ওয়াশিংটন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় (California) একক ট্রেকিংয়ে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত গবেষক বিক্রম মুবায়ির দেহ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী দল। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সান্তা বারবারা (UCSB)-এর কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পিএইচডি ছাত্র বিক্রম ১ আগস্ট বিগ পাইন লেকস এলাকায় ট্রেকিংয়ে গিয়েছিলেন। এরপর পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দু’দিনের তল্লাশির পর ৩ আগস্ট ইনিও ন্যাশনাল ফরেস্টের বিগ পাইন লেকস থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ১ আগস্ট সন্ধ্যায় বিক্রম শেষবার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় কোনও খবর না পাওয়ায় পরিবার উদ্বেগ প্রকাশ করে। বিষয়টি জানানো হলে Inyo County Search & Rescue-এর নেতৃত্বে ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান শুরু হয়।
তল্লাশির এক পর্যায়ে উদ্ধারকারী দল বিগ পাইন লেকস এলাকা থেকে বিক্রমের দেহ উদ্ধার করে। তবে কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে কোনও ধরনের অপরাধমূলক ঘটনার ইঙ্গিত মেলেনি।
বিক্রম মুবায়ির পরিবার জানিয়েছে, তিনি হংকংয়ে জন্মগ্রহণ ও বেড়ে ওঠেন। ট্রেকিংয়ের প্রতি তাঁর দীর্ঘদিনের আগ্রহ ছিল এবং তিনি একজন অভিজ্ঞ পর্বতারোহী ও হাইকার হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। সেই কারণেই প্রথমদিকে পরিবার ভেবেছিল, হয়তো কোনও দুর্গম এলাকায় আটকে পড়েছেন।
নিখোঁজ হওয়ার পর বিক্রমের ভাই বা বোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিট-এ একটি আবেদনও জানান। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, বিক্রমের উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি, ওজন ১৭০ পাউন্ড, তাঁর চুল কালো এবং তিনি ১ আগস্ট রাত ৮টা ৩০ মিনিট থেকে আর যোগাযোগ করেননি।
পোস্টে আরও জানানো হয়, বিক্রম বিগ পাইন লেকস এলাকায়, বিশেষ করে আগাসিজ কোল (Agassiz Col)-এর দিকে ট্রেক করছিলেন। তিনি রাত ৮টা ৩৭ মিনিট (PST)-এ পরিবারের কাছে শেষ অবস্থানের তথ্য পাঠিয়েছিলেন। সেই অবস্থানের স্থানাঙ্ক ছিল 37.10942° N, 118.52428° W।
পরিবারের সদস্য লিখেছিলেন, বিক্রম একজন অভিজ্ঞ ট্রেকার এবং তিনি এমন একটি অংশে পৌঁছেছিলেন, যেটি তুলনামূলকভাবে সহজ বলে মনে করা হয়। তাই নির্ধারিত সময়ে তাঁর ফিরে না আসায় পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। তাঁর গাড়িটিও ট্রেইলহেডেই দাঁড়িয়ে ছিল বলে জানানো হয়।
উদ্ধার অভিযানের পর বিক্রমের দেহ মিললেও মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় মহল এবং পরিচিতদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একক ট্রেকিং বা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযানে যাওয়ার সময় নিরাপত্তা, নিয়মিত যোগাযোগ এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক থাকার গুরুত্বও নতুন করে সামনে এসেছে।
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা
Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন
Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের
