নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদে রাশিয়ার জোরাল সমর্থন

রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (UN Security Council) ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিতে ফের জোরালো সমর্থন জানাল রাশিয়া। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ নিরাপত্তা পরিষদে…

russia-supports-india-permanent-un-security-council-seat-lavrov-2026

রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (UN Security Council) ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিতে ফের জোরালো সমর্থন জানাল রাশিয়া। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ নিরাপত্তা পরিষদে ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশকে স্থায়ী সদস্য হিসেবে যুক্ত করার পক্ষে অবস্থান নেন। একইসঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলির আরও স্থায়ী আসন দেওয়ার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন তিনি।

Advertisements

রাশিয়ার এই অবস্থান নতুন নয়। মস্কো দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছে এবং ভারত ও ব্রাজিলকে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেওয়ার পক্ষে সমর্থন জানিয়ে আসছে। ২০২৬ সালের নিউ দিল্লি ব্রিকস ঘোষণাতেও চিন ও রাশিয়া ভারত ও ব্রাজিলের রাষ্ট্রসংঘে, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদে, আরও বড় ভূমিকার আকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

   

ভারত ও ব্রাজিলকে সমর্থন, পশ্চিমা দেশ নিয়ে আপত্তি

লাভরভের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামো পরিবর্তন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন স্থায়ী সদস্য যুক্ত করার ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল ও উদীয়মান দেশগুলিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। রাশিয়া বিশেষভাবে ভারত ও ব্রাজিলের দাবিকে সমর্থন করে আসছে। মস্কোর যুক্তি, বর্তমান আন্তর্জাতিক কাঠামোয় এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

বর্তমানে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মোট ১৫টি সদস্য দেশ রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য হল চিন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র। বাকি ১০টি আসন অস্থায়ী এবং সাধারণ পরিষদের ভোটে নির্বাচিত সদস্যরা দুই বছরের জন্য এই দায়িত্ব পান। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। জার্মানি ও জাপানের সঙ্গেও ভারত জি-৪ গোষ্ঠীর অংশ। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ ভারত, ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপানের বিদেশমন্ত্রীরা নিউইয়র্কে বৈঠক করে নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পুনরায় তুলে ধরেন।

Advertisements

ব্রিকস ঘোষণাতেও ভারতের দাবিতে সমর্থন

ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবির ক্ষেত্রে ব্রিকস মঞ্চও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নিউ দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের ঘোষণায় রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে আরও গণতান্ত্রিক, প্রতিনিধিত্বশীল ও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়। ওই ঘোষণায় উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে চিন ও রাশিয়া ভারত এবং ব্রাজিলের রাষ্ট্রসংঘে আরও বড় ভূমিকা পালনের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। এর ফলে নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে ভারতের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ব্রিকসের সমর্থন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও পশ্চিমের সমালোচনা

সাধারণ পরিষদের বক্তব্যে লাভরভ ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও পশ্চিমা দেশগুলির তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমা দেশগুলি ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে সহায়তা করছে। লাভরভ আরও অভিযোগ করেন, ইউরোপ রাশিয়ার প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে ইউক্রেনের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করেছে। তিনি পশ্চিমা দেশগুলির রাশিয়াকে নিয়ন্ত্রণের নীতির সমালোচনা করে সতর্কবার্তাও দেন।

তাঁর বক্তব্যে ইউক্রেনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের অভিযোগও উঠে আসে। লাভরভ পশ্চিমা দেশগুলির বিরুদ্ধে ইউক্রেনে রাশিয়াবিরোধী মনোভাবকে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগ করেন। তবে ইউক্রেনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং যুদ্ধের জন্য দায় নিয়ে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলির বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। ফলে লাভরভের এই মন্তব্যকে রাশিয়ার সরকারি অবস্থান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

শান্তি আলোচনা নিয়ে রাশিয়ার অভিযোগ

লাভরভের বক্তব্যে ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিষয়টিও উঠে আসে। তাঁর দাবি, ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে বাধা তৈরি করছে এবং আলোচনার সম্ভাবনাকে দুর্বল করছে। তিনি এমন একটি রাজনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন, যেখানে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। একইসঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলির নীতির কারণে ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো দুর্বল হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।

নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের আলোচনা আরও জোরালো

ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক দেশের সমর্থন সামনে এসেছে। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া এবং চেক প্রজাতন্ত্রও ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিতে সমর্থন জানিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামো পরিবর্তনের জন্য শুধু কয়েকটি দেশের সমর্থন যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্রসংঘের সংস্কার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃসরকারি আলোচনা চলছে এবং স্থায়ী সদস্যপদ, ভেটো ক্ষমতা ও আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

ফলে ভারতের দাবির পক্ষে রাশিয়া ও ব্রিকসের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান হলেও, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদে পরিবর্তন আনতে আরও বিস্তৃত আন্তর্জাতিক ঐকমত্য প্রয়োজন হবে। বর্তমানে পাঁচ স্থায়ী সদস্যের কাঠামোই বহাল রয়েছে।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories — On Kolkata24x7 Business.

Advertisements