কোয়েটা: পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ফের শুরু হয়েছে গোলাগুলি।(Terror Attack) কোহাট জেলায় পুলিশ লাইনে এক ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গেজঙ্গিদের দীর্ঘ সংঘর্ষ শেষ হয়েছে। প্রায় একুশ থেকে বাইশ ঘণ্টা ধরে চলা এই অভিযানে আটজন জঙ্গি নিহত হয়েছে। হামলায় নিহতের সংখ্যা তেইশ থেকে একত্রিশের মধ্যে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। আহত হয়েছেন একশোরও বেশি মানুষ।
কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্টের অতিরিক্ত আইজি আহত হয়েছেন। (Terror Attack)শুক্রবার দুপুর পৌনে দুটোর দিকে কোহাটের পুরনো পুলিশ লাইনের মসজিদে জুম্মার নামাজের সময় আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। বিস্ফোরণের পর সশস্ত্র জঙ্গিরা পুলিশ লাইনের ভেতরে ঢুকে স্পেশাল ব্রাঞ্চ ও সিটিডি ভবনে আক্রমণ চালায়। পাকিস্তান সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সিটিডির যৌথ অভিযান শুরু হয়।
আরও দেখুনঃ আমেরিকান কর্মী ছাঁটাই করলেই বিপাক! এইচ-১বি ভিসা নীতিতে বড় পদক্ষেপ ট্রাম্পের
রাতভর চলা গোলাগুলির পর শনিবার সকালে এলাকা পরিষ্কার করা হয়।প্রাথমিক হিসাবে একুশজন শহীদ হন, যাদের মধ্যে পনেরো জন পুলিশ কর্মী এবং ছয়জন বেসামরিক নাগরিক। পরে আহতদের মধ্যে কয়েকজন মারা যাওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে যায়। আহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য ও সাধারণ মানুষ রয়েছেন। তাঁদের কোহাট ও পেশোয়ারের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সিটিডির অতিরিক্ত আইজি জাভেদ কামার অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে গ্রেনেডের আঘাতে আহত হন।হামলার দায় স্বীকার করেছে ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন নামের একটি স্থানীয় জঙ্গি গোষ্ঠী, যা তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। (Terror Attack)পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী হামলার নিন্দা করেছেন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন।
কোহাট পুলিশ লাইন একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্থাপনা। সেখানে সিটিডি ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের অফিস রয়েছে। হামলায় মসজিদের দেয়াল ধসে পড়ে এবং ভবনের অনেক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শহীদ পুলিশ কর্মীদের শেষকৃত্য শুক্রবার সন্ধ্যায় সম্পন্ন হয় এবং তাঁদের দেহ নিজ নিজ এলাকায় পাঠানো হয়।
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জঙ্গি হামলার ঘটনা নতুন নয়। আফগানিস্তান সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় এ ধরনের আক্রমণ বারবার ঘটেছে। নিরাপত্তা বাহিনী বলছে, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিলেও পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
