বিপজ্জনক হতে পারে।
এক সেকেন্ডের দেরিতে যথেষ্ট বড় দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। তাই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ অ্যালকোহলের বিষয়ে কঠোর নিয়ম মেনে চলে। প্রি-ফ্লাইট ব্রেথ অ্যানালাইজার পরীক্ষা বাধ্যতামূলক এবং পজিটিভ এলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।সাম্প্রতিক এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে পাইলটের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ককপিটে অস্বাভাবিক আচরণ, হাঁটতে অসুবিধা এবং অন্যান্য লক্ষণ দেখা গেছে বলে অভিযোগ।
আরও দেখুনঃ বিদেশি নারী পাচার করে মুখ বদলে যৌ*ন ব্যবসা! যোগী রাজ্যে পুলিশের জালে উজবেক মহিলা
পরে পরীক্ষায় নেশাজাতীয় পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে সূত্র জানিয়েছে। (pilots flying)এ ধরনের ঘটনা যাত্রীদের আস্থা নষ্ট করে এবং বিমান সংস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে।এই সমস্যা নতুন নয়। বছরের পর বছর ধরে পাইলট ও ক্রুদের মধ্যে অ্যালকোহল সেবনের ঘটনা ধরা পড়ছে। ডিজিসিএ-র নিয়ম অনুযায়ী প্রথমবার পজিটিভ হলে লাইসেন্স স্থগিত করা হয়, দ্বিতীয়বার আরও কঠোর শাস্তি এবং তৃতীয়বার স্থায়ী বাতিলের বিধান রয়েছে।
তবুও সংখ্যা কমছে না। আরটিআই তথ্যে দেখা যাচ্ছে, (pilots flying)পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।বিমান চলাচলে নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। একজন পাইলটের সামান্য অসাবধানতা শত শত পরিবারের জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই শূন্য সহনশীলতার নীতি অত্যন্ত জরুরি। বিমান সংস্থাগুলোকে আরও কঠোর পরীক্ষা ও মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। পাইলটদের মানসিক স্বাস্থ্য ও চাপের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে, তবে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ফ্লাইট পরিচালনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
