শ্যামনগরে অ্যাকশন মোডে পুলিশ! তোলাবাজ শেখ বাবনকে কোমরে দড়ি বেঁধে প্যারেড

শ্যামনগর: উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরে অ্যাকশন মোডে পুলিশ। (Shyamnagar)তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা শেখ বাবনকে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরাল পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।…

sheikh-babon-shyamnagar-police-action

শ্যামনগর: উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরে অ্যাকশন মোডে পুলিশ। (Shyamnagar)তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা শেখ বাবনকে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরাল পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও পুলিশের এই অ্যাকশনকে স্বাগত জানিয়েছে। তাঁরা শেখ বাবনসহ অন্যান্য তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের তোলাবাজি, চাঁদাবাজি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে কড়া ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

Advertisements

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শেখ বাবনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল। স্থানীয় ব্যবসায়ী, চাকরিপ্রার্থী এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়, ভয় দেখানো এবং প্রশাসনিক কাজে অনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর পুলিশ তাঁকে কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকার মধ্য দিয়ে নিয়ে যায়, যা স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ এটাকে ‘ন্যায়বিচার’ বলে স্বাগত জানিয়েছেন, আবার কেউ বলছেন এতে মানবিকতা লঙ্ঘন হয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ চাঁদে চলবে গাড়ি, উড়বে ড্রোন, একসঙ্গে কাজ করবেন নাসা ও বেজোস

স্থানীয় ব্যাবসায়ীদের অভিযোগ “বাবনের লোকজন প্রতি মাসে দোকান থেকে টাকা তুলত। না দিলে হুমকি, মারধর। কেউ কিছু বলার সাহস পেত না। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শেখ বাবন শুধু একা নন, তাঁর সঙ্গে আরও প্রায় ২০ জন তৃণমূল নেতা-কর্মী জড়িত বলে অভিযোগ। তাঁরা বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা, রেশন বিতরণ, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং এলাকার উন্নয়নমূলক কাজে অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করেছে স্থানীয় মানুষ।

প্রতিবাদকারীরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান এবং লিখিতভাবে পুলিশের কাছে আরও তদন্ত ও গ্রেফতারের দাবি জানান।তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। দলের কয়েকজন স্থানীয় নেতা অবশ্য বলছেন, “ব্যক্তিগত অভিযোগ থাকলে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। কিন্তু দড়ি বেঁধে প্রকাশ্যে ঘোরানোটা অমানবিক।” অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো এই ঘটনাকে তৃণমূলের ‘তোষণ ও দুর্নীতির’ প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছে। বিজেপি ও সিপিএমের কর্মীরা বলছেন, “এটা একটা উদাহরণ মাত্র। রাজ্যজুড়ে এমন হাজার হাজার নেতা-কর্মী আছে যারা মানুষের ঘাড়ে সওয়ার হয়ে আছে।”

Advertisements
Advertisements