কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যুৎ খাতে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। (WBSEDCL)রাজ্য বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ডব্লিউবিএসইডিসিএল জিয়ারত ও খড়্গপুরে দুটি স্বতন্ত্র ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম বা বিইএসএস প্রকল্পের দায়িত্ব দিয়েছে। মোট ক্ষমতা ১০০ মেগাওয়াট বা প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা। সরবরাহ ও স্থাপনের মূল্য প্রায় ৪০০ কোটি টাকা।
এই প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন ও পরিচালনা করবে জুপিটার ওয়াগনসের (WBSEDCL)সহযোগী সংস্থা জেইএম বা জুপিটার ইলেকট্রিক মোবিলিটি। ১৫ বছরের বিল্ড, ওন অ্যান্ড অপারেট মডেলে কাজ চলবে। অর্থাৎ সংস্থা নিজেরাই তৈরি করবে, মালিকানা রাখবে এবং পরিচালনা করবে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি আয়ের নিশ্চয়তা পাচ্ছে জেইএম।এই চুক্তির পর জুপিটার গ্রুপের বিইএসএস অর্ডার বুক বেড়ে প্রায় ৫০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টায় পৌঁছেছে।
আরও দেখুনঃ মাঝআকাশে বিপত্তি! কোলাঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর কপ্টারের জরুরি অবতরণ
এর মূল্য ৫০০ কোটি টাকারও বেশি। জেইএম লক্ষ্য রেখেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে এই খাতে অর্ডার বুক ১০০০ কোটি টাকায় নিয়ে যাবে। (WBSEDCL)বাংলার জন্য এটি শুধু আরও একটি বিদ্যুৎ প্রকল্প নয়। প্রচলিত বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর বাইরে গিয়ে ইউটিলিটি স্কেল স্টোরেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথে এগোচ্ছে রাজ্য। ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেম গ্রিডের নমনীয়তা বাড়ায়। চাহিদার চূড়ান্ত সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। নবায়নযোগ্য শক্তির অংশ বাড়লে যে অস্থিরতা তৈরি হয়, তা সামলাতেও এই ব্যবস্থা কাজে লাগে।
সৌর বা বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদন সময়মতো না হলে বা চাহিদা বেড়ে গেলে ব্যাটারি থেকে বিদ্যুৎ নেওয়া যায়। আবার উদ্বৃত্ত থাকলে সংরক্ষণ করা যায়। এতে গ্রিড আরও স্থিতিশীল হয় এবং ব্যয়বহুল তাপবিদ্যুৎ কেনার প্রয়োজন কমে।জিয়ারত ও খড়্গপুরের এই প্রকল্প দুটি রাজ্যের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ডব্লিউবিএসইডিসিএল (WBSEDCL)নবায়নযোগ্য শক্তি একীভূতকরণ এবং গ্রিডের স্থিতিশীলতা বাড়াতে ব্যাটারি স্টোরেজের ওপর জোর দিচ্ছে।
আরও দেখুনঃ শর্তসাপেক্ষে বিদেশযাত্রায় ছাড়পত্র! ৩ সপ্তাহের অনুমতি পেলেন অভিষেক
এই পদক্ষেপ সেই লক্ষ্যের সঙ্গে মিল রয়েছে।জুপিটার ওয়াগনস মূলত রেলওয়ে ওয়াগন তৈরির জন্য পরিচিত। এখন তারা শক্তি সঞ্চয় খাতে পা বাড়াচ্ছে। সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে বিইএসএস ব্যবসায় জোর দিয়ে তারা এই খাতে নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে চাইছে। ভারতে ব্যাটারি স্টোরেজের বাজার দ্রুত বাড়ছে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলো নবায়নযোগ্য শক্তির লক্ষ্য পূরণে স্টোরেজ সিস্টেমকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
