কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকার আগামী তিন দশকের জন্য (satellite township)একটি বৃহৎ নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ২০৫৬ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত এই ত্রিশ বছরের সিটি ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানের আওতায় রাজ্যে অন্তত তিনটি নতুন স্যাটেলাইট টাউনশিপ গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি কলকাতার আশেপাশে এবং একটি আসানসোলে নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
ইতিমধ্যেই জমি চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়ে গেছে। (satellite township)এই উদ্যোগ শুধু নতুন আবাসন তৈরির বিষয় নয়, বরং বন্ধ হয়ে পড়া শিল্প কারখানার অব্যবহৃত জমি পুনরুদ্ধার করে তাকে আধুনিক নগর কেন্দ্রে রূপান্তরিত করার এক সুদূরপ্রসারী কৌশল।সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বন্ধ শিল্প ইউনিটগুলির পড়ে থাকা জমি ব্যবহার করে টাউনশিপ, হাসপাতাল এবং নতুন শিল্প স্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে।
আরও দেখুনঃ রাজ্যের কোষাগারে অতিরিক্ত রাজস্ব আনতে উদ্বৃত্ত কয়লা বিক্রিরর ভাবনা WBPDCL র
আসানসোল এলাকায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জমি ইতিমধ্যেই নজরে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে আরসিআই-এর ব্লু ফ্যাক্টরি এলাকা, রূপনারায়ণপুরের হিন্দুস্তান কেবলসের জমি এবং ব্রিটিশ অক্সিজেন লিমিটেডের পরিত্যক্ত ভূমি। এই জমিগুলিকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক আবাসন, চিকিৎসা কেন্দ্র এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল যে এই জমিগুলি অব্যবহৃত পড়ে আছে এবং কোনো উন্নয়নমূলক কাজে আসছে না। এখন সেই জমিই নতুন নগর জীবনের ভিত্তি হয়ে উঠতে চলেছে।(satellite township)আসানসোল টাউনশিপ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো উন্নয়ন। বাঁকুড়া ও পশ্চিম বর্ধমান জেলাকে সংযুক্ত করতে দামোদর নদীর উপর একটি নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া কালিপাহাড়ি থেকে দামোদর পর্যন্ত লিংক রোড তৈরি করা হবে, যা যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও মসৃণ করবে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো দুর্গাপুর পর্যন্ত একটি এরিয়াল এমআরটিএস করিডর নির্মাণের প্রস্তাব। এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাইটসকে। উড়ন্ত মেট্রো রেল ব্যবস্থা চালু হলে আসানসোল-দুর্গাপুর অঞ্চলের মানুষ দ্রুত ও আরামদায়ক যাতায়াতের সুবিধা পাবেন।
এই স্যাটেলাইট টাউনশিপ প্রকল্প শুধু স্থানীয় উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। (satellite township)এটি রাজ্যের বৃহত্তর র্যাপিড রেল ট্রানজিট সিস্টেম বা আরআরটিএস নেটওয়ার্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। ছয়শো চার কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলার আরআরটিএস নেটওয়ার্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল কলকাতা-বর্ধমান-দুর্গাপুর-আসানসোল রুট, যার দৈর্ঘ্য দুইশো বত্রিশ কিলোমিটার। এই দ্রুতগামী রেল করিডর চালু হলে নতুন টাউনশিপগুলির সঙ্গে কলকাতা ও অন্যান্য শহরের সংযোগ অনেক সহজ হয়ে যাবে। মানুষ দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য আর দীর্ঘ সময় নষ্ট করবেন না এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগও বাড়বে।
