মাস ঘোরেনি! ১৮১ FIR-৫৯ মামলার ফাইল খুলিয়ে বাংলায় রেকর্ড গেরুয়া সরকারের

কলকাতা: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত (election violence)ভোটকে ঘিরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাগুলি নিয়ে এবার বড় পদক্ষেপ নিল…

post-2021-election-violence-cases-bengal

কলকাতা: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত (election violence)ভোটকে ঘিরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাগুলি নিয়ে এবার বড় পদক্ষেপ নিল নবগঠিত পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে প্রশাসন জানিয়েছে, বহু পুরনো অভিযোগ এবং ধামাচাপা পড়ে থাকা মামলাগুলিকে নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে। ইতিমধ্যেই সেই প্রক্রিয়ায় ৪৫৮টি নতুন প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে এবং ১৮১টি নতুন এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।

Advertisements

নবান্ন সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পরই পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা দেন যে, রাজনৈতিক হিংসা বা খুনের ঘটনায় আর কোনো গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। বিশেষ করে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় যে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ, মারধর এবং খুনের অভিযোগ উঠেছিল, তার অনেক ক্ষেত্রেই তদন্ত সঠিকভাবে এগোয়নি বলে অভিযোগ ছিল। একই অভিযোগ ওঠে ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘিরেও।

   

আরও দেখুনঃ গ্রেফতারির আশঙ্কা, রক্ষাকবচ চেয়ে হাই কোর্টে ফলতার তৃণমূল প্রার্থী ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বহু অভিযোগ এমন ছিল যেগুলি থানায় জমা পড়লেও এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়নি। আবার কিছু ক্ষেত্রে তদন্তের নামে দীর্ঘদিন ফাইল চাপা পড়ে ছিল। সেই কারণেই এবার পুরনো নথি খতিয়ে দেখে নতুন করে ১৮১টি এফআইআর রুজু করা হয়েছে। পাশাপাশি যেসব মামলায় পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব দেখিয়ে পুলিশ ফাইনাল রিপোর্ট বা ক্লোজার রিপোর্ট জমা দিয়েছিল, সেগুলির মধ্যেও ৫৯টি মামলাকে পুনরায় খোলা হয়েছে।

প্রশাসনের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু রাজনৈতিক বার্তা নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলি অভিযোগ করে আসছিল যে, বহু হিংসার মামলায় প্রকৃত দোষীরা শাস্তির বাইরে থেকে গিয়েছে। ফলে নতুন সরকারের এই পদক্ষেপকে অনেকেই “অ্যাকশন মোড প্রশাসন”-এর সূচনা হিসেবে দেখছেন।

Advertisements

এবারের তদন্তে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) অনুযায়ী কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে দাবি, শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয় দেখে কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। যে বা যারা হিংসায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে চায় সরকার। তদন্তের ক্ষেত্রে প্রত্যেক জেলার পুলিশ সুপার এবং কমিশনারেটগুলিকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলেও এই পদক্ষেপ ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। শাসকদলের দাবি, অতীতে যেসব সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাননি, এবার তাদের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। অন্যদিকে বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হতে পারে। যদিও প্রশাসনের বক্তব্য, গোটা প্রক্রিয়াই আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে এবং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে করা হবে।

Advertisements