কলকাতা: হুগলির বলাগড় এখন এক নতুন বাণিজ্য কেন্দ্র হয়ে উঠতে চলেছে।(Balagarh Port) কলকাতা বন্দরের চাপ কমাতে এখানে ৪০৭ কোটি টাকার পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বলাগড় পোর্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড বা বিপিআইডিএল কন্টেইনার ও কয়লা বার্থ তৈরির জন্য প্রস্তাব আহ্বান করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে কলকাতার ব্যস্ত এলাকা থেকে মালবাহী কার্যক্রমের একটি অংশ সরিয়ে নেওয়া হবে।
শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায় পোর্ট কলকাতা ও ইনল্যান্ড ওয়াটারওয়েজ (Balagarh Port)অথরিটি অব ইন্ডিয়ার যৌথ উদ্যোগে গঠিত বিপিআইডিএল এই প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছে। জমি ইতিমধ্যেই বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে। প্রকল্পের লক্ষ্য লজিস্টিকস খরচ কমানো এবং একটি বিকল্প বাণিজ্য হাব তৈরি করা। কলকাতার রাস্তায় ভারী যানবাহনের চাপ কমে গেলে শহরের যানজটও কিছুটা কমবে। একই সঙ্গে জাতীয় জলপথ-১-এর মাধ্যমে মাল পরিবহন আরও বাড়বে।
আরও দেখুনঃ নতুন মিসাইলের জন্য আরও ৩০ পরমাণু ওয়ারহেড! ভারতের অস্ত্রভাণ্ডার বেড়ে ১৯০
এই বার্থগুলোর মোট ধারণক্ষমতা হবে দুই দশমিক সাত মিলিয়ন টন প্রতি বছর। এর মধ্যে কন্টেইনারের জন্য এক দশমিক নয় মিলিয়ন টন এবং বাল্ক কার্গোর জন্য শূন্য দশমিক আট মিলিয়ন টন ধরা হয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগকারী ডিজাইন, বিল্ড, ফাইন্যান্স, অপারেট অ্যান্ড ট্রান্সফার ভিত্তিতে প্রকল্প গড়ে তুলবে। যে প্রতিষ্ঠান প্রতি মেট্রিক টনে সবচেয়ে বেশি রয়্যালটি দেবে, তাকেই বেছে নেওয়া হবে। বিপিআইডিএল সফল দরদাতার সঙ্গে ত্রিশ বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করবে।
কাজের আদেশ এক বছরের মধ্যে জারি হওয়ার কথা। (Balagarh Port)লক্ষ্য রাখা হয়েছে ২০২৯ সালের অক্টোবরের মধ্যে কার্যক্রম শুরু করার। প্রকল্পটি শুধু পরিকাঠামো উন্নয়ন নয়, আঞ্চলিক অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে। কলকাতা বন্দরের ওপর চাপ কমলে আমদানি-রফতানি আরও মসৃণ হবে।
বলাগড় কলকাতা থেকে প্রায় পঁয়তাল্লিশ নটিক্যাল মাইল উজানে অবস্থিত। এখানে নতুন সুবিধা গড়ে উঠলে শহরের ভেতরে মালবাহী ট্রাকের চলাচল কমবে। পরিবেশের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। লজিস্টিকস খরচ কমলে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন এবং পণ্যের দামও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে।এই প্রকল্পের পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
কলকাতা বন্দরের ধারণক্ষমতা বাড়ছে এবং ভবিষ্যতের চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত সুবিধা দরকার। (Balagarh Port)বলাগড়কে সেই বিকল্প কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গের নদীকেন্দ্রিক বাণিজ্য নতুন মাত্রা পাবে।
