পূর্ব মেদিনীপুর: গত ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিরাপত্তাবাহিনীকে চোখে ধুলো দিয়ে চলা সিপিআই (মাওবাদী)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তথা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি-১-এর সম্পাদক অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ (STF) আধিকারিক ও কর্মীদের যৌথ অভিযানে পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের লালট এলাকা থেকে তাঁকে আটক ও পরে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, পটাশপুরেই তাঁর শ্বশুরবাড়ি রয়েছে এবং এক ব্যক্তির সাহায্য নিয়ে ছদ্মবেশে সেখানে লুকিয়েছিলেন তিনি। তাঁর কাছ থেকে দুটি ব্যাগ, কিছু বইপত্র ও বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
কে এই আকাশ এবং তাঁর জঙ্গলমহলের ইতিহাস?
পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা থানার ফুলচকের বাসিন্দা ৬৪ বছর বয়সি অসীম মণ্ডল আশির দশকে অতিবামপন্থী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত হন। আকাশ ছাড়াও তিনি তিমির, মনোজ, দীপক ও রাকেশের মতো একাধিক ছদ্মনামে পরিচিত ছিলেন। ২০০৪ সালে সিপিআই (মাওবাদী) গঠনের পর থেকে তাঁর নেতৃত্বেই জঙ্গলমহলে মাওবাদী সংগঠন শিকড় গাড়তে শুরু করে। ২০১০ সালের লালগড় আন্দোলনের সময়েও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। কিষানজির মৃত্যুর পর সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হওয়ার পাশাপাশি বাংলা-ঝাড়খণ্ড-ওডিশা রিজিওনাল কমিটিরও দায়িত্ব সামলেছেন আকাশ। ঝাড়খণ্ড ও ওডিশা মিলিয়ে তাঁর মাথার দাম ছিল মোট ২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা!
কোণঠাসা মাওবাদী সংগঠন ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা
কেন্দ্রীয় সরকারের মাওবাদী দমন অভিযানের জেরে ছত্তিসগড় ও ঝাড়খণ্ডে একের পর এক শীর্ষ নেতা নিহত হন এবং বহু সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। গত ২২ জানুয়ারি যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আকাশের স্কোয়াডেরই ১৫ জন সদস্য নিহত হওয়ার পর দলমার জঙ্গলে পালিয়ে যান তিনি। একের পর এক সতীর্থের মৃত্যু এবং স্কোয়াড ভেঙে যাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এই প্রবীণ মাওবাদী নেতা। এছাড়াও তিনি উচ্চ রক্তচাপসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এই গ্রেপ্তারিকে জঙ্গলমহল ও বাংলার নিরাপত্তায় একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।
শ্রীরামপুরে সভা করার অনুমতি পেল ‘মমতা তৃণমূল’, বেঁধে দেওয়া হল কড়া শর্ত
শিয়ালদহ থেকে ছাড়ার পরই ট্রেনের কামরায় ধোঁয়া! থমকাল কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস
