বাঁকিপুরে প্রশান্তের জয়ে বিজেপির ধাক্কা, কেন বেশি চিন্তায় আরজেডি?

পটনা: বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে (Bankipur Bypoll ) বড় চমক দেখিয়েছেন জন সুরাজ (Jan Suraaj)-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর। বিজেপির দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি দখল করে তিনি…

prashant-kishor-bankipur-bypoll-rjd-bjp-vote-shift-analysis

পটনা: বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে (Bankipur Bypoll ) বড় চমক দেখিয়েছেন জন সুরাজ (Jan Suraaj)-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর। বিজেপির দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি দখল করে তিনি ১৯,৩২৪ ভোটে জয়ী হয়েছেন। এই ফল শুধু বিজেপির জন্যই ধাক্কা নয়, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বড় কৌশলগত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাষ্ট্রীয় জনতা দল (RJD)-এর জন্য।

Advertisements

উপনির্বাচনের ফলে দেখা গেছে, বিজেপি দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও আরজেডি মাত্র ১৪,২৭৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে। ভোটের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, জন সুরাজের জয়ে শুধু বিজেপির কিছু ভোট নয়, আরজেডির মূল ভোটব্যাঙ্কের একটি বড় অংশও প্রশান্ত কিশোরের দিকে সরে এসেছে।

   

বিশেষ করে মুসলিম ও যাদব (MY) ভোটের একটি অংশ জন সুরাজের দিকে যাওয়ায় প্রশান্ত কিশোরের জয়ের ব্যবধান আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হার মেনে আত্মসমালোচনার বার্তা বিজেপির

ফল ঘোষণার পর বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন বলেন, দল এই ফলাফলকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং আত্মসমালোচনা করবে।
তিনি বলেন, “গুজরাটের মাঞ্জলপুর আসনে বিজেপির উপর আস্থা রাখার জন্য আমরা মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ। কিন্তু বাঁকিপুর ও দাতিয়ায় প্রত্যাশিত ফল পাইনি। এই দুই কেন্দ্রের ফল আমরা গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করব এবং নতুন উদ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছব।” বিজেপির মতে, এই ফল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালীভাবে সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

Advertisements

কেন আরজেডির জন্য বড় সতর্কবার্তা?

বিজেপি নেতৃত্বের মতে, বাঁকিপুরের ফল শুধু একটি উপনির্বাচনের ফল নয়, বরং বিরোধী রাজনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য দাবি করেছেন, বিজেপিকে হারানোর উদ্দেশ্যে আরজেডির একটি বড় ভোটব্যাঙ্ক জন সুরাজের দিকে সরে গেছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এই কৌশল  আরজেডিরই ক্ষতি করতে পারে

তিনি বলেন, “২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস বামফ্রন্টকে হারাতে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য রাজনৈতিক জায়গা তৈরি করেছিল। পরে তৃণমূল শক্তিশালী হলেও কংগ্রেস প্রান্তিক হয়ে পড়ে। দিল্লিতেও বিজেপিকে আটকানোর নামে কংগ্রেস আম আদমি পার্টির জন্য জায়গা ছেড়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের ভোটের হার প্রায় ২ শতাংশে নেমে আসে।”

অমিত মালব্যর মতে, বাঁকিপুরের ফল আরজেডির জন্য একই ধরনের সতর্কবার্তা বহন করছে। তিনি আরও বলেন, “যদি বিজেপিকে হারানোর চেষ্টায় আরজেডির ভোট জন সুরাজের দিকে চলে যায়, তাহলে ইতিহাস বলছে, এতে মূল ক্ষতি হয় সেই দলেরই, যারা নিজেদের রাজনৈতিক জমি ছেড়ে দেয়।”

বিজেপির পাল্টা আত্মবিশ্বাস

তবে বাঁকিপুরের পরাজয়কে বিজেপি চূড়ান্ত ধাক্কা হিসেবে দেখছে না। অমিত মালব্য উদাহরণ হিসেবে ২০১৮ সালের উত্তরপ্রদেশের গোরখপুর ও ফুলপুর লোকসভা উপনির্বাচনের কথা উল্লেখ করেন। সেই দুই আসনে বিজেপি হেরেছিল। কিন্তু ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০২২ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে দল আবার সেই আসনগুলি পুনরুদ্ধার করে।

একইভাবে তিনি মহারাষ্ট্রের কাসবা পেঠ বিধানসভা উপনির্বাচনের কথাও উল্লেখ করেন। ২০২৩ সালে সেখানে বিজেপি কংগ্রেসের কাছে পরাজিত হলেও ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আসনটি পুনরুদ্ধার করে এবং এনডিএ জোটের নেতৃত্বে ২৩২টি আসন জিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
মালব্যর বক্তব্য, বাঁকিপুরের ফল থেকেও বিজেপি শিক্ষা নেবে এবং বিহারের মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে আরও জোর দিয়ে কাজ করবে।

প্রশান্ত কিশোরের জন্য বড় রাজনৈতিক সাফল্য

বাঁকিপুরের এই জয় প্রশান্ত কিশোরের নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রথম বড় সাফল্য। দীর্ঘদিন রাজনৈতিক কৌশলবিদ হিসেবে পরিচিত থাকলেও এবার তিনি সরাসরি নির্বাচনে নেমে বিজেপির ৩০ বছরের দখলে থাকা আসন জয় করেছেন।

অন্যদিকে, ভোটের ফলাফল নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের মতো ব্যাখ্যা দিলেও, মুসলিম ও যাদব ভোটের স্থানান্তরই এই জয়ের প্রধান কারণ ছিল, এমন কোনও সরকারি বা নির্বাচন কমিশনের বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়নি। এই মূল্যায়নটি প্রতিবেদনে উদ্ধৃত ভোটের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে করা রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।

Advertisements