রিয়াদ: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা সৌদি আরামকোর ইয়ানবু এলাকার স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি (Houthis) গোষ্ঠী। শনিবার এই দাবি সামনে আসার আগে রিয়াদে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছিল এবং রাজধানীর কাছে আগুন ও কালো ধোঁয়া দেখা যায়। তবে হামলায় ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া আল-সারিয়া দাবি করেছেন, রিয়াদের ‘গুরুত্বপূর্ণ’ স্থাপনা এবং লোহিত সাগরের উপকূলে সৌদি আরামকোর কয়েকটি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে বিপুল সংখ্যক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ছোড়া হয়েছে। তাঁর দাবি, ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
রিয়াদে সতর্কতা, দেখা গেল কালো ধোঁয়া
শনিবার ভোরে সৌদি সিভিল ডিফেন্স রিয়াদ এবং কাছাকাছি আল-খারজ এলাকায় সম্ভাব্য বিপদের সতর্কতা জারি করে। পরে উভয় ক্ষেত্রেই ‘অল ক্লিয়ার’ দেওয়া হয়।
এর মধ্যেই রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে কালো ধোঁয়ার বড় স্তম্ভ দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রেও বিমানবন্দরের কাছে আগুন ও কালো ধোঁয়া দেখা যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে ঘটনার সঠিক কারণ নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে নিশ্চিত তথ্য ছিল না।
🚨🇸🇦 SAUDI just GOT HIT.
A strike landed on the fuel tanks next to King Khalid Airport, in Riyadh.
The city had air-raid warnings before dawn.
Civil Defense later sent an all-clear. Saudi has not named the attacker, but everyone is pointing at the Houthis.
The war left the… pic.twitter.com/2lD7nOpd4H
— Mario Nawfal (@MarioNawfal) September 19, 2026
আরামকোর ইয়ানবু স্থাপনাও নিশানায়?
হুথিদের দাবি অনুযায়ী, রিয়াদের পাশাপাশি লোহিত সাগরের উপকূলে ইয়ানবুতে সৌদি আরামকোর স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়ানবু সৌদি আরবের তেল রফতানির জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে সরবরাহ ব্যবস্থায় একাধিক বাধা তৈরি হয়েছে। ইয়ানবু থেকে তেল পরিবহণের পরিকাঠামোও সাম্প্রতিক হামলার প্রভাবের মুখে পড়েছে।
এর আগে জুলাইয়েও হুথিরা সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের তেল স্থাপনায় হামলার দাবি করেছিল। সেই সময়ও সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছিল।
পাল্টা হামলার দাবিতে হুথিরা
হুথি মুখপাত্রের দাবি, গত এক সপ্তাহে সৌদি আরব ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩০০টি হামলা চালিয়েছে। সেই হামলার জবাব হিসেবেই শনিবারের অভিযান চালানো হয়েছে বলে গোষ্ঠীটির বক্তব্য। তবে হুথিদের এই সংখ্যার স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে রিয়াদ ও ইয়ানবুর সমস্ত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা সফল হয়েছে কি না, সেটিও এখনও পরিষ্কার নয়।
ইয়েমেনে সংঘাত আরও তীব্র
ইয়েমেনে হুথি গোষ্ঠী এবং সৌদি সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত রয়েছে। ২০২৬ সালে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পর হুথিরা সৌদি ভূখণ্ড, তেল পরিকাঠামো এবং লোহিত সাগরের জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে হুথিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কৌশলগত বন্দর মোকা এবং বাব এল-মান্দেবের কাছে কয়েকটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবিও করেছে। এই অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে হুথিরা ইয়েমেনের আকাশে একটি সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবিও করেছিল। সেই দাবির স্বাধীন নিশ্চিতকরণ এখনও পাওয়া যায়নি।
তেল সরবরাহ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
সৌদি আরবের তেল পরিকাঠামোয় ধারাবাহিক হামলা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পর ইউরোপের কয়েকটি শোধনাগারে অক্টোবরের নির্ধারিত অপরিশোধিত তেল সরবরাহ বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে রিয়াদে সর্বশেষ হামলার দাবি শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেই নয়, বিশ্ব তেল সরবরাহ ও লোহিত সাগরের বাণিজ্যপথের জন্যও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories — On Kolkata24x7 Business.
