কলকাতা: রাজ্যে বিজেপির (BJP) বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজি ও দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে এবার সাংগঠনিক স্তরে কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটল দল। বৃহস্পতিবার কলকাতায় বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বানসাল দলের বিধায়ক ও জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তোলাবাজি বা অনিয়মের ক্ষেত্রে কোনও রকম আপস করা হবে না। তিনি নেতাদের “জিরো টলারেন্স” নীতি অনুসরণ করার নির্দেশ দেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এবং দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী। বর্তমানে দিল্লিতে থাকা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য শুক্রবার বৈঠকের শেষ পর্বে যোগ দেবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
দলীয় সূত্রের দাবি, বৈঠকে বিধায়কদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বলা হয়েছে, এলাকায় দলবিরোধী কার্যকলাপ বা তোলাবাজির অভিযোগ সামনে এলে তা দ্রুত রাজ্য স্তরের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির নজরে আনতে হবে। অভিযোগের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে ওই কমিটিই।
Also Read | খাদ্যশস্য প্যাকেজিংয়ে ব্যাবস্থার হবে পাটের ব্যাগ! বাংলার পাটশিল্প বাঁচাতে কড়া অবস্থান বাংলার সরকারের
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে ৩০০-র বেশি শোকজ নোটিস এবং অন্তত ২২টি সাসপেনশন লেটার জারি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে একাধিক মণ্ডল সভাপতিও রয়েছেন। বিজেপির একাংশের দাবি, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের আর কোনও সাংগঠনিক পদ দেওয়া হবে না।
এর আগে রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্যও তোলাবাজির অভিযোগ নিয়ে দলীয় কর্মীদের কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্যের পরই সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
দলীয় সূত্রের দাবি, সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে দমদম লোকসভা কেন্দ্র থেকে। এছাড়া দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকা এবং আসানসোল থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অভিযোগ জমা পড়েছে। তুলনামূলকভাবে রাজারহাট ও নিউ টাউন এলাকায় অভিযোগের সংখ্যা কম বলে জানিয়েছে বিজেপি।
Also Read | মালদহে ফের টাকার পাহাড়! উদ্ধার ৪১ লক্ষ ও মাদক, ধৃত ২
দলের এক পদাধিকারীর দাবি, অনেক অভিযোগকারী সরাসরি রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্যকে চিঠি লিখে অভিযোগ জানিয়েছেন। অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় দখলের চেষ্টা এবং বিরোধী দলের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার মতো বিষয়ও।
আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক ও মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারিও সম্প্রতি তোলাবাজির সংস্কৃতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। একইভাবে খড়গপুর টাউনের বিধায়ক ও মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ দলীয় কর্মীদের তৃণমূলের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে সুনীল বানসাল এদিন পুরসভা নির্বাচন নিয়েও আলাদা বৈঠক করেন। সেখানে মন্ত্রী তাপস রায়, শঙ্কর ঘোষ-সহ একাধিক বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কাশীপুর-বেলগাছিয়ার বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি এবং বরানগরের বিধায়ক সজল ঘোষও ছিলেন।
দলীয় কর্মীদের একাংশের ধারণা, দুর্গাপুজোর পর রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নির্বাচন হতে পারে। সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই সাংগঠনিক শৃঙ্খলা জোরদার করা এবং তৃণমূল স্তরে অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তিতে এখন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি নেতৃত্ব।
