Yars ICBM: ৬,৭০০ কিলোমিটার পাল্লার রাশিয়ার ইয়ার্স মিসাইল পরীক্ষা, বাড়ল উত্তেজনা

মস্কো: রাশিয়া প্লেসেৎস্ক কসমোড্রোম থেকে একটি মোবাইল, সলিড-ফুয়েল আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল বা আইসিবিএম (Yars ICBM) পরীক্ষা করেছে।  পরীক্ষায় প্রশিক্ষণমূলক ওয়ারহেড বা ওয়ারহেডের প্রশিক্ষণ সংস্করণ প্রায়…

russia-yars-icbm-test-6700-km-kura-range-plesetsk

মস্কো: রাশিয়া প্লেসেৎস্ক কসমোড্রোম থেকে একটি মোবাইল, সলিড-ফুয়েল আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল বা আইসিবিএম (Yars ICBM) পরীক্ষা করেছে।  পরীক্ষায় প্রশিক্ষণমূলক ওয়ারহেড বা ওয়ারহেডের প্রশিক্ষণ সংস্করণ প্রায় ৬,৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রাশিয়ার সুদূর পূর্বের কামচাটকা অঞ্চলের কুরা টেস্ট রেঞ্জে পৌঁছয়।

Advertisements

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৮ আগস্ট স্ট্র্যাটেজিক মিসাইল ফোর্সেসের একটি মহড়ার অংশ হিসেবে এই উৎক্ষেপণ করা হয়। লক্ষ্য ছিল মিসাইল সিস্টেমের কৌশলগত, প্রযুক্তিগত এবং উড়ান-সংক্রান্ত বৈশিষ্ট্য যাচাই করা। রুশ মন্ত্রণালয়ের দাবি, নির্ধারিত সব লক্ষ্য সফলভাবে পূরণ হয়েছে।

   

দূরবর্তী এলাকা থেকে মোবাইল মিসাইল উৎক্ষেপণ

উৎক্ষেপণের আগে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক মিসাইল ফোর্স একটি মোবাইল মিসাইল-লঞ্চার ব্যাটারিকে একটি প্রত্যন্ত এলাকায় পুনর্বিন্যস্ত করে। মহড়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল মোবাইল মিসাইল সিস্টেমকে নির্দিষ্ট এলাকায় নিয়ে যাওয়া, উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত করা এবং সেখান থেকে মিসাইল ছোড়ার প্রক্রিয়া অনুশীলন করা। এরপর মিসাইলটি নির্ধারিত গতিপথ অনুসরণ করে কুরা টেস্ট রেঞ্জের দিকে উড়ে যায়।

তবে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরীক্ষায় ব্যবহৃত মিসাইলটির নির্দিষ্ট মডেলের নাম প্রকাশ করেনি। স্বাধীন পারমাণবিক অস্ত্র গবেষক পাভেল পোদভিগ উৎক্ষেপণের ভিডিও এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে মিসাইলটিকে আরএস-২৪ ইয়ার্স বলে শনাক্ত করেছেন। পোদভিগের মতে, মিসাইলটি একটি ক্রোনা শেল্টার থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। ২০২৬ সালের মে মাসে প্লেসেৎস্ক থেকে ইয়ার্স উৎক্ষেপণের সময়ও একই ধরনের শেল্টার ব্যবহারের কথা জানা গিয়েছিল।

Advertisements

আরএস-২৪ ইয়ার্স কী?

আরএস-২৪ ইয়ার্স রাশিয়ার তৈরি একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল বা আইসিবিএম। এটি দেশটির স্থলভিত্তিক কৌশলগত পারমাণবিক শক্তিকে আধুনিকীকরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইয়ার্স একটি সলিড-ফুয়েল, তিন-ধাপের মিসাইল। এটি মোবাইল লঞ্চার এবং সাইলো, দুই ধরনের ব্যবস্থাতেই মোতায়েন করা যায়।

এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে সক্ষম মোবাইল লঞ্চার। ফলে মিসাইলটি কোনও নির্দিষ্ট স্থায়ী উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে মোতায়েন করা সম্ভব। এতে প্রতিপক্ষের পক্ষে মিসাইলের অবস্থান শনাক্ত করা এবং উৎক্ষেপণের আগেই সেটিকে ধ্বংস করা আরও কঠিন হয়ে ওঠে।

এক মিসাইলে একাধিক ওয়ারহেড

ইয়ার্স একাধিক স্বাধীনভাবে লক্ষ্য নির্ধারণযোগ্য রিএন্ট্রি ভেহিকল বা এমআইআরভি বহনে সক্ষম বলে ওপেন-সোর্স মূল্যায়নগুলোতে উল্লেখ করা হয়৷ এর অর্থ, একটি মিসাইল থেকে পৃথক ওয়ারহেড বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর দিকে পাঠানো সম্ভব হতে পারে। ওপেন-সোর্স মূল্যায়নে ইয়ার্সের পাল্লা সাধারণত ১০,০০০ কিলোমিটারের বেশি বলে ধরা হয়। তবে রাশিয়া তার কার্যকরী কনফিগারেশন এবং সব প্রযুক্তিগত তথ্য প্রকাশ্যে জানায় না।

মিসাইলটি ২০১০ সালে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক মিসাইল ফোর্সেসে অন্তর্ভুক্ত হয়। এর মাধ্যমে পুরনো সোভিয়েত আমলের আরএস-১২এম তোপোল-এর মতো সিস্টেমকে ধীরে ধীরে প্রতিস্থাপন করা শুরু হয়। বর্তমানে ইয়ার্স রাশিয়ার আধুনিক স্থলভিত্তিক কৌশলগত পারমাণবিক শক্তির অন্যতম প্রধান উপাদান।

মোবাইল লঞ্চার কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

ইয়ার্সের মোবাইল সংস্করণের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এর সারভাইভেবিলিটি বা টিকে থাকার সক্ষমতা। মোবাইল লঞ্চার স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি থেকে সরে গিয়ে বিভিন্ন প্রস্তুত ফিল্ড পজিশনে মোতায়েন হতে পারে। ফলে প্রতিপক্ষের গোয়েন্দা নজরদারি ব্যবস্থার পক্ষে নির্দিষ্ট সময়ে মিসাইলটির সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে যায়। এই কারণেই মোবাইল আইসিবিএম রাশিয়ার পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সাম্প্রতিক পরীক্ষাটি শুধু মিসাইলের উড়ানক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য নয়, বরং মোবাইল ইউনিটকে দ্রুত পুনর্বিন্যস্ত করে প্রত্যন্ত এলাকা থেকে কৌশলগত মিসাইল উৎক্ষেপণের সক্ষমতাও অনুশীলন করেছে। ৬,৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে প্রশিক্ষণমূলক ওয়ারহেড পাঠানোর এই পরীক্ষা তাই রাশিয়ার কৌশলগত মিসাইল বাহিনীর প্রস্তুতি এবং মোবাইল পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার সক্ষমতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব তুলে ধরে।

আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯

আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ

আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন

Advertisements