কলকাতা: গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির নিজস্ব আয় বাড়াতে নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) জারি করল পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) সরকার। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর আদায়, বকেয়াদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং বিকল্প আয়ের উৎস চিহ্নিত করার মতো একাধিক নির্দেশিকা এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতের জন্য প্রতি পরিবার থেকে বছরে গড়ে ১,২০০ টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে রাজ্য সরকার।
সরকারি সূত্রের মতে, এই সিদ্ধান্তের পিছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক কারণ রয়েছে। ১৬তম অর্থ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ প্রায় ২,৫২১ কোটি টাকা পেতে পারে। তবে এই অর্থের বড় অংশই পারফরম্যান্স গ্রান্ট হিসেবে দেওয়া হবে। সেই অনুদান পেতে হলে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির নিজস্ব রাজস্ব সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখাতে হবে।
বর্তমানে রাজ্যের গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির গড় বার্ষিক রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ প্রতি পরিবারে মাত্র ২৩৩ টাকা। নতুন লক্ষ্য অনুযায়ী, এই আয় কয়েক গুণ বাড়িয়ে ১,২০০ টাকায় পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এক প্রবীণ সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, নতুন SOP অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার তিন সপ্তাহের মধ্যেই কর আদায়ের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। অর্থাৎ, কর সংগ্রহে অযথা বিলম্ব করা যাবে না।
এছাড়া যেখানে প্রয়োজন হবে, সেখানে অফলাইন পদ্ধতিতে কর জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখতে হবে। ডিজিটাল ব্যবস্থার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাঁরা কর জমা দেবেন না, তাঁদের একটি পৃথক তালিকা তৈরি করতে হবে। এরপর সেই বকেয়াদারদের কাছ থেকে কর আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় অনুসরণমূলক (ফলো-আপ) পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধু কর আদায়ের উপর নির্ভর না করে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিকে বিকল্প আয়ের উৎস খুঁজে বের করারও নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার।
SOP-এ বলা হয়েছে, প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতকে নিজেদের এলাকার রাস্তা, সেতু এবং ফেরিঘাট চিহ্নিত করতে হবে, যেখানে আইন অনুযায়ী টোল আদায়ের সুযোগ রয়েছে। এই ধরনের উৎস থেকে অতিরিক্ত আয় বাড়ানোর উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
সরকারি মহলের মতে, গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির আর্থিক স্বনির্ভরতা বাড়াতে নিজস্ব রাজস্ব সংগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় অর্থ কমিশনের কর্মদক্ষতা-ভিত্তিক অনুদান পেতে হলে শুধু সরকারি অনুদানের উপর নির্ভর না করে স্থানীয় স্তরেও আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রশাসনের আশা, নতুন SOP কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে কর আদায়ের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতি বাড়বে। একই সঙ্গে বিকল্প আয়ের উৎস তৈরি হওয়ায় গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির আর্থিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যতে উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নেও সুবিধা হবে।
Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা
Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন
Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের
