নববর্ষের দিনেই বাংলায় হালখাতা খোলা শুরু বিজেপির

কলকাতা: বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মালদা দক্ষিণে এক বিশাল জনসভা থেকে তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। নববর্ষের প্রাক্কালে দেওয়া এই…

Amit Shah Darjeeling Rally

কলকাতা: বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মালদা দক্ষিণে এক বিশাল জনসভা থেকে তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। নববর্ষের প্রাক্কালে দেওয়া এই ভাষণে তিনি একদিকে যেমন একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলার ইস্যুতে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন।

Advertisements

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, “আগামীকাল থেকে বাংলা নতুন বছরে প্রবেশ করবে। এই শুভ সময় থেকেই বিজেপি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলা ও যুবকদের ফর্ম পূরণ করাবে। সবাই ফর্ম পূরণ করুন এবং পদ্ম চিহ্নে ভোট দিন।” তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট, বিজেপি এবার সংগঠনের স্তরে আরও গভীরে পৌঁছানোর কৌশল নিয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ শান্তি আলোচনায় মুখ পুড়েছে! হোটেলের বিল মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে পাক সরকার

প্রতিশ্রুতির ঝুলি খুলে তিনি জানান, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যের মহিলা ও যুবকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৩,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি, দরিদ্র মানুষের জন্য বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। কৃষকদের ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করেন অমিত শাহ। তাঁর কথায়, “বর্তমানে নরেন্দ্র মোদী কৃষকদের বছরে ৬,০০০ টাকা দিচ্ছেন। আমরা আরও ৩,০০০ টাকা যোগ করে তা ৯,০০০ টাকায় নিয়ে যাব।”

তবে শুধু প্রতিশ্রুতিতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে নিশানা করে কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, “মে মাসের ৫ তারিখটা আসতে দিন, দুর্নীতিতে যারা জড়িত, তাদের জেলে পাঠানো হবে।” এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

Advertisements

অমিত শাহ আরও অভিযোগ করেন, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ বিশেষ করে মহিলারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাঁর বক্তব্য, “মমতা দিদির গুণ্ডারা আমাদের মা-বোনদের উপর অত্যাচার করছে।” এই ইস্যুতে তিনি পরিবর্তনের ডাক দেন এবং ভোটারদের বিজেপিকে সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

মালদা দক্ষিণের এই সভায় বিপুল জনসমাগম লক্ষ্য করা যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরবঙ্গে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে বিজেপি এই ধরনের বড় সভা ও প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দিচ্ছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এই সমস্ত অভিযোগ ও প্রতিশ্রুতিকে ‘ভোটের আগে রাজনৈতিক কৌশল’ বলেই ব্যাখ্যা করছে।

Advertisements