কলকাতা: শহর কলকাতার (Kolkata) ৫৩ বছরের ঐতিহ্যবাহী নেহরু চিলড্রেন্স মিউজিয়াম আপাতত বন্ধ হচ্ছে না। রাজ্য সরকার এই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানটি চালু রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। বুধবার রাজ্য সচিবালয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্তের সঙ্গে বৈঠকের পর এই তথ্য জানান মিউজিয়ামের পরিচালক সুদীপ শ্রীমল।
কয়েকদিন আগেই অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিকীকরণের জন্য প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ের সামর্থ্য না থাকায় মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ ১৬ অগাস্ট থেকে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় ৯০০ শিশুর নাচ, আঁকা, আবৃত্তি ও নাটকের ক্লাসও স্থগিত রাখা হয়েছিল।
পরিচালক সুদীপ শ্রীমল জানান, মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর দফতর (CMO) থেকে তাঁকে ফোন করে সচিবালয়ে বৈঠকের জন্য ডাকা হয়। বুধবারের বৈঠকে সুব্রত গুপ্ত স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নেহরু চিলড্রেন্স মিউজিয়াম বাংলার ঐতিহ্যের অংশ, তাই এটি কোনওভাবেই বন্ধ হতে দেওয়া হবে না।
Also Read | বিধানসভার ইতিহাসে প্রথম! সাসপেন্ড মার্শাল দেবব্রত মুখোপাধ্যায়
তবে রাজ্য সরকার মিউজিয়ামটির দায়িত্ব সরাসরি গ্রহণ করবে না বলেও জানানো হয়েছে। পরিবর্তে এতদিন যেভাবে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়েছে, সেভাবেই চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক ও প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সুদীপ শ্রীমলের দাবি, বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা দমকল ও জরুরি পরিষেবা দফতরের মহাপরিচালককে ফোন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত উন্নয়নের খরচও রাজ্য সরকার বহন করবে বলে তাঁদের জানানো হয়েছে।
সরকারের এই আশ্বাসের পর মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৬ অগাস্ট থেকে আর মিউজিয়াম বন্ধ করা হবে না। পাশাপাশি আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে শিশুদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণমূলক ক্লাসও পুনরায় শুরু হবে।
Also Read | মমতা সামনে ১৮০০০ কোটির রেশন দুর্নীতি! তদন্তে উঠে আসছে ভয়ঙ্কর তথ্য
বৈঠকে মিউজিয়ামকে আরও আধুনিক করে তোলার পরামর্শও দেন সুব্রত গুপ্ত। বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশমূল্য ২০ টাকা, শিশুদের জন্য ১০ টাকা এবং স্কুলের মাধ্যমে এলে ৫ টাকা। এই টিকিটের মূল্য অত্যন্ত কম বলে মন্তব্য করে ভবিষ্যতে তা বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।
এছাড়া মিউজিয়ামে একটি ক্যাফেটেরিয়া চালু করা, পরিচালন কমিটিতে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা এবং কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) তহবিলের মাধ্যমে আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সুব্রত গুপ্ত এই ধরনের অর্থ সংগ্রহে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান পরিচালক।
এর আগে সরকারকে পাঠানো চিঠিতে সুদীপ শ্রীমল মিউজিয়ামের একটি তলা উত্তম কুমারের নামে, আরেকটি অনুপম খেরের প্রশিক্ষণ একাডেমির জন্য এবং আরেকটি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান তুলে ধরার জন্য উৎসর্গ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পাশাপাশি মিউজিয়ামের নাম পরিবর্তনেরও প্রস্তাব ছিল। তবে সুব্রত গুপ্ত স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নেহরু চিলড্রেন্স মিউজিয়ামের নাম অপরিবর্তিত থাকবে, কারণ এটি একটি ঐতিহাসিক ও আইকনিক প্রতিষ্ঠান।
উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালের ১৪ নভেম্বর জাতীয় সাংস্কৃতিক সংস্থা (National Cultural Association) পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠা করে। প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক যুগল শ্রীমলের পরিকল্পনায় গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটিতে মাটির শিল্পে নির্মিত রামায়ণ ও মহাভারতের কাহিনি, ৩০০-র বেশি গণেশ মূর্তি এবং ৯৬টি দেশের ১,১০০-রও বেশি পোশাক পরিহিত পুতুলের সংগ্রহ রয়েছে। এছাড়া বর্তমানে প্রায় ৯০০ শিশু এখানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে এবং ২৬৫ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুকে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হয়।
