কলকাতা: সাংসদ হওয়ার সুবাদে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আর্থিক তছরুপ এবং কালো টাকা পাচারের গুরুতর অভিযোগ উঠল ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। ক্যাগ (CAG) রিপোর্টে এই দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে দাবি করে আসরে নেমেছেন ‘আসল’ তৃণমূলের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, এই দুর্নীতির টাকা কেরলের উপনির্বাচনে ব্যবহার করা হয়েছে এবং সেখান থেকে তা পাচার করা হয়েছে ইউরোপের কেম্যান আইল্যান্ডে, এমনই সব বিস্ফোরক অভিযোগে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে। এই সমস্ত ‘হাতেগরম প্রমাণ’ নিয়ে চলতি সপ্তাহে দিল্লিতে নালিশ জানাতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঋতব্রত শিবির।
কী অভিযোগ তোলা হয়েছে?
ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে দীর্ঘ দু’বছর ধরে ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবির পরিচালিত হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসার এই মহৎ উদ্যোগের আড়ালে বিপুল পরিমাণ আর্থিক নয়ছয় হয়েছে এবং বহু মানুষ যথাযথ চিকিৎসা পাননি।
‘আসল’ তৃণমূলের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এই সেবাশ্রয়ের দুর্নীতির নেপথ্যে রয়েছে একটি ‘কেরল লবি’। ওই বেআইনি অর্থ কেরলের উপনির্বাচনে ব্যবহার করা হয়েছে এবং কেরলে একটি বিচ রিসর্টে বিশেষ বৈঠকের পর সেই কালো টাকা নিরাপদ স্থান হিসেবে পরিচিত কেম্যান আইল্যান্ডে পাচার করা হয়েছে। এর আগে প্রাক্তন আইপিএস তথা বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই কেম্যান আইল্যান্ডে কালো টাকা পাচারের অভিযোগ তুলেছিলেন।
দিল্লি যাত্রার প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক তরজা
ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, এই সংক্রান্ত সমস্ত দুর্নীতির নথি ইতিমধ্যেই তাঁদের হাতে এসে পৌঁছেছে। চলতি সপ্তাহেই, বিশেষ করে আগামী বৃহস্পতিবার এই সমস্ত প্রমাণপত্র নিয়ে দিল্লি পাড়ি দিতে পারেন ঋতব্রত। সেখানে নির্দিষ্ট জায়গায় এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া নালিশ জানানো হবে।
এই মুহূর্তে তৃণমূলের প্রতীক ও নিয়ন্ত্রণ দখলকে কেন্দ্র করে ‘কালীঘাট’ ও ‘আসল’ শিবিরের মধ্যে তীব্র দড়িটানাটানি চলছে। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে ঋতব্রত শিবিরকে বাড়তি সময় না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে অভিষেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ দাখিল করে ঋতব্রত শিবির রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে এবং নিজেদের অবস্থান পোক্ত করতে কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
বিশ্বে প্রথম বিদ্যুৎ চালিত ডবল স্ট্যাক ট্রেন চালিয়ে ইতিহাস ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ভারতের
‘এক পৃথিবী-পরিত্যক্ত পচা মতবাদের শরিক বাম-মৌলবাদীরা!’ বিস্ফোরক তথাগত
