রাঁচি: ঝাড়খণ্ডে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC Exam) প্রিলিমিনারি পরীক্ষার কেলেঙ্কারির তদন্ত আরও গভীরে। রাজ্যের সিআইডি (ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট) এখন ওএমআর শিট ম্যানিপুলেশন এবং নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্ত সুমন সৌরভের কাছ থেকে ওএমআর শিট ও অ্যাডমিট কার্ড উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।সিআইডি সূত্র জানিয়েছে, ১৪তম জেপিএসসি (JPSC Exam)প্রিলিমস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব ২,২০৪ জন প্রার্থীকে তাঁদের ওএমআর শিট জমা দিতে বলা হয়েছে। এই শিটগুলো বিশেষজ্ঞদের দিয়ে যাচাই করা হবে। উদ্দেশ্য হলো, কোনো শিটে কারচুপি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা। পুলিশের তদন্তে ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আরও অনেকের নাম উঠে আসছে।
আরও দেখুনঃ অগ্নি-৫ ভয়ঙ্কর দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা! ভারত মহাসাগরে জারি হল নোটাম
অভিযোগ উঠেছে যে, পরীক্ষার আগে ও পরে ওএমআর শিট নিয়ে অনিয়ম হয়েছে।এই কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পর ঝাড়খণ্ডের চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে বলছেন, বছরের পর বছর প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দিয়েও যদি কারচুপির শিকার হতে হয়, তাহলে পুরো ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে যায়। ছাত্র সংগঠনগুলো ইতিমধ্যে প্রতিবাদ শুরু করেছে।
তারা দাবি করছে, দ্রুত তদন্ত শেষ করে (JPSC Exam)দোষীদের শাস্তি দিতে হবে এবং যোগ্য প্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে চাপ বাড়ছে। বিরোধীরা সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে যে, এ ধরনের কেলেঙ্কারি প্রমাণ করে প্রশাসন কতটা দুর্বল। তবে এখনও পর্যন্ত কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বা মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের তরফে এই বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য আসেনি।
আরও দেখুনঃ বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের চক্রান্ত! এবার ভারতকে সতর্ক করলেন প্রাক্তন ব্রিটিশ মন্ত্রী
এই নীরবতা অনেককে অবাক করেছে। সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছে, যখন চাকরির মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কেলেঙ্কারি হয়, তখন বড় নেতারা কেন চুপ থাকেন।ঝাড়খণ্ডে চাকরির পরীক্ষায় কেলেঙ্কারির ঘটনা নতুন নয়। আগেও বিভিন্ন নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এবারের ঘটনা আরও বড় আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সিআইডি কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনে আরও গ্রেফতার হতে পারে। তারা ডিজিটাল প্রমাণ, কল রেকর্ড এবং আর্থিক লেনদেনও খতিয়ে দেখছেন।শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মীরা বলছেন, এ ধরনের কেলেঙ্কারি শুধু যোগ্য প্রার্থীদের ক্ষতি করে না, পুরো শিক্ষা ও নিয়োগ ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তুলে দেয়। ঝাড়খণ্ডের মতো রাজ্যে যেখানে বেকারত্বের হার উঁচু, সেখানে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া খুবই জরুরি। সরকারকে এখন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।
আরও দেখুনঃ হরিয়ানায় ২০ বছর ধরে পুরোহিতের ছদ্মবেশে স্লিপার সেল! জানাজানি হতেই গা ঢাকা ওয়াকিলের
