কলকাতা: ভারতের বাজারে নতুন ডাস্টারের পাওয়ারট্রেনের তালিকা আরও বড় করতে চলেছে রেনো (Renault Duster)। আগামী ১৭ অক্টোবর ডাস্টারের স্ট্রং-হাইব্রিড ভার্সন বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে ফরাসি গাড়ি নির্মাতা সংস্থাটি। নতুন হাইব্রিড মডেলটি ডাস্টারের তৃতীয় পাওয়ারট্রেন অপশন হবে। বর্তমানে এসইউভিটিতে ১.০ লিটার এবং ১.৩ লিটার টার্বো-পেট্রল ইঞ্জিনের বিকল্প রয়েছে।
রেনো নতুন হাইব্রিড প্রযুক্তির নাম দিয়েছে ই-টেক। সংস্থার দাবি, এই প্রযুক্তির উন্নয়নে তাদের ফর্মুলা ওয়ান অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান কাজে লাগানো হয়েছে। নতুন প্রজন্মের ডাস্টার লঞ্চের সময়ই রেনো জানিয়েছিল, পরবর্তীতে গাড়িতে হাইব্রিড পাওয়ারট্রেন যুক্ত করা হবে।
দুই ইলেকট্রিক মোটরের সঙ্গে ১.৮ লিটার পেট্রল ইঞ্জিন
ডাস্টার ই-টেক হাইব্রিডে থাকছে ১.৮ লিটারের ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড চার সিলিন্ডার পেট্রল ইঞ্জিন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুটি ইলেকট্রিক মোটর। প্রথম ইলেকট্রিক মোটরটি ২০ হর্সপাওয়ার শক্তি উৎপন্ন করবে এবং মূলত জেনারেটর হিসেবে কাজ করবে। দ্বিতীয় মোটরটি ৪৯ হর্সপাওয়ার শক্তি তৈরি করবে এবং গাড়ির চাকায় সরাসরি শক্তি সরবরাহ করবে। দুটি মোটর এবং পেট্রল ইঞ্জিনের সমন্বয়ে হাইব্রিড সিস্টেমটি সর্বোচ্চ ১৬০ হর্সপাওয়ার শক্তি এবং ১৭২ এনএম টর্ক তৈরি করবে। এই পাওয়ারট্রেনের সঙ্গে ১.৪ কিলোওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি প্যাক থাকবে।
টয়োটার হাইব্রিড প্রযুক্তির থেকে আলাদা
ডাস্টারে ব্যবহৃত রেনোর ই-টেক হাইব্রিড সিস্টেমটি মারুতি সুজুকি গ্র্যান্ড ভিটারা, মারুতি সুজুকি ভিক্টোরিস এবং টয়োটা আরবান ক্রুজার হাইরাইডারে ব্যবহৃত হাইব্রিড প্রযুক্তির থেকে আলাদা। টয়োটা তাদের হাইব্রিড মডেলগুলিতে ই-সিভিটি এবং পাওয়ার-স্প্লিট মেকানিজম ব্যবহার করে। এর ফলে গাড়ি সাধারণত ধারাবাহিক এবং মসৃণভাবে গতি বাড়াতে পারে। রেনো ডাস্টারে ব্যবহার করছে মাল্টি-মোড অটোমেটিক ট্রান্সমিশন। এতে ফিক্সড গিয়ার রেশিও রয়েছে। ফলে ডাস্টারের ইঞ্জিনের গতি একটি প্রচলিত অটোমেটিক গাড়ির মতো ওঠানামা করতে পারে। পাওয়ারট্রেন কখনও শুধু ইলেকট্রিক মোটরের মাধ্যমে, কখনও পেট্রল ইঞ্জিনের মাধ্যমে এবং কখনও দুটির সম্মিলিত শক্তিতে গাড়ি চালাবে। সেই অনুযায়ী গিয়ার পরিবর্তনও অনুভূত হতে পারে।
টয়োটার তুলনায় বড় ব্যাটারি
ব্যাটারি ক্ষমতার দিক থেকেও রেনোর ডাস্টার হাইব্রিড আলাদা। ডাস্টারে ১.৪ কিলোওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি প্যাক থাকছে। অন্যদিকে টয়োটার সংশ্লিষ্ট হাইব্রিড মডেলগুলিতে ০.৬০ কিলোওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। ফুল-হাইব্রিড গাড়ির অন্যতম সুবিধা হল কম গতিতে ইলেকট্রিক শক্তির ব্যবহার। বিশেষ করে শহরের ট্রাফিকের মধ্যে গাড়ি চলার সময় পেট্রল ইঞ্জিন সবসময় চালু রাখার প্রয়োজন হয় না। ডাস্টারের হাইব্রিড সিস্টেম ব্রেক করার সময় শক্তি পুনরুদ্ধার করবে। রিজেনারেটিভ ব্রেকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাটারিতে শক্তি সঞ্চয় করা যাবে। পাশাপাশি উপযুক্ত পরিস্থিতিতে পেট্রল ইঞ্জিন বন্ধও হয়ে যাবে।
শহরে ৮০ শতাংশ সময় ইভি মোডে চলার দাবি
ডাস্টার ই-টেক হাইব্রিড নিয়ে রেনো দাবি করেছে, শহরের ৮০ শতাংশ ড্রাইভিং ইভি মোডে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তবে বাস্তবে গাড়ির জ্বালানি সাশ্রয়ের পরিমাণ বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করবে। ট্রাফিকের অবস্থা, গাড়ির গতি, আবহাওয়া ও তাপমাত্রা এবং চালকের ড্রাইভিংয়ের ধরন জ্বালানি দক্ষতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই রেনোর দাবি করা ইভি মোড ব্যবহারের হারকে সরাসরি বাস্তব জ্বালানি খরচের সমান হিসেবে দেখা যাবে না।
ডিজেল ইঞ্জিনের বিকল্প হবে হাইব্রিড
নতুন প্রজন্মের ডাস্টারে ডিজেল ইঞ্জিনের বিকল্প নেই। সেই জায়গায় স্ট্রং-হাইব্রিড পাওয়ারট্রেনটি ক্রেতাদের জন্য একটি নতুন বিকল্প তৈরি করবে। ভারতে ডাস্টার ই-টেক হাইব্রিড বাজারে আসার পর গাড়িটিকে মূলত স্ট্রং-হাইব্রিড প্রযুক্তি ব্যবহার করা মিডসাইজ এসইউভিগুলির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে। এই তালিকায় রয়েছে মারুতি সুজুকি গ্র্যান্ড ভিটারা, মারুতি সুজুকি ভিক্টোরিস এবং টয়োটা আরবান ক্রুজার হাইরাইডার।
হাইব্রিড সংস্করণ যুক্ত হলে ভারতের বাজারে রেনো ডাস্টারে মোট তিনটি পাওয়ারট্রেন বিকল্প পাওয়া যাবে। ফলে পেট্রল ইঞ্জিনের পাশাপাশি যারা বেশি বৈদ্যুতিক সহায়তা এবং শহরের ট্রাফিকে তুলনামূলক কম জ্বালানি ব্যবহারের প্রযুক্তি চান, তাদের জন্যও ডাস্টারে নতুন একটি বিকল্প তৈরি হবে।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories — On Kolkata24x7 Business.
