পাকিস্তানের এয়ার স্ট্রাইকে ফের রক্তাক্ত আফগানিস্তান! নিহত ৩

কাবুল: আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কুনার প্রদেশে পাকিস্তানের (Pakistan Airstrike)বিমান হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রাদেশিক কর্মকর্তার সূত্রে টলো নিউজ সোমবার এই খবর দিয়েছে। হামলায় আরও…

pakistan-airstrike-afghanistan-kunar

কাবুল: আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কুনার প্রদেশে পাকিস্তানের (Pakistan Airstrike)বিমান হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রাদেশিক কর্মকর্তার সূত্রে টলো নিউজ সোমবার এই খবর দিয়েছে। হামলায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Advertisements

কুনার প্রদেশের এই হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।(Pakistan Airstrike) পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলো আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অনেকেই নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা শোকে বিহ্বল। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।

   

আরও দেখুনঃ মার্কিন সফর বাতিল নেতানিয়াহুর! IRGC কে প্রস্তুত হতে নির্দেশ ইরানের

এই হামলার মাত্র দু’দিন আগে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি পুলিশ স্থাপনায় হামলা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও সংকটপূর্ণ হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে বছরের সবচেয়ে বড় সংঘাত হয়েছিল। সেই সংঘাতের স্মৃতি এখনও তাজা। ফলে নতুন এই ঘটনা পুরনো ক্ষতকে আবার জাগিয়ে তুলতে পারে বলে কূটনীতিকরা মনে করছেন।

Advertisements

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ।(Pakistan Airstrike) দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক অভিযোগের ইতিহাস পুরনো। পাকিস্তান প্রায়ই অভিযোগ করে যে তাদের ভূখণ্ডে হামলার পরিকল্পনা আফগান মাটি থেকে হয়। অন্যদিকে আফগানিস্তান দাবি করে যে পাকিস্তানের হামলা তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে। এই পারস্পরিক অবিশ্বাসের জেরে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।

সীমান্তের দুই পাশের গ্রামগুলোতে বসবাসকারী পরিবারগুলো নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটান।কুনার প্রদেশের ভৌগোলিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। (Pakistan Airstrike)পাহাড় ও দুর্গম এলাকায় অবস্থিত এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। স্থানীয় অর্থনীতি মূলত কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। হামলার মতো ঘটনা ঘটলে মানুষের জীবিকাও ব্যাহত হয়। শিশুদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়, ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রাখেন এবং পরিবারগুলো নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার কথা ভাবেন।

আন্তর্জাতিক মহলও এই ঘটনার দিকে নজর রাখছে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন সময়ে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে স্থায়ী শান্তি এখনও অনেক দূরে। ফেব্রুয়ারির সংঘাতের পর কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছিল বলে মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু নতুন এই হামলা সেই স্থিতিশীলতাকে আবার প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

কাবুল থেকে পাওয়া খবরে বলা হয়েছে, প্রাদেশিক কর্মকর্তারা ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের কথা জানিয়েছেন। নিহত ও আহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলছে। স্থানীয় মানুষ আশা করছেন, পরিস্থিতি যেন আরও খারাপের দিকে না যায়। তাঁরা চান দুই দেশের নেতারা কূটনৈতিক পথে সমস্যার সমাধান খুঁজুন। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা যেন সংঘাতের শিকার না হয়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

Advertisements