কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার আবহে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) নিয়ে বড় কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিল ইরান। দেশটির দাবি, ওমানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির খসড়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই চুক্তি নিয়ে চলতি সপ্তাহেই ঘোষণা আসতে পারে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হয়েছে। নতুন চুক্তি কার্যকর হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে চুক্তির পথে এখনও বড় বাধা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের শর্ত অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নিতে হবে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন আগেই জানিয়েছে, এমন কোনও চুক্তি তারা মেনে নেবে না যেখানে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয় বা আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিয়ম বদলে যায়।
ইরানও স্পষ্ট জানিয়েছে, যুদ্ধের আগের মতো হরমুজকে পুরোপুরি উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে ফিরিয়ে দিতে তারা রাজি নয়। দেশটি অন্তত কিছু মাত্রায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, ওমানের সঙ্গে আলোচনার খসড়া এখন শেষ পর্যায়ে। তিনি বলেন, “যদি কোনও পক্ষ এই প্রক্রিয়ায় বাধা না দেয়, তাহলে খুব শিগগিরই যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হবে।” তাঁর এই মন্তব্যকে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
এদিকে, আলোচনার সঙ্গে যুক্ত দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP)-কে জানিয়েছেন, ইরান ও ওমান ইতিমধ্যেই খসড়া চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। এখন শুধু ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ মোজতবা খামেনেই-এর অনুমোদনের অপেক্ষা রয়েছে। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
সূত্রগুলোর দাবি, সম্ভাব্য এই চুক্তি স্থায়ী সমাধান নয়, বরং একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করার পথও খুলে যেতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আলোচনায় এমন একটি প্রস্তাব রয়েছে যেখানে পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজ ইরান-নিয়ন্ত্রিত রুট ব্যবহার করবে এবং বের হওয়ার সময় ওমান-নিয়ন্ত্রিত রুট দিয়ে চলবে। নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষার জন্য নির্দিষ্ট পরিষেবা ফিও ধার্য হতে পারে। যদিও এই ধরনের কোনও ব্যবস্থার বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “এটি হতে পারে। আগামীকাল বা তার পরের দিনও ঘোষণা আসতে পারে। অনেক অগ্রগতি হয়েছে।” তাঁর এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে কিছুটা ওঠানামা দেখা যায়। তবে বুধবার ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল প্রায় ৮০ ডলারে লেনদেন হয়েছে, যা যুদ্ধের শীর্ষ পর্যায়ের দামের তুলনায় কম।
অন্যদিকে, আঞ্চলিক উত্তেজনা এখনও অব্যাহত রয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তারা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের একটি তেলবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। যদিও এই দাবির পক্ষে তারা কোনও প্রমাণ দেয়নি এবং সৌদি আরবও তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।
এছাড়া ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, ইয়েমেন উপকূলের কাছে এডেন উপসাগরে একটি জাহাজের কাছাকাছি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে জাহাজের সব নাবিক নিরাপদ রয়েছেন।
একই সময়ে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলেও উত্তেজনা বেড়েছে। ইজরায়েল দক্ষিণ লেবাননের একটি গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে পরে সেখানে “নির্দিষ্ট হামলা” চালানোর কথা জানিয়েছে। এর ফলে ইজরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলা নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালী নিয়ে সম্ভাব্য চুক্তির ইঙ্গিত বিশ্ববাজারে কিছুটা আশার সঞ্চার করলেও, মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত অস্থিরই রয়ে গেছে।
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা
Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন
Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের
