মক্কার নিরাপত্তা ‘রেড লাইন’, রাষ্ট্রসংঘে কড়া বার্তা শাহবাজ শরিফের

নিউইয়র্ক: মক্কার নিরাপত্তা ও পবিত্রতা নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif)। শুক্রবার রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি…

shehbaz-sharif-mecca-security-red-line-un-general-assembly-saudi-arabia

নিউইয়র্ক: মক্কার নিরাপত্তা ও পবিত্রতা নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif)। শুক্রবার রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা করেন। একই সঙ্গে মক্কা বা ইসলাম ধর্মের পবিত্র স্থানগুলির নিরাপত্তার উপর কোনও ধরনের হুমকিকে ‘রেড লাইন’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

Advertisements

শাহবাজ শরিফ বলেন, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার পাকিস্তান “সবচেয়ে কঠোর ভাষায়” নিন্দা করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মক্কা আল-মুকাররমাহর দিকে ড্রোন হামলার চেষ্টার ঘটনায় গোটা বিশ্বের মুসলিমদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

   

তিনি বলেন, মক্কার নিরাপত্তা ও পবিত্রতার উপর যে কোনও ধরনের হুমকি এমন একটি সীমারেখা, যা কখনও অতিক্রম করা উচিত নয়। তাঁর বক্তব্যে আরও উঠে আসে, কোনও মুসলিমের পক্ষেই এমন “জঘন্য কাজের” কথা ভাবা উচিত নয়।

মক্কা লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ

সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সৌদি আরব দাবি করেছিল, হুথিদের ছোড়া একটি ড্রোন মক্কার কাছে সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, ড্রোনটি মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় ঢোকার আগেই আটকানো হয়। তবে হুথিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

Advertisements

এরপর থেকেই সৌদি আরব এবং তার মিত্রদের পক্ষ থেকে মক্কা ও অন্যান্য পবিত্র স্থানের নিরাপত্তা নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও এর আগে এই হামলার প্রচেষ্টার নিন্দা করে সৌদি আরবের পাশে থাকার কথা জানিয়েছিলেন।

এদিকে, ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো এবং শহরগুলিকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।

Read  More: রাতের অন্ধকার, জেলিফিশ আর প্রতিকূল ঢেউকে হারিয়ে ক্যাটলিনা চ্যানেল জয় করলেন বঙ্গ তনয়া

সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির পক্ষেও সওয়াল

রাষ্ট্রসংঘে নিজের বক্তব্যে শাহবাজ শরিফ পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মধ্যে সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা চুক্তির কথাও তুলে ধরেন। ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামে পরিচিত এই চুক্তিতে তিন দেশের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতির কথা রয়েছে। শাহবাজ শরিফের বক্তব্য, এই চুক্তির উদ্দেশ্য কোনও দেশের বিরুদ্ধে সংঘাত তৈরি করা নয়। বরং প্রতিরক্ষা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং শান্তি বজায় রাখাই এর লক্ষ্য।

সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনের বাইরে তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মিশরের বিদেশমন্ত্রীরাও সৌদি আরবের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তাঁরা আঞ্চলিক সংঘাতের সমাধানে আলোচনা ও কূটনীতির উপর জোর দেন।

আমেরিকা-ইরান আলোচনায় পাকিস্তানের ভূমিকার দাবি

শাহবাজ শরিফ তাঁর বক্তব্যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, পাকিস্তান দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানকে আলোচনার টেবিলে আনার চেষ্টা করেছে।

তিনি বলেন, ইসলামাবাদে দুই পক্ষকে একই জায়গায় নিয়ে আসার পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইসলামাবাদ বৈঠক থেকে ‘ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ পর্যন্ত বিভিন্ন উদ্যোগ সংঘাত কমানোর উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছিল। তবে এই বক্তব্য মূলত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর নিজের সরকারের কূটনৈতিক ভূমিকা সম্পর্কে দেওয়া বিবরণ। আঞ্চলিক সংঘাতের ভবিষ্যৎ সমাধান এখনও অনিশ্চিত এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

Read  More: ‘সন্ত্রাস রফতানি বাদ দিয়ে অর্থনীতি সামলান!’ রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত

প্যালেস্টাইন প্রসঙ্গেও ইজরায়েলের সমালোচনা

রাষ্ট্রসংঘে প্যালেস্টাইন নিয়েও সরব হন শাহবাজ শরিফ। তিনি ইজরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযোগ তোলেন এবং গাজা ও বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থান তুলে ধরেন। লেবানন ও সিরিয়ায় ইজরায়েলের সামরিক পদক্ষেপেরও সমালোচনা করেন তিনি।

পাকিস্তানের চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস এবং চিফ অফ আর্মি স্টাফ ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরেরও প্রশংসা করেন শাহবাজ। তাঁর দাবি, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও কূটনীতির জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা তৈরিতে আসিম মুনিরের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়া ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের “সময়োপযোগী হস্তক্ষেপের” জন্যও ধন্যবাদ জানান শাহবাজ। তাঁর দাবি, ওই হস্তক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ায় বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবন রক্ষা করেছিল। এটি শাহবাজ শরিফের বক্তব্যে করা একটি রাজনৈতিক দাবি, যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে।

রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে শাহবাজ শরিফের বক্তব্যে সৌদি আরবের নিরাপত্তা, মক্কার পবিত্রতা, পাকিস্তান-সৌদি-তুরস্ক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং আমেরিকা-ইরান কূটনীতির বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। একই সময়ে পাকিস্তানকে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক এবং সৌদি আরবের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়তে হচ্ছে।

Advertisements