ওয়াশিংটন: মার্কিন নৌসেনার (US Navy) পরবর্তী প্রজন্মের স্টেলথ ফাইটার তৈরির দায়িত্ব কোন সংস্থা পাবে, সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পেন্টাগন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই, এমনকি তারও আগে বিজয়ী সংস্থার নাম ঘোষণা হতে পারে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত দুই ব্যক্তি।
এই বিশাল প্রতিরক্ষা চুক্তির জন্য মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বোয়িং এবং নর্থরপ গ্রুম্যান। একই ধরনের বড় প্রতিরক্ষা কর্মসূচির নজির অনুযায়ী, চুক্তিটির পুরো মেয়াদে মূল্য কয়েক হাজার কোটি ডলার হতে পারে।
F/A-XX প্রকল্পে বহু বছরের দেরি
মার্কিন নৌসেনার এই নতুন যুদ্ধবিমান প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক নাম এখনও নির্ধারিত হয়নি। বর্তমানে এটিকে F/A-XX নামে চিহ্নিত করা হচ্ছে। প্রকল্পটি গত কয়েক বছর ধরে অর্থ বরাদ্দ এবং উন্নয়নের সময়সীমা নিয়ে একাধিক সমস্যার মুখে পড়েছে। পেন্টাগনের কিছু আধিকারিক ইঞ্জিনিয়ারিং সক্ষমতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উপর চাপের কথা তুলে প্রকল্পটি তিন বছর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে মার্কিন কংগ্রেস সেই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে। ২০২৫ সালে পাস হওয়া বড় করছাড় ও সরকারি ব্যয় সংক্রান্ত আইনে F/A-XX-এর জন্য ৭৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়। এরপর ২০২৬ অর্থবর্ষে আরও ১.৪ বিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছে। পেন্টাগনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, F/A-XX-এর চুক্তি দ্রুত দেওয়ার কাজ চলছে। তবে এই মুহূর্তে এর বেশি কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আরও পড়ুন: আনসারুল্লাহর হামলায় দক্ষিণ সৌদিতে ৭৩ জন আহত! জানাল সৌদি জোট
চিনের সঙ্গে পাল্লায় বড় পরীক্ষা
F/A-XX প্রকল্পের গুরুত্ব আরও বেড়েছে চিন দ্রুত নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরি ও মোতায়েন করায়। চিন ইতিমধ্যেই উন্নত কমব্যাট এয়ারক্রাফট তৈরি করছে এবং বেজিং নিজস্ব কিছু বিমানকে ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান হিসেবে বর্ণনা করছে। এই পরিস্থিতিতে F/A-XX প্রকল্পে আরও দেরি হলে মার্কিন নৌসেনার জন্য সমস্যা তৈরি হতে পারে। কারণ ২০৩০-এর দশক এবং তার পরবর্তী সময়ে বিমানবাহী রণতরী থেকে দূরবর্তী ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এলাকায় বিমান শক্তি প্রয়োগের জন্য নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রয়োজন। এক মার্কিন আধিকারিকের মতে, প্রকল্পে দীর্ঘসূত্রতা হলে কঠিন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন নৌসেনার পাওয়ার প্রজেকশন ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আরও পড়ুন: যতদিন বেঁচে থাকব জিহাদের পথে থাকব! ভারতকে হুমকি জঙ্গি হাফিজ সাঈদ পুত্র তালহার
F/A-18 Super Hornet-এর উত্তরসূরি
নতুন F/A-XX হবে মার্কিন নৌসেনার নেক্সট জেনারেশন এয়ার ডমিন্যান্স বা এনজিএডি পরিবারের অন্যতম প্রধান উপাদান। এর মূল লক্ষ্য হল পুরনো হয়ে আসা F/A-18E/F সুপার হর্নেট-এর জায়গা নেওয়া। সুপার হর্নেট ১৯৯০-এর দশক থেকে মার্কিন নৌসেনার গুরুত্বপূর্ণ ক্যারিয়ার-ভিত্তিক যুদ্ধবিমান হিসেবে কাজ করছে। তবে নতুন বিমান পরিষেবায় ঢোকার পরেও সুপার হর্নেট রাতারাতি অবসর নেবে না। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বিমানগুলি ২০৪০-এর দশক পর্যন্ত পরিষেবায় থাকতে পারে।
কেমন হবে নতুন স্টেলথ ফাইটার?
F/A-XX-তে উন্নত স্টেলথ প্রযুক্তি, আরও বেশি পাল্লা এবং দীর্ঘক্ষণ আকাশে থাকার ক্ষমতা থাকার কথা। এছাড়া যুদ্ধবিমানটিকে শুধু একক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নয়, অন্যান্য সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য তৈরি করা হবে। এর মধ্যে থাকবে মানববিহীন কমব্যাট এয়ারক্রাফট এবং বিমানবাহী রণতরীতে থাকা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের সঙ্গে সংযোগ। অর্থাৎ ভবিষ্যতের নৌযুদ্ধে F/A-XX শুধু একটি যুদ্ধবিমান হিসেবে নয়, বৃহত্তর নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধব্যবস্থার অংশ হিসেবে কাজ করবে।
আরও পড়ুন: যুদ্ধের তহবিল ভরতে পর্ন-শিল্পে আইনি সিলমোহর! কর আদায়ে তৎপর ইউক্রেন
২০৩০-এর দশকে পরিষেবায় আসার লক্ষ্য
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন F/A-XX-এর প্রথম উৎপাদন মডেলগুলি ২০৩০-এর দশকে মার্কিন নৌসেনায় পরিষেবায় ঢুকতে পারে। বোয়িং এবং নর্থরপ গ্রুম্যানের মধ্যে কে এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি পাচ্ছে, সেই সিদ্ধান্ত এখন কার্যত চূড়ান্ত। বিজয়ী সংস্থার নাম ঘোষণা হলে সেটি শুধু মার্কিন নৌসেনার ভবিষ্যৎ বিমানবহরের জন্য নয়, চিনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান আকাশযুদ্ধের প্রতিযোগিতাতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হবে।
