শীঘ্রই অনুমোদন পেতে চলেছে AMCA! CCS-এর বৈঠকে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা

AMCA Project: ভারতের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী যুদ্ধবিমা8ন প্রকল্প—’অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট’ (AMCA)—এর বিষয়ে নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি (CCS) একটি বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী,…

AMCA

AMCA Project: ভারতের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী যুদ্ধবিমা8ন প্রকল্প—’অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট’ (AMCA)—এর বিষয়ে নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি (CCS) একটি বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, আসন্ন সিসিএস বৈঠকে এই প্রকল্প সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। ডিআরডিও (DRDO) এবং ফরাসি কোম্পানি সাফরান (Safran)-এর মধ্যে একটি যৌথ উদ্যোগের বিষয়ে ১৫ আগস্টের কাছাকাছি সময়ে অনুমোদন পাওয়া যেতে পারে। এই চুক্তির আওতায় এএমসিএ (AMCA)-র জন্য একটি শক্তিশালী ও উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন টার্বোফ্যান ইঞ্জিন তৈরি করা হবে।

Advertisements

প্রস্তাবিত ইঞ্জিনটি দিয়ে শুরুতে প্রায় ১২০ কিলোনিউটন (kN) থ্রাস্ট বা ধাক্কাশক্তি উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা ১৪০ কিলোনিউটন পর্যন্ত উন্নীত করার সক্ষমতাও888 এতে থাকবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই যৌথ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ভারতের অভ্যন্তরে ইঞ্জিনের নকশা ও কারিগরি সক্ষমতা জোরদার করা।

   

AMCA কী?
AMCA হলো ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের, জোড়া-ইঞ্জিনবিশিষ্ট এবং বহুমুখী কার্যক্ষমতাসম্পন্ন ‘স্টেলথ’ যুদ্ধবিমান। এটি অ্যারোনটিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (ADA) এবং DRDO-র যৌথ তত্ত্বাবধানে তৈরি করা হচ্ছে। AMCA-র লক্ষ্য কেবল একটি নতুন যুদ্ধবিমান তৈরি করাই নয়, বরং স্টেলথ বিমান, উন্নত সেন্সর, ইলেকট্রনিক যুদ্ধপদ্ধতি, নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক কার্যক্রম এবং উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন (হাই-থ্রাস্ট) ফাইটার ইঞ্জিনের মতো অত্যন্ত জটিল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতকে স্বনির্ভর করে তোলা। ২০২৬ সালে AMCA কর্মসূচিটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক AMCA-র উন্নয়ন ও উৎপাদনের জন্য নির্বাচিত ভারতীয় বেসরকারি কোম্পানিগুলোর কাছে একটি আরএফপি (RFP) জারি করেছে। প্রোটোটাইপ বা পরীক্ষামূলক সংস্করণ তৈরির জন্য প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে।

‘স্টেলথ’ বা অদৃশ্য থাকার ক্ষমতাই হলো এএমসিএ (AMCA)-র সবচেয়ে বড় শক্তি
শত্রুপক্ষের রাডারের পক্ষে শনাক্ত করা কঠিন করে তোলার লক্ষ্যেই এএমসিএ-র নকশা করা হচ্ছে। এই লক্ষ্য অর্জনে বিমানটির কাঠামো বা এয়ারফ্রেমের আকৃতি, বিভিন্ন কোণ, এয়ার ইনটেক এবং অভ্যন্তরীণ অস্ত্র বহনের ব্যবস্থার মতো বিষয়গুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এএমসিএ-র প্রধান অস্ত্র রাখার স্থানটি (ওয়েপন বে) বিমানের ভেতরেই থাকবে। এর অর্থ হলো, স্টিলথ মিশনের সময় বাইরে লাগানো কোনো অস্ত্র বহন করার প্রয়োজন হবে না। বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বাইরের অস্ত্র বিমানের রাডার সিগনেচার বাড়িয়ে দিতে পারে। এএমসিএ (AMCA)-র জন্য ডিআরডিও (DRDO) এমন সব অস্ত্রও তৈরি করছে যা বিমানের ভেতরের অস্ত্র রাখার প্রকোষ্ঠে (internal weapons bay) স্থাপন করা সম্ভব।

Advertisements

একটি বিমান, বহুমুখী অভিযান
AMCA-কে কেবল আকাশ-থেকে-আকাশে যুদ্ধের (air-to-air combat) জন্য তৈরি করা হচ্ছে না। এটি হবে একটি বহুমুখী বা মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান, যা বিভিন্ন ধরণের বিশেষায়িত অভিযান পরিচালনায় সক্ষম। ভবিষ্যতের নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধের কথা মাথায় রেখেই এর নকশা তৈরি করা হচ্ছে।

শত্রু যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে লড়াই।
শত্রুর বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকার্যকর করা
শত্রুর রাডার ও কমান্ড সেন্টারে আক্রমণ
দূরপাল্লার নিখুঁত আঘাত
স্থলভাগে আক্রমণ
সামুদ্রিক লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে অভিযান

Advertisements