কোচবিহার: স্বাধীনতা দিবসেই (Independence Day 2026) রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (STF) বড়সড় সাফল্য। পাক গুপ্তচর (Pak Spy) সন্দেহে ফের বাংলা থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করল এসটিএফ। কোচবিহারের সাহেবগঞ্জ এলাকা থেকে তাদের পাকড়াও করা হয়েছে। কয়েকদিন আগেই উত্তর ২৪ পরগনার হাবরা থেকে পাক চর সন্দেহে রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। আর এবার খোদ স্বাধীনতা দিবসের দিনেই এসটিএফ-এর জালে ধরা পড়ল আরও তিন আইএসআই (ISI) এজেন্ট।
ধৃতদের পরিচয় ও অভিযোগ
এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত তিনজনের নাম রশিদুল হক, নূর নাসিরুদ্দিন আলি এবং শফিকুল ইসলাম। এর মধ্যে শফিকুল বিহারের কিষাণগঞ্জের বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে এসটিএফ-এর অনুমান, ধৃতরা পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর এজেন্ট হিসেবে এ রাজ্যে কাজ করত। মূলত জাল নোটের কারবার এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে চোরাচালানের সঙ্গে এরা ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। তবে এদের মূল কাজ ছিল ভারতের ভুয়ো সিম কার্ড পাকিস্তানে পাচার করা।
কীভাবে চলত সিম কার্ড পাচার ও ‘হানিট্র্যাপ’?
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতরা প্রথমে ভুয়ো নথিপত্র ব্যবহার করে প্রচুর ভারতীয় সিম কার্ড তুলত। এরপর সেই সিম কার্ডগুলি চোরাপথে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হত। বাংলাদেশ থেকে পাক আইএসআই এজেন্টরা সেই সিম সংগ্রহ করে তা পাঠিয়ে দিত পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশে। আর এই ভারতীয় নম্বরগুলিকে ব্যবহার করেই পাক পঞ্জাব প্রদেশে বসে ‘হানিট্র্যাপ’ (Honeytrap) নেটওয়ার্ক চালাত আইএসআই।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সুন্দরী মহিলাদের ভুয়ো প্রোফাইল ও ছবি ব্যবহার করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর জওয়ান ও আধিকারিকদের সঙ্গে বন্ধুত্বের জাল পাতা হত। এরপর সেই বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হত দেশের সামরিক বাহিনীর নানা গোপন তথ্য, যা সরাসরি ভারতীয় সুরক্ষার পক্ষে বড়সড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছিল।
তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ
গোয়েন্দাদের ধারণা, বাংলা-সহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এই চক্রের আরও অনেক গুপ্তচর ছড়িয়ে রয়েছে। আগে ভারতীয় মোবাইল নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ চালাতে আইএসআই নিজেদের এজেন্টদের ব্যবহার করত। কিন্তু এখন সরাসরি সিম কার্ডই পাচার করে দেওয়া হচ্ছে। এই চক্রের শিকড় ঠিক কতদূর ছড়িয়ে রয়েছে এবং এর সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত, তা জানতে ধৃতদের জেরা করার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকাগুলিতে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ।
বাড়ি সংক্রান্ত নথি তলব! আজই পুরসভার দফতরে যেতে পারেন অভিষেকের বাবা
জোরকদমে দল গঠন! ইমামির বিদায়ের পর ইস্টবেঙ্গলের ভরসা জুপিটার,
