ব্যানারে লিখতে হবে মালিকের ধর্ম! ইলামবাজারে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের ফতোয়ায় বিতর্ক

সিউড়ি: শান্তিনিকেতন বা বোলপুরে যাওয়ার প্রধান প্রবেশদ্বার হলো বীরভূমের ইলামবাজার। প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক এই পথ দিয়েই যাতায়াত করেন। তাঁদের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই ইলামবাজারের…

সিউড়ি: শান্তিনিকেতন বা বোলপুরে যাওয়ার প্রধান প্রবেশদ্বার হলো বীরভূমের ইলামবাজার। প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক এই পথ দিয়েই যাতায়াত করেন। তাঁদের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই ইলামবাজারের মূল রাস্তা সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য ছোট-বড় ভোজনালয় ও রেস্তোরাঁ। এ বার সেই সব হোটেলের সাইনবোর্ড বা ব্যানারে মালিকের ধর্মপরিচয় (হিন্দু না মুসলিম) স্পষ্ট করে লেখার ফতোয়া জারি করল ‘সনাতন জাগরণ মঞ্চ’ নামের একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। আগামী সাত দিনের মধ্যে সমস্ত ব্যবসায়ীকে এই নির্দেশ কার্যকর করার চরমসীমাও (Ultimatum) বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে এলাকায় তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

Advertisements

ফতোয়ার নেপথ্যে কী যুক্তি?

সংগঠনটির অভিযোগ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বহু ব্যবসায়ী সনাতন ধর্মের অনুকরণে বিভিন্ন নাম ব্যবহার করে নিজেদের রেস্তোরাঁ চালাচ্ছেন। সাধারণ পর্যটক ও ক্রেতারা সেই হিন্দু নাম দেখেই হোটেলে খেতে ঢুকছেন। কিন্তু খাওয়া-দাওয়ার পর বিল মেটানোর সময় তাঁরা যখন মালিকের আসল পরিচয় জানতে পারছেন, তখন রীতিমতো বিভ্রান্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।

   

বোলপুর যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক অরুণ দাস এই ফতোয়ার সমর্থনে সরব হয়েছেন। তিনি জানান, নামের এই বিভ্রান্তির জেরে ক্রেতারা অনেক সময়েই বুঝতে পারছেন না যে, তাঁদের ঠিক কী ধরনের মাংস বা খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। এর ফলে পর্যটকদের মনে এক অনভিপ্রেত সংশয় তৈরি হচ্ছে।

অরুণ দাসের কথায়, “কোনও মুসলিম ব্যবসায়ী যদি দোকান চালান, তবে সেখানে তাঁর নিজের নাম বা ধর্মের পরিচয় থাকা উচিত। হিন্দু নাম ব্যবহার করে ভিন ধর্মের মালিকদের ব্যবসা চালাতে দেওয়া হবে না। ক্রেতাদের বিভ্রান্তি রুখতেই আমরা সাত দিনের সময়সীমা দিয়েছি। যাঁর যা ধর্মপরিচয়, দোকানের সাইনবোর্ডে যেন সেটাই প্রতিফলিত হয়।”

Advertisements

পর্যটনকেন্দ্রের প্রবেশপথে এমন বেনজির নিদান ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শোরগোল পড়েছে। ব্যবসায়ীদের একাংশের মধ্যে এই ফতোয়া নিয়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হলেও, প্রকাশ্যে কেউই এখনও মুখ খোলেননি। এখন দেখার, স্থানীয় প্রশাসন এই বিতর্কিত ফতোয়ার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

Advertisements