হেলিকপ্টার ব্যবহার বাধাগ্রস্ত করছে রাজ্যের বিরোধীরা, ক্ষোভ অভিষেকের

বীরভূমের রাজনৈতিক সভা থেকে হেলিকপ্টার বিভ্রাট নিয়ে সরব হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) । প্রকাশ্য মঞ্চ থেকেই তিনি অভিযোগ করলেন,…

Abhishek Hits Out at Opposition for Hindering Helicopter Access

বীরভূমের রাজনৈতিক সভা থেকে হেলিকপ্টার বিভ্রাট নিয়ে সরব হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) । প্রকাশ্য মঞ্চ থেকেই তিনি অভিযোগ করলেন, রাজ্যে এখনও নির্বাচন শুরু না হলেও প্রশাসনিক স্তরে এক ধরনের রাজনৈতিক বাধা তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, বিজেপি-শাসিত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমেই তাঁর হেলিকপ্টার ব্যবহারে অনুমতি দেওয়া হয়নি।

Advertisements

এদিন বীরভূমের সভা থেকে অভিষেক (Abhishek Banerjee) বলেন, “এখনও নির্বাচন শুরুই হয়নি, কিন্তু SIR-এর মাধ্যমেই ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। তার মধ্যেই বাংলা-বিরোধী জমিদার বিজেপি আমার হেলিকপ্টারের পারমিশন দেয়নি।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

   

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তাঁর হেলিকপ্টার সকাল ১০টায় ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে অনুমতি না মেলায় তিনি বিপাকে পড়েন। যদিও পরিস্থিতির কাছে নতিস্বীকার না করে বিকল্প পথ বেছে নেন তিনি। সভা মঞ্চ থেকেই অভিষেক বলেন, “ওদের জেদ যত, আমার জেদ তার দশগুণ। আমি ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে ফোন করি। তাঁর সৌজন্যে তাঁর হেলিকপ্টার নিয়েই আমি এখানে এসেছি।”

এই বক্তব্যের মাধ্যমে একদিকে যেমন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়েছেন অভিষেক, তেমনই বিরোধীদের উদ্দেশে নিজের দৃঢ় মনোভাবও স্পষ্ট করেছেন। তাঁর কথায়, বাংলাকে বারবার বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস সেই বাধা অতিক্রম করেই মানুষের কাছে পৌঁছবে।

Advertisements

সভা থেকে অভিষেক আরও বলেন, নির্বাচন এখনও ঘোষণা হয়নি, অথচ প্রশাসনিক স্তরে যে ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় শাসক দল বিজেপি বাংলার ক্ষেত্রে আলাদা আচরণ করছে। “বাংলাকে আটকানোর চেষ্টা নতুন নয়। কিন্তু মানুষ সব দেখছে, সব বুঝছে,” বলেন তিনি।

এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—নির্বাচনের আগে এমন হেলিকপ্টার অনুমতি সংক্রান্ত জটিলতা কি আদৌ প্রশাসনিক, না কি তার পিছনে রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে? যদিও এখনও পর্যন্ত বিজেপির তরফে এই অভিযোগের কোনও আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি। তৃণমূল সূত্রে খবর, দল এই ঘটনাকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে। দলের নেতারা মনে করছেন, এটি শুধু একজন নেতার যাতায়াতের সমস্যা নয়, বরং রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের একটি উদাহরণ। অন্যদিকে, বিরোধীরা অবশ্য এই অভিযোগকে রাজনৈতিক নাটক বলেও কটাক্ষ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বীরভূমের সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Abhishek Banerjee) বক্তব্য ঘিরে তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা দেখা যায়। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বার্তা দেন, যত বাধাই আসুক না কেন, লড়াই থেকে পিছিয়ে আসবে না দল। “বাধা দিয়ে আমাদের থামানো যাবে না,”—এই বার্তাই তিনি দিতে চেয়েছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত।

 

Advertisements