কলকাতা: এশিয়ান গেমসের ফাইনালে কঠিন লড়াইয়ের পর রৌপ্য পদকেই সন্তুষ্ট থাকতে হলো ভারতের তারকা উশু খেলোয়াড় নাওরেম রোশাবিনা দেবীকে (Naorem Roshibina Devi)। মহিলাদের সান্ডা ৬০ কেজি বিভাগের ফাইনালে চিনের পোড়খাওয়া লড়াকু ঝাং জিয়াওইউয়ের (Zhang Xiaoyu)-র কাছে হেরে যান তিনি। ফাইনালে শুরু থেকেই আধিপত্য বজায় রাখেন চিনা প্রতিযোগী। প্রথম ও দ্বিতীয়, উভয় রাউন্ডেই ৫-০ পয়েন্টে জিতে ২-০ ব্যবধানে স্বর্ণপদক নিশ্চিত করেন ঝাং। অন্যদিকে, গোটা ম্যাচে চিনা ফাইটারকে আটকে কোনোভাবেই কামব্যাক করতে পারেননি রোশাবিনা। এর আগে সেমিফাইনালের পথ মসৃণ করে ফাইনালে উঠলেও শেষরক্ষা হয়নি।
এশিয়ান গেমসে রোশাবিনার ঐতিহাসিক রেকর্ড
সোনা হাতছাড়া হলেও এই রূপো জয়ের সুবাদে এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে এক নতুন ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় উশু তারকা। প্রথম ভারতীয় অ্যাথলিট (পুরুষ বা মহিলা নির্বিশেষে) হিসেবে তিনি হ্যাটট্রিক করলেন, অর্থাৎ এশিয়ান গেমসের টানা তিনটি আলাদা সংস্করণে পদক জয়ের বিরল নজির গড়লেন রোশাবিনা। এর আগে ২০১৮ সালের জাকার্তা এশিয়ান গেমসে তিনি ব্রোঞ্জ এবং ২০২২ সালের হাংজু গেমসে রূপো জিতেছিলেন। এছাড়া, এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে ভারতের হয়ে উশুতে ওয়াই সদ্ধ্যারানি দেবীর পর রোশাবিনাই একমাত্র মহিলা খেলোয়াড় যিনি একাধিক পদক জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করলেন। মহিলাদের বিভাগে এশিয়ান গেমসের উশু ইতিহাসে সর্বাধিক পদকজয়ী অ্যাথলিটদের তালিকায় ইরানের ইলাহে মনসৌরিয়ানের (৪টি পদক) পরেই এখন নাম রয়েছে রোশাবিনার।
ফাইনালে ওঠার কঠিন লড়াই
এবারের এশিয়ান গেমসের মূল স্কোয়াডে প্রথম থেকে ছিলেন না রোশাবিনা। কোয়ালিফায়ারে দিব্যাংশীর কাছে হেরে গেলেও, দিব্যাংশী ইনজুরির কারণে ছিটকে যাওয়ায় শেষ মুহূর্তে কপাল খোলে রোশাবিনার। আর সেই সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেন তিনি। রাউন্ড অফ ১৬-এ বাংলাদেশের শিখা গৌতমকে পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়ে অভিযান শুরু করার পর কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যাকাওয়ের চু মান সিনকে ৫-০ ব্যবধানে উড়িয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেন। যদিও শেষ পর্যন্ত চিনের দুর্গে এসে তাঁর সোনা জয়ের স্বপ্ন অধরা থেকে গেল, তবুও তাঁর এই লড়াকু পদক জয় ভারতীয় ক্রীড়াজগতে এক অনন্য মাইলফলক হয়ে রইল।
কলকাতায় আদানি, সাতসকালে কালীঘাটে পুজো দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে শিল্পপতি
মহালয়ায় বিশ্বরেকর্ডের লক্ষ্য! ইডেনে ৩ হাজার ঢাক, ৪ হাজার শঙ্খধ্বনির মেগা আয়োজন
