কিয়েভ: একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে দেশের অর্থনীতিতে টান পড়েছে, অন্যদিকে দেশজুড়ে মাথাচাড়া দিচ্ছে পুলিশি দুর্নীতি। এই জোড়া ধাক্কা সামলাতে এ বার দেশের পর্নোগ্রাফি বা প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদন শিল্পকে আইনি সিলমোহর দেওয়ার পথে হাঁটতে চলেছে ইউক্রেন। সরকারের একাংশের মতে, এই বিপুল আয়ের শিল্পকে আইনি স্বীকৃতি দিলে একদিকে যেমন সেনার জন্য বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায় হবে, তেমনই বন্ধ হবে পুলিশ এবং প্রশাসনের অন্দরমহলে চলতে থাকা দুর্নীতি।
দুর্নীতি ও পুলিশি হেনস্থার অভিযোগ
বর্তমানে ইউক্রেনে পর্নোগ্রাফি তৈরি বা তা ছড়িয়ে দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, যার জন্য সাত বছর পর্যন্ত জেলের সংস্থান রয়েছে। আর এই আইনের ফাঁকফোকর গলেই ফুলেফেঁপে উঠছে পুলিশের একাংশ। ইউক্রেনের জেনারেল প্রসিকিউটরের কার্যালয় গত মে মাসেই জানিয়েছিল, তিনটি আলাদা প্রদেশে পুলিশ আধিকারিকরা পর্ন স্টুডিয়োগুলিকে আড়াল করার জন্য প্রতি মাসে ২০ হাজার ডলারেরও বেশি ঘুষ নিচ্ছেন।
শুধু স্টুডিয়ো নয়, পুলিশের টার্গেট হচ্ছেন ব্যক্তিগত ভাবে কাজ করা ক্রিয়েটররাও। ‘ওনলি-ফ্যানস’ (OnlyFans)-এর মতো প্ল্যাটফর্মে প্রায় ১০ লক্ষ সাবস্ক্রাইবার থাকা ইউক্রেনীয় তারকা স্ভেতলানা দ্ভোর্নিকোভা জানিয়েছেন, মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর জন্য তৈরি করার সময়েই তাঁর বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। বাজেয়াপ্ত করা হয় ইলেকট্রনিক গ্যাজেট এবং নগদ প্রায় ২ লক্ষ ডলার। স্ভেতলানার দাবি, ওই টাকা তিনি আয়কর দেওয়ার জন্য সরিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু পুলিশ আধিকারিকরা সেই টাকার অর্ধেক ঘুষ হিসেবে দাবি করেন, যা তিনি দিতে অস্বীকার করেছিলেন।
দেশ ছাড়ছেন ক্রিয়েটররা, বাঙ্কারে বসেই কাজ
দেশে কাজ করা বেআইনি হওয়ায় এবং পুলিশের এই লাগাতার হেনস্থার হাত থেকে বাঁচতে ইউক্রেনের বহু ক্রিয়েটর বাধ্য হয়ে ভিন দেশে পাড়ি দিচ্ছেন। স্ভেতলানা নিজেও এখন ফ্রান্স বা স্পেনে ভাড়ার ভিলাতে গিয়ে পর্নোগ্রাফির শ্যুটিং করেন। তবে যাঁরা দেশে রয়েছেন, তাঁরা বিকল্প রাস্তার খোঁজ নিয়েছেন।
লভিভ (Lviv) শহরে ইরিনা মোসিচুক নামে এক তরুণী খাতায়কলমে একটি ‘কনসাল্টিং কোম্পানি’ চালালেও, আদতে সেটি একটি ওয়েবক্যাম স্টুডিয়ো। সেখানে কাজ করা কয়েক ডজন মডেল মাসে ২ হাজার থেকে ৭ হাজার ডলার পর্যন্ত রোজগার করেন। ইরিনা জানিয়েছেন, তিনি প্রতি মাসে সরকারকে প্রায় ৫ হাজার ডলার কর দেন। শিল্পটি আইনি স্বীকৃতি পেলে এই করের পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে বলেই তাঁর দাবি।
তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে এই কাজ করাও খুব একটা সহজ নয়। স্টুডিয়োতে কাজ করার মাঝেই মডেলদের এয়ার-রেড সাইরেনের দিকে কান রাখতে হয়। কখনও কখনও লাইভ স্ট্রিমিং মাঝপথে থামিয়ে প্রাণ বাঁচাতে ছুটে যেতে হয় মাটির তলার বাঙ্কারে বা বম্ব শেল্টারে।
প্রেসিডেন্টের কাছে আবেদন
ইউক্রেনের বর্তমান আইনে পর্ন-তারকারা রোজগার করলেও তা বেআইনি, আবার সেই টাকার উপর আয়কর না দিলে তা-ও বেআইনি। এই আইনি জটিলতার অবসান চেয়ে ২০২৫ সালের জুন মাসে খোদ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কাছে একটি পিটিশন বা আবেদন জমা দিয়েছেন স্ভেতলানা।
নিজেকে এক জন ‘দায়িত্বশীল করদাতা’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই তিনি ইউক্রেন সরকারকে প্রায় ৪০ লক্ষ হ্রিভনিয়া (প্রায় ৯ লক্ষ মার্কিন ডলার) কর হিসেবে দিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট দাবি, তাঁদের মতো ক্রিয়েটরদের ‘অপরাধী’ হিসেবে দাগিয়ে দেওয়ার বদলে দেশের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে তাঁদের এই আর্থিক অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত সরকারের।
মৃতদের ৯ লাখ, ক্ষতিগ্রস্তদের ৩০ হাজার! সবং পরিদর্শনে গিয়ে আর কী ঘোষণা শুভেন্দুর?
জোরকদমে দল গঠন! ইমামির বিদায়ের পর ইস্টবেঙ্গলের ভরসা জুপিটার,
