মেক ইন ইন্ডিয়ায় আরও এক ধাপ! বায়ো গ্যাস ‘গোবর্ধন’ প্রকল্পের অনুমোদন মোদীর

নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে (GOBARdhan)আজ গোবর্ধন প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে…

gobardhan-biogas-scheme-india

নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে (GOBARdhan)আজ গোবর্ধন প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও গ্রামীণ সমৃদ্ধির দিকে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হল। প্রকল্পটি কম্প্রেসড বায়োগ্যাস বা সিবিজিকে দেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি মিশ্রণের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে।

Advertisements

গোবর্ধন প্রকল্পের (GOBARdhan)মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাসের আমদানি কমানো সম্ভব হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় ঘটবে। একইসঙ্গে এটি সার্কুলার বায়ো-ইকোনমিকে উৎসাহিত করবে। কৃষক, গ্রামীণ উদ্যোক্তা ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলোর আয় বাড়বে। কৃষি ও জৈব বর্জ্যের বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত হবে। কৃষি অবশিষ্টাংশ, গবাদি পশুর গোবর, প্রেস মাড, পৌর জৈব বর্জ্য ও অন্যান্য বায়োমাসকে পরিষ্কার জ্বালানি ও জৈব সারে রূপান্তর করা হবে।

   

আরও দেখুনঃ E ২০ র ইথানল সম্পূর্ণ ভারতীয়-আমেরিকার নয়! স্পষ্ট করল মোদীসরকার

প্রকল্পটি ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩৫-৩৬ অর্থবছর পর্যন্ত চলবে। এর মাধ্যমে দেশীয় সিবিজি উৎপাদন প্রায় দশ গুণ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ করে সার্কুলার বায়ো-ইকোনমি গড়ে তোলা হবে। নিশ্চিত চাহিদা, স্থিতিশীল মূল্য, মূলধন সহায়তা, পাইপলাইন পরিকাঠামো, ঋণ সহায়তা ও প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে সিবিজি খাতকে জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।সরকার সিবিজির জন্য প্রশাসনিক মূল্য নির্ধারণ করেছে প্রতি এমএমবিটিইউ ২ হাজার ১১০ টাকা।

Advertisements

এতে উৎপাদকরা দীর্ঘমেয়াদি আয়ের নিশ্চয়তা পাবেন। যোগ্য নতুন প্রকল্পগুলোকে প্রতি টন প্রতিদিন স্থাপিত ক্ষমতার জন্য সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত মূলধন সহায়তা দেওয়া হবে। সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন সংস্থাগুলো নির্ধারিত অনুপাতে সিবিজি কিনবে। (GOBARdhan)এতে ২০২৬-২৭-এ ৩ শতাংশ, পরের বছর ৪ শতাংশ এবং তারপর থেকে ৫ শতাংশ মিশ্রণ বাধ্যতামূলক হবে।এই প্রকল্পের ফলে প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকার শিল্প গড়ে উঠতে পারে।

দেড় লাখেরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ল্যান্ডফিলে বর্জ্য কমবে এবং চল্লিশ মিলিয়ন টনেরও বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন হ্রাস পাবে। কৃষকরা তাদের কৃষি বর্জ্য বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় করতে পারবেন। গ্রামীণ উদ্যোক্তা ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলো বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করে ব্যবসায়িক সুযোগ পাবে।

আরও দেখুনঃ আরও অপ্রতিরোধ্য ভারত! ওড়িশা থেকে অগ্নি-৪ র সফল পরীক্ষায় কাঁপছে শত্রুপক্ষ

ভারত বর্তমানে প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় অর্ধেক আমদানি করে। (GOBARdhan)আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে আমদানি নির্ভরতা কমানো জরুরি। গোবর্ধন প্রকল্প দেশীয় পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদন বাড়িয়ে এই নির্ভরতা কমাবে। কৃষি বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলার পরিবর্তে তা জ্বালানিতে রূপান্তরিত হলে পরিবেশও রক্ষা পাবে।

Advertisements