প্লেস্টেশন ৫ ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন দুটি ওয়্যারলেস হেডসেট আনল সোনি। প্লেস্টেশন পালস (Sony Pulse) ওয়্যারলেস হেডসেট এবং পালস এজ ওয়্যারলেস হেডসেটের মাধ্যমে পালস সিরিজকে আরও বিস্তৃত করছে সংস্থাটি। নতুন দুই হেডসেটেই রয়েছে কাস্টম প্ল্যানার ম্যাগনেটিক ড্রাইভার এবং প্লেস্টেশন লিঙ্ক কানেক্টিভিটি। তবে তুলনামূলকভাবে প্রিমিয়াম পালস এজ মডেলে থাকছে অ্যাক্টিভ নয়েজ ক্যানসেলেশন এবং খুলে রাখা যায় এমন বুম মাইক্রোফোন। সোনি আপাতত দুই মডেলের লঞ্চের সময় জানিয়েছে। তবে দাম, প্রি-অর্ডারের তারিখ এবং ভারতে কবে এগুলি পাওয়া যাবে, সেই বিষয়ে এখনও কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি।
কবে বাজারে আসছে পালস ও পালস এজ?
সোনির ঘোষণা অনুযায়ী, প্লেস্টেশন পালস ওয়্যারলেস হেডসেট চলতি বছরের হলিডে সিজনে নির্বাচিত বাজারে বিক্রি শুরু হবে। সাধারণত এই সময় বলতে নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরকে বোঝানো হয়। অন্যদিকে, প্লেস্টেশন পালস এজ ওয়্যারলেস হেডসেট বাজারে আসবে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে। দুই মডেলের দাম এখনও ঘোষণা করা হয়নি। ভারতে এই হেডসেট দুটির বিক্রি হবে কি না, সেটিও সোনি এখনও নিশ্চিত করেনি। একইভাবে প্রি-অর্ডার কবে শুরু হবে, তাও জানানো হয়নি। দুটি মডেলই মিডনাইট ব্ল্যাক এবং হোয়াইট রঙে পাওয়া যাবে।
প্ল্যানার ম্যাগনেটিক ড্রাইভারে উন্নত গেমিং অডিও
প্লেস্টেশন পালস এবং পালস এজ, দুই হেডসেটেই কাস্টম প্ল্যানার ম্যাগনেটিক ড্রাইভার ব্যবহার করা হয়েছে। সোনির দাবি, এই প্রযুক্তি শব্দের পৃথকীকরণ এবং গেমের মধ্যে বিভিন্ন শব্দের অবস্থান আরও নির্ভুলভাবে বোঝাতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে গেম খেলার সময় পায়ের শব্দ, অস্ত্র রিলোড করার শব্দ বা অন্য কোনও দিক থেকে আসা অডিও আরও পরিষ্কারভাবে শনাক্ত করার সুবিধা মিলবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
প্লেস্টেশন পালসের প্রতিটি প্ল্যানার ড্রাইভারে চারটি ম্যাগনেট রয়েছে। অন্যদিকে, পালস এজ-এ প্রতিটি ড্রাইভারে রয়েছে আটটি ম্যাগনেট। সোনির দাবি, পালস এজ-এ পালসের তুলনায় দ্বিগুণ ম্যাগনেট ভলিউম রয়েছে। এর ফলে আরও গভীর ও সমৃদ্ধ বেসের সঙ্গে পরিষ্কার ও নির্ভুল অডিও পাওয়া যাবে বলে দাবি করা হয়েছে।
প্লেস্টেশন লিঙ্কে কম লেটেন্সির অডিও
দুই হেডসেটের সঙ্গেই একটি প্লেস্টেশন লিঙ্ক অ্যাডাপ্টার দেওয়া হবে, যাতে ইউএসবি টাইপ-সি কানেক্টর রয়েছে। হেডসেটেই বিল্ট-ইন ভলিউম কন্ট্রোল দেওয়া হয়েছে। প্লেস্টেশন লিঙ্ক প্রযুক্তির মাধ্যমে লসলেস এবং কম লেটেন্সির অডিও পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একাধিক ডিভাইসের মধ্যে দ্রুত পরিবর্তন করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে প্লেস্টেশন ৫, প্লেস্টেশন পোর্টাল, পিসি এবং ম্যাক। এছাড়াও দুই হেডসেটই একই সময়ে সমর্থিত ব্লুটুথ ডিভাইসের সঙ্গেও সংযুক্ত করা যাবে।
এআই-নির্ভর নয়েজ রিজেকশন মাইক্রোফোন
ভয়েস চ্যাটের সময় ব্যাকগ্রাউন্ডের শব্দ কমানোর জন্য দুই হেডসেটেই এআই-নির্ভর নয়েজ রিজেকশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। প্লেস্টেশন পালস মডেলে মাইক্রোফোনটি হেডসেটের সঙ্গে ইন্টিগ্রেটেড। অন্যদিকে, পালস এজ-এ রয়েছে খুলে রাখা যায় এমন বুম মাইক্রোফোন। বুম মাইক্রোফোন খুলে ফেললেও হেডসেটের ভিতরে থাকা লুকানো মাইক্রোফোন ব্যবহার করা যাবে। ফলে গেমিংয়ের পাশাপাশি সাধারণ ভয়েস চ্যাটের ক্ষেত্রেও পালস এজ-এ ব্যবহারকারীর জন্য বেশি নমনীয়তা থাকছে।
পালস এজ-এ অ্যাক্টিভ নয়েজ ক্যানসেলেশন
পালস এজ মডেলটি অতিরিক্ত কিছু ফিচার নিয়ে এসেছে। এর মধ্যে অন্যতম অ্যাক্টিভ নয়েজ ক্যানসেলেশন। অর্থাৎ বাইরের পরিবেশের শব্দ কমিয়ে গেমের অডিওতে আরও মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে। এছাড়াও পালস এজ-এর সঙ্গে একটি ক্যারিং কেস থাকছে। এতে অডিও ও মাইক্রোফোন জ্যাক এবং প্লেস্টেশন ৫-এর জন্য গেম অডিও ও চ্যাট ব্যালান্স কন্ট্রোলও দেওয়া হয়েছে।
Read More: নীতিশের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ আকাশ, হার্দিকের পর নতুন অলরাউন্ডার?
Read More: Jio রিচার্জে বিনামূল্যে এই পরিষেবা! ৪০০০ টাকার সাবস্ক্রিপশন সুবিধা
Read More: ভারতে প্রোটিনের চাহিদা তিনগুণ! দুধ-ডালের সঙ্গে বাড়বে কার্বন নিঃসরণও
বহন করা সহজ করার জন্য নতুন ডিজাইন
দুই হেডসেটেই ঘোরানো যায় এমন ইয়ারকাপ রয়েছে। ফলে ব্যবহার না করার সময় ইয়ারকাপগুলি সমতল করে রাখা যাবে, যা হেডসেট বহন করার ক্ষেত্রে সুবিধা দেবে। সোনির দাবি, নতুন ডিজাইনটি আরাম এবং স্থায়িত্ব, দুই দিকেই উন্নতি করার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, নতুন প্লেস্টেশন পালস এবং পালস এজ ওয়্যারলেস হেডসেটের মাধ্যমে সোনি গেমিং অডিওকে আরও উন্নত করার দিকে জোর দিয়েছে। পালস এজ-এ অতিরিক্ত অ্যাক্টিভ নয়েজ ক্যানসেলেশন, বুম মাইক্রোফোন এবং ক্যারিং কেসের মতো সুবিধা থাকায় দুই মডেলের মধ্যে ফিচারের পার্থক্যও স্পষ্ট। তবে ভারতে দাম ও লঞ্চের তারিখ জানার জন্য এখনও সোনির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।
