BrahMos vs HQ-17AE: পাকিস্তান প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে একটি চিনা-নির্মিত স্বল্প-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রদর্শন করেছে। চিনা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভবিষ্যতে কোনো সংঘাতের সময় ভারতীয় ড্রোন ও কম উচ্চতা থেকে আসা হুমকি মোকাবিলায় দেশটির সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে। গত বছর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ভারতীয় সেনাবাহিনী একটি ড্রোন ব্যবহার করে পাকিস্তানের লাহোর-ভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছিল। এছাড়া, অবশিষ্ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে বাধা দিতে ব্যর্থ হয়।
পাকিস্তান বিমান বাহিনী (PAF) রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিওর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করেছে যে, তারা HQ-17AE স্বল্প-পাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা (SHORAD) ব্যবস্থা পরিচালনা করছে। HQ-17AE হলো চিনের HQ-17A বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রপ্তানি-সংস্করণ। HQ-17A মূলত HQ-17-এর একটি চাকাযুক্ত সংস্করণ, যা রাশিয়ার Tor-M1 ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল।
HQ-17A প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকর পাল্লা কত?
- HQ-17AE-এর কার্যকর পাল্লা ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত এবং এটি ১০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করতে সক্ষম।
- এটি কম উচ্চতা ও স্বল্প পাল্লার হুমকি—যেমন চালকবিহীন আকাশযান (UAV), হেলিকপ্টার, ক্রুজ মিসাইল, নির্দেশিত অস্ত্র এবং বিমান—মোকাবিলা করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
- চিন দাবি করছে যে এটি ক্রুজ মিসাইল ভূপাতিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে; ফলে, এটি ব্রহ্মোস মিসাইলকে বাধা দিতে সক্ষম হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
- এই ব্যবস্থাটি সৌদি আরব, সার্বিয়া এবং তাজিকিস্তানেও রপ্তানি করা হয়েছে। এই ঘোষণার মাধ্যমে পাকিস্তান চতুর্থ বিদেশি দেশ হিসেবে চিন-নির্মিত এই ব্যবস্থাটি ব্যবহারকারী রাষ্ট্রে পরিণত হলো।
- HQ-17AE ছাড়াও পাকিস্তানের প্রদর্শিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে ছিল চিনের তৈরি HQ-9P দূরপাল্লার সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম, তুরস্কের তৈরি ‘কোরকুট’ (Korkut) স্বয়ংক্রিয় বিমান-বিধ্বংসী কামান এবং ‘শাহিন’ (Shahin) কাউন্টার-ইউএভি (ড্রোন-বিধ্বংসী) ব্যবস্থা।\
- পাকিস্তান ভারতের মতোই এই ব্যবস্থাগুলো ব্যবহার করে একটি বহু-স্তরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে, যা ড্রোন ঝাঁকসহ বিভিন্ন আধুনিক আকাশ-হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম।
