‘পূর্ণাঙ্গ বন্দে মাতরম না শেখালে মাথা তুলবে দিমাগি নকশালরা’, বার্তা শুভেন্দুর

কলকাতা: স্বাধীনতা দিবসের লালকেল্লা থেকে ‘দিমাগি নকশাল’ বা নকশাল মনোভাবাপন্ন মানুষদের সম্পর্কে দেশকে সতর্ক করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এবার সেই একই সুর শোনা গেল রাজ্যের…

কলকাতা: স্বাধীনতা দিবসের লালকেল্লা থেকে ‘দিমাগি নকশাল’ বা নকশাল মনোভাবাপন্ন মানুষদের সম্পর্কে দেশকে সতর্ক করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এবার সেই একই সুর শোনা গেল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) কণ্ঠে। বৃহস্পতিবার প্রথমসারির এক সংবাদমাধ্যমের মেগা কনক্লেভে উপস্থিত হয়ে এই ‘দিমাগি নকশাল’দের মাথাচাড়া দেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করলেন তিনি। পাশাপাশি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাওবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদের বিষবাষ্প থেকে দূরে রাখতে স্কুলে স্কুলে পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া কতটা জরুরি, তারও বিশদ ব্যাখ্যা দেন মুখ্যমন্ত্রী।

Advertisements

রাজ্যে পালাবদলের পর স্কুল শিক্ষায় নতুন সরকার কী কী বদল এনেছে, কনক্লেভের মঞ্চে তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি জানান, পড়ুয়াদের মনে দেশপ্রেম জাগাতে এখন প্রার্থনার সময় পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায়, “স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অনেকেই আজ বেঁচে নেই। কিন্তু বন্দে মাতরমে রয়ে গিয়েছে দেশপ্রেম ও একাত্মতার মন্ত্র।”

   

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এই কালজয়ী গানের অন্তর্নিহিত অর্থ বোঝাতে গিয়ে গানের নির্দিষ্ট অংশের উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। ‘দুর্গা দশপ্রহরণধারিণী’ অথবা ‘তোমার প্রতিমা গড়ি মন্দিরে মন্দিরে’, গানের এই অংশগুলো উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করে বলেন, “পুরো বন্দে মাতরম যদি আপনি না শেখান, তাহলে মাথা তুলবে টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং বা দিমাগি নকশালরা। এরাই সেই মানুষ, যারা ভোটের দিন বলে ‘ভোট দিতে যাবেন না’। যারা বলে, ‘আমরা সংবিধান মানি না’।”

এই প্রসঙ্গেই পশ্চিমবঙ্গের বুকে মাওবাদী দমনের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের স্মৃতি উসকে দেন মুখ্যমন্ত্রী। জঙ্গলমহলে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে তাঁর নিজের লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমি লড়েছি জঙ্গলমহলে। মাওবাদী নেতা কিষেণজি বলতেন, লাল দেশ করব। ভারত টুকরো টুকরো হবে।” এই ধরনের বিচ্ছিন্নতাবাদী চিন্তাধারাকে সমূলে উৎপাটন করতেই যে জাতীয়তাবাদী শিক্ষার প্রয়োজন, তা স্পষ্ট করে দেন শুভেন্দু।

Advertisements

বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিও এদিন প্রচ্ছন্ন কটাক্ষ ছুড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের পূর্বতন শিক্ষা কাঠামোর সমালোচনা করে তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, “বাংলার ছাত্ররা বন্দে মাতরম না গাইতে পারলেও, বাবর-আকবরের নাম ঠিক মুখস্থ করে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

নেপালে বিপর্যয়: নিখোঁজ বসিরহাটের শিক্ষক দম্পতি-সহ বাংলার ৩ পর্যটক!

পরীক্ষার নামে রোগীর যৌন হেনস্থা, কর্তব্যে গাফিলতি! কল্যাণী জেএনএম-এ হুলস্থূল

Advertisements