শেষ বেলায় টিকিট! স্বস্তিতে হিরণ, নাম থাকায় খুশি ছিল স্ত্রী অনিন্দিতা

কলকাতা: আগে একবার বিয়ে সেরে দ্বিতিয়বার বিয়ের পিড়িতে বসে বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন খড়গপুরের বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায় (Hiran Chatterjee)। যার জেরে প্রথম পক্ষের স্ত্রী-সন্তানের…

hiran-chatterjee election

কলকাতা: আগে একবার বিয়ে সেরে দ্বিতিয়বার বিয়ের পিড়িতে বসে বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন খড়গপুরের বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায় (Hiran Chatterjee)। যার জেরে প্রথম পক্ষের স্ত্রী-সন্তানের দায়ের করা অভিযোগে আইনি জটিলতাতেও পড়তে হয় তাঁকে। এবার প্রশ্ন ওঠে, দ্বিতীয় বিবাহ বিতর্কের পর ছাব্বিশে তিনি টিকিট পাবেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। তবে, গত সোমবার বিজেপির প্রথম প্রার্থীতালিকা প্রকাশ্যে আসতেই দেখা যায়, নিজের জেতা আসন খড়গপুর কেন্দ্র হাতছাড়া হয়েছে হিরণের। এরপরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, দ্বিতীয় বিয়ে বিতর্কের জেরেই কি টিকিট পেলেন না খড়্গপুরের বিধায়ক? তবে তারই উত্তর এল শেষ বেলায়।

Advertisements

“এক বছর আগেই দল জানিয়ে দিয়েছিল যে খড়গপুরে টিকিট দেবে না। তবে কোথায় প্রার্থী করবে? সেকথা বলেনি তখনও। চব্বিশের লোকসভা ভোটের পরই জানতাম আমাকে এখান থেকে ছেড়ে চলে যেতে হবে। কিন্তু আমি তো খড়্গপুরের মাটি ছেড়ে যাইনি, কাজ করে গিয়েছি। খড়্গপুরের ইতিহাসে ১৯৫১ সালের পর পর এখানে যদি কোনও উন্নয়ন হয়ে থাকে, তাহলে সেটা গত ৫ বছরে আমার সময়ে হয়েছে।”

   

বৃহস্পতিবার বিজেপির তরফে দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়,তা থেকেই বোঝা যায়, হিরণের উপর ভরসা হারায়নি দল। হাওড়ার শ্যামপুর কেন্দ্র থেকে টিকিট পেলেন বিতর্কিত বিধায়ক।

বিয়ে বিতর্কের পর টিকিট হাতছাড়া হওয়ার জল্পনা শুরু হয়েছিল, কিন্তু শেষবেলায় দলের আস্থা দেখে কেমন অনুভূতি নেতা-অভিনেতার? হিরণ জানালেন, শুভেচ্ছা আমি সেদিন নেব, যেদিন পশ্চিমবঙ্গে নরেন্দ্র মোদির সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, যেদিন বাংলায় ভারতীয় জনতা পার্টি সরকার গড়বে।

Advertisements

উল্লেখ্য, ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে (West Bengal Assembly Election) গেরুয়া শিবিরের তরফে একাধিক তারকামুখ রাখা হয়েছে প্রার্থী তালিকায়। অগ্নিমিত্রা পাল, রুদ্রনীল ঘোষদের পাশাপাশি টিকিট পেলেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, হিরণ চট্টোপাধ্যায়, শর্বরী মুখোপাধ্যায়দের মতো একাধিক তারকা। প্রথম তালিকায় নাম ছিল না হিরণের তিনি জানিয়েছিলেন, “এক বছর আগেই দল জানিয়ে দিয়েছিল যে খড়গপুরে টিকিট দেবে না। তবে কোথায় প্রার্থী করবে? সেকথা বলেনি

তখনও। চব্বিশের লোকসভা ভোটের পরই জানতাম আমাকে এখান থেকে ছেড়ে চলে যেতে হবে। কিন্তু আমি তো খড়্গপুরের মাটি ছেড়ে যাইনি, কাজ করে গিয়েছি। খড়্গপুরের ইতিহাসে ১৯৫১ সালের পর পর এখানে যদি কোনও উন্নয়ন হয়ে থাকে, তাহলে সেটা গত ৫ বছরে আমার সময়ে হয়েছে। সাড়ে ৪ হাজার কোটির হাইওয়ে। খড়্গপুর থেকে শিলিগুড়ি, বেনারস ২৯০৫ কোটি ফোর্থ লাইন। এছাড়া খড়্গপুরে স্টেশনে ১১৩ কোটি টাকা, জল নিয়ে এসেছি ১৩৫ কোটি দিয়ে। মাটির তলা দিয়ে ইলেকট্রনিকের লাইন নিয়ে গিয়েছি ২৫০ কোটি টাকায়। আগামীর প্ল্যান বলতে, শ্যামপুর এখনও পিছিয়ে। একটা হাসপাতাল, কলেজ, ব্রিজ নেই। সেকাজগুলো করব আগামী দিনে। আমার মা বা মামাবাড়ির সদস্যরা যে সুবিধেগুলো পাননি, শ্যামপুরের মানুষেরা যেভাবে বঞ্চিত, অবহেলিত সেই জায়গাটা তৈরি করে দেব।”

বিধানসভা নির্বাচনে খড়গপুরে সদরে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রথমে না থাকায় আর কেউ খুশি হোক না হোক, খুশী ছিলেন হিরণের স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্য়ায়।
কিছুদিন আগে খবরের প্রথম ধাপে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা। বেনারসের ঘাটে মডেল অভিনেত্রী ঋত্বিকা গিরিকে অগ্নি সাক্ষী করে হিরণের বিয়ে করার পর থেকেই বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে নানা মহলে। এমনকী, আইনিও পথেও হাঁটেন হিরণের স্ত্রী অনিন্দিতা। হিরণের সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য নিয়ে কথা বললেও, এই বিষয় এখনও পর্যন্ত কিছু বলেননি হিরণ। এই বিতর্কের মাঝে বিজেপির প্রার্থী তালিকায় খড়গপুর সদনে হিরণের নাম না দেখে বেজায় খুশি অনিন্দতা। এক সংবাদ মাধ্যমে তিনি জানান, ‘ওতো খড়গপুরের লজ্জা!’

Advertisements