যুদ্ধ প্রস্তুতি! সেন্ট্রাল কমান্ডে সেনাপ্রধানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

লখনউয়ে সেন্ট্রাল কমান্ড (Indian Army) পরিদর্শনে যুদ্ধ প্রস্তুতি, সীমান্ত নিরাপত্তা ও আধুনিকীকরণ কর্মসূচি পর্যালোচনা করলেন সেনাপ্রধান। আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়ও জোর দিলেন তিনি।

army-chief-central-command-review-war-preparedness-modernisation-lucknow

নয়াদিল্লি: ভারতীয় সেনাবাহিনীর (Indian Army ) যুদ্ধ প্রস্তুতি, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আধুনিকীকরণ কর্মসূচির অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে দুই দিনের সফরে সেন্ট্রাল কমান্ডের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শন করলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠ। মঙ্গলবার ও বুধবার অনুষ্ঠিত এই সফরে তিনি লখনউয়ে অবস্থিত সেন্ট্রাল কমান্ড সদর দফতর এবং উত্তর ভারত এলাকার (Uttar Bharat Area) সদর দফতর পরিদর্শন করে শীর্ষ সেনা আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

Advertisements

লখনউয়ের সেন্ট্রাল কমান্ড সদর দফতরে সেনাপ্রধানকে বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সীমান্তবর্তী এলাকায় সেনাবাহিনীর অপারেশনাল প্রস্তুতি, অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিকীকরণ প্রকল্প এবং যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গৃহীত পরিকল্পনাও তাঁর সামনে তুলে ধরা হয়।

   

এরপর তিনি উত্তর ভারত এলাকার সদর দফতর পরিদর্শন করেন এবং সেখানে কর্মরত সেনা কমান্ডার ও জওয়ানদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এই সময় তিনি সেনা সদস্যদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা এবং দেশের নিরাপত্তায় তাঁদের অবদানের প্রশংসা করেন।

ভারতীয় সেনাবাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (X)-এ জানিয়েছে, সফরকালে সেনাপ্রধান স্পষ্ট করে বলেছেন যে যুদ্ধ প্রস্তুতি, প্রযুক্তিগত অভিযোজন এবং আত্মনির্ভরতা একটি ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত ভারতীয় সেনাবাহিনী গঠনের মূল ভিত্তি। বর্তমান সময়ে দ্রুত বদলে যাওয়া যুদ্ধ প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে সেনাবাহিনীকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন।

Advertisements

সেনা কমান্ডার এবং বিভিন্ন স্তরের সেনা সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেনারেল ধীরাজ শেঠ বলেন, অপারেশনাল প্রস্তুতি, দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা এবং আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভবিষ্যতের সামরিক শক্তির মূল চালিকাশক্তি। তিনি আরও জানান, প্রযুক্তিগতভাবে সক্ষম ও আধুনিক ভারতীয় সেনাবাহিনী দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ গড়ার লক্ষ্যেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এই সফরের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল চারজন বিশিষ্ট প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তাকে ‘যোদ্ধা সেবা সম্মান’ (Yoddha Seva Samman) প্রদান। সমাজসেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ, কৃষি, ক্রীড়া এবং প্রাক্তন সেনা কল্যাণে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের এই সম্মান জানানো হয়।

সম্মানপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল হর্ষ কাকার। দীর্ঘ সামরিক জীবনে তিনি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও দায়িত্ব পালন করেছেন। অবসরের পরও তিনি কৌশলগত নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা, লেখালেখি এবং বক্তৃতার মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। তিনি STRIVE India-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং সহ-সভাপতি হিসেবেও কাজ করছেন।

এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অরবিন্দ সিং কুশওয়াহাকে স্বাস্থ্য পরিষেবা ও চিকিৎসা শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য সম্মানিত করা হয়েছে। নাগপুরে AIIMS প্রতিষ্ঠায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পাশাপাশি মহারাষ্ট্রে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং অরুণাচল প্রদেশে একাধিক মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তিনি উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।

সেনাপ্রধানের এই সফরকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুতি আরও জোরদার করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Also Read |  NEET কে অনলাইনে নিয়ে যেতে চায় কেন্দ্র! কিন্তু বাস্তব কি বলছে ?

Also Read |  পুলিশের পোশাক জাল করে যন্তরমন্তরে নাশকতার ছক! হামিমকে নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য STF র

Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা

Also Read |  পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব

Advertisements