হালিশহর: পুলিশি হেফাজতে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় এ বার কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। রবিবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে বিক্ষোভ এবং ‘চোর’ স্লোগানের পর, সোমবার সকালে হালিশহরে নিহত ওই কর্মীর বাড়িতে পৌঁছে গেলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিহতের স্ত্রী, যিনি পেশায় তৃণমূলের এক জন কাউন্সিলর, তাঁকে নিজের ‘অ্যাটেনডেন্ট’ হিসেবে সরকারি চাকরি এবং ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্য তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, নিহতের দুই নাবালক সন্তানের পড়াশোনার দায়িত্বও নিয়েছে রাজ্য। গাফিলতির অভিযোগে এ দিনই তদন্তকারী অফিসার (আইও)-কে সাসপেন্ড করার পাশাপাশি ঘটনার ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের (ম্যাজেস্ট্রিয়াল ইনকোয়ারি) নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রবিবার নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিবারের কেউই তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি। অথচ এ দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে কথা বলেন নিহতের পরিজনেরা। পরিবারের এই ভূমিকায় কার্যত আপ্লুত মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “মারা যাওয়া ছেলেটির পরিবার একটি কাগজ দিয়েছে। পরিবারকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি, কারণ তাঁরা এই মৃত্যুকে নিয়ে কাউকে কোনও রাজনৈতিক স্লোগান দেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসার পর বাড়ির লোক দেখা করেননি। মৃতের দাদা বলছিলেন, তাঁরা বিচার চান আর সেই বিচার রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনই দিতে পারবে।” পুলিশের উপর আস্থা রাখায় পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন পুলিশমন্ত্রী।
বিরোধীদের নিশানা করে এ দিন প্রাক্তন দুই মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কাঠগড়ায় তোলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “প্রয়াত বুদ্ধবাবু বা মমতার সময়ে এমন একটা উদাহরণও দেখাতে পারবেন না, যেখানে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান ডিজিপি-কে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক দিক থেকে ভিন্ন মত পোষণ করা কোনও ব্যক্তির বাড়িতে গিয়েছেন। এই পরিবারের সকলেই তৃণমূল করেন। নিহতের স্ত্রী তৃণমূলের কাউন্সিলর। তা সত্ত্বেও আমরা তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছি।”
পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা যে দিনের আলোর মতো সত্যি, তা-ও অকপটে স্বীকার করে নেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ঠিক কতটা শারীরিক অত্যাচার হয়েছে, তা তিন জন চিকিৎসকের উপস্থিতিতে হওয়া ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে। তবে ঘটনার গুরুত্ব বুঝেই ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আইও-কে সাসপেন্ড করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রীর চাকরির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুভেন্দু জানান, বছরে তিনি তিন জন অ্যাটেনডেন্ট পান। সেখানেই নিহতের স্ত্রীকে নিয়োগ করা হয়েছে। প্রথম ১২ মাস তিনি ১৫ হাজার টাকা করে বেতন পাবেন এবং এক বছর পর গ্রুপ-ডি পদে তা স্থায়ী হবে। মানুষের জীবনের দাম যে কখনওই অর্থ দিয়ে পূরণ হয় না, সে কথা মেনে নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ১০ লক্ষ টাকার চেক নিহতের স্ত্রীর হাতে তুলে দেন তিনি।
হালিশহরে শুভেন্দু, দেখা করলেন মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে
মালদায় জাতীয় সড়ক-১২ উন্নয়নে নয়া মোড়! আগামী তিন মাসেই কেন্দ্র থেকে আসছে ৯০০ কোটি টাকা
