পাকিস্তানের জেলে বাংলার মৎস্যজীবীর রহস্যমৃত্যু! গ্রামে ফিরছে দেহ

পাকিস্তানের জেলে বন্দিদশায় রহস্যজনক মৃত্যু হল পূর্ব মেদিনীপুরের মৎস্যজীবী স্বপন রানা‌র। বছর দুই আগে অনিচ্ছাকৃতভাবে জলসীমা অতিক্রমের অভিযোগে পাক জলপুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন পাইকবার গ্রামের…

Swapan Rana fisherman death in Pakistan jail

পাকিস্তানের জেলে বন্দিদশায় রহস্যজনক মৃত্যু হল পূর্ব মেদিনীপুরের মৎস্যজীবী স্বপন রানা‌র। বছর দুই আগে অনিচ্ছাকৃতভাবে জলসীমা অতিক্রমের অভিযোগে পাক জলপুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন পাইকবার গ্রামের এই মৎস্যজীবী। দীর্ঘ কারাবাসের পর হঠাৎ তাঁর মৃত্যুসংবাদ পৌঁছতেই শোক আর ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনও স্পষ্ট তথ্য না মেলায় বাড়ছে সন্দেহ, ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য।

Advertisements

বন্দিদশায় কী হয়েছিল? প্রশ্নের পর প্রশ্ন

পরিবারের দাবি—স্বপন অত্যন্ত শান্ত, পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন। তাঁর হঠাৎ মৃত্যু কোনওভাবেই মানতে পারছেন না তাঁরা। পাক জেলে তাঁর চিকিৎসা, নিরাপত্তা, এবং বন্দিদশার পরিকাঠামো কতটা সঠিক ছিল—সে বিষয়ে কোনও তথ্যই তাঁদের হাতে নেই। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ‘স্বাস্থ্যজনিত অবনতি’কে মৃত্যুর কারণ বলা হলেও তা মানতে নারাজ পরিবার। তাঁদের কথায়, “এটা স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। সত্যিটা জানতে চাই।”

   

সাহায্যে এগিয়ে এলেন জেলা মৎস্যজীবী সংগঠন Swapan Rana fisherman death in Pakistan jail

পরিবারের এই দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা মৎস্যজীবী উন্নয়ন সমিতির চেয়ারম্যান আমিন সোহেল। তিনি সরেজমিনে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁর আশ্বাস—
“স্বপন রানা আমাদের মৎস্যজীবী সমাজের একজন। পরিবারের পাশে আমরা থাকব। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সবরকম সাহায্য করা হবে।”

কূটনৈতিক পথে দেহ ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু

শনিবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবারকে জানানো হয় যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের মাধ্যমে দেহ ফেরানোর কাজ শুরু হয়েছে। পাকিস্তান সরকারের চিঠি অনুযায়ী, আগামী ৪ ডিসেম্বর আটারি–ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে স্বপন রানার দেহ হস্তান্তর করা হবে।

Advertisements

প্রশাসন জানিয়েছে, ভারত সরকার ইতিমধ্যেই কূটনৈতিক স্তরে বিষয়টি অনুসরণ করছে। তবে পরিবারের অভিমত, “দেহ ফিরছে ঠিকই, কিন্তু স্বপনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ না জানা পর্যন্ত মন শান্ত হবে না।”

গ্রামে শোকচ্ছায়া

পূর্ব মেদিনীপুরের পাইকবার গ্রাম জুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক। প্রতিবেশীদের কথায়, “স্বপনের মতো মানুষকে এমনভাবে হারাতে হবে ভাবিনি। এটা যেন দুঃস্বপ্ন।”

মৎস্যজীবী সমাজের দাবি, একই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তার জন্য ভারত–পাকিস্তান সমুদ্রসীমা–সংক্রান্ত সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা জরুরি।

Advertisements