চড়া থাকতে পারে স্মার্টফোনের দাম, মেমোরি সংকটে সস্তার ফোনে ধাক্কা

নয়াদিল্লি: আগামী দিনে নতুন স্মার্টফোন (Smartphone) কেনার পরিকল্পনা থাকলে বাজেট আরও একটু বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। বিশ্বজুড়ে মেমোরি চিপের দাম বাড়তে থাকায় স্মার্টফোন নির্মাতাদের উপর…

smartphone prices may stay high until 2028 amid memory chip shortage

নয়াদিল্লি: আগামী দিনে নতুন স্মার্টফোন (Smartphone) কেনার পরিকল্পনা থাকলে বাজেট আরও একটু বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। বিশ্বজুড়ে মেমোরি চিপের দাম বাড়তে থাকায় স্মার্টফোন নির্মাতাদের উপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে সস্তা ও এন্ট্রি-লেভেল স্মার্টফোনে। শিল্পক্ষেত্রের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস বলছে, মেমোরির দাম অন্তত ২০২৮ সাল পর্যন্ত উঁচু থাকতে পারে।

Advertisements

এর ফলে আগামী কয়েক বছরে কম দামের স্মার্টফোনের সংখ্যা কমে যেতে পারে এবং নতুন ফোনের গড় দামও তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। অন্যদিকে প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের বাজার তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

   

২০২৬ সালে স্মার্টফোনের বাজারে বড় পতনের আশঙ্কা

গবেষণা সংস্থা আইডিসি ২০২৬ সালের বিশ্ব স্মার্টফোন বাজার নিয়ে তাদের পূর্বাভাস সংশোধন করেছে। নতুন অনুমান অনুযায়ী, চলতি বছরে বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোনের শিপমেন্ট বছরে প্রায় ১৬.৭ শতাংশ কমতে পারে। এর আগে আইডিসি ১৩.৯ শতাংশ পতনের পূর্বাভাস দিয়েছিল। নতুন হিসাব অনুযায়ী, আগের অনুমানের তুলনায় প্রায় ২০ কোটি ইউনিট কম স্মার্টফোন বাজারে আসতে পারে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ সেই সময় মেমোরি চিপের ঘাটতির প্রভাব আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দাম কমার বদলে উল্টো বাড়তে পারে

স্মার্টফোনের শিপমেন্ট কমলেও ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হতে পারে দাম। আইডিসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, মেমোরি চিপের দাম অন্তত ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাড়তে পারে। অন্যদিকে ২০২৮ সাল থেকে স্মার্টফোনের গড় বিক্রয়মূল্য বছরে মাত্র প্রায় ১ থেকে ২ শতাংশ কমার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, আগামী বছর বাজারে আসা অনেক স্মার্টফোনের দাম চলতি বছরের মডেলের তুলনায় বেশি হতে পারে। একই সঙ্গে নির্মাতারা খরচ সামলাতে স্পেসিফিকেশন কমানো বা কম দামের মডেলের সংখ্যা কমানোর পথেও হাঁটতে পারেন।

Advertisements

১০০ ডলারের নিচের ফোনে সবচেয়ে বড় ধাক্কা

সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি হয়েছে ১০০ ডলারের নিচের স্মার্টফোন সেগমেন্টে। গত বছর এই দামের মধ্যে প্রায় ১৭.৩ কোটি স্মার্টফোন বাজারে এসেছিল। কিন্তু কম লাভের কারণে নির্মাতারা এখন এই সেগমেন্টে নতুন মডেল কমিয়ে তুলনামূলক দামি ফোনের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে এই সেগমেন্টে বছরে প্রায় ৬০ শতাংশ পতন দেখা গিয়েছে। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে পতনের গতি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারতের মতো উদীয়মান বাজারগুলির উপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। উদীয়মান বাজারে চলতি বছরে স্মার্টফোনের বাজার ২০ শতাংশের বেশি কমার পূর্বাভাস রয়েছে। এর অর্থ, ক্রেতাদের সামনে কম দামের ফোনের বিকল্প কমে যেতে পারে এবং একটি ফোন আরও দীর্ঘ সময় ব্যবহার করার প্রবণতা বাড়তে পারে।

প্রিমিয়াম ফোনে তুলনামূলক কম প্রভাব

অন্যদিকে দামি বা প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের বাজার তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর অন্যতম কারণ হল উন্নত দেশগুলিতে দীর্ঘমেয়াদি সুদমুক্ত কিস্তির সুবিধা সহজে পাওয়া যায়। ফলে বেশি দামের ফোন কিনলেও একসঙ্গে বড় অঙ্কের টাকা খরচ করতে হয় না। এই পরিস্থিতিতে বড় ব্র্যান্ডগুলিও সুবিধা পেতে পারে। অ্যাপল, স্যামসাং এবং হুয়াওয়ে-র মতো সংস্থার উৎপাদন ক্ষমতা, বাজারের পরিসর এবং দাম নির্ধারণের ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশি। ছোট অ্যান্ড্রয়েড ব্র্যান্ডগুলি, বিশেষ করে যাদের ব্যবসা মূলত কম দামের ফোনের উপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বাজারে টিকে থাকবে কারা?

আইডিসির মতে, আগামী ১৮ মাস স্মার্টফোন নির্মাতাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যেসব সংস্থা দীর্ঘ সময় ধরে বেশি উৎপাদন খরচ সামলাতে পারবে, তারা তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। অন্যদিকে যেসব সংস্থার ব্যবসা কম মার্জিনের এন্ট্রি-লেভেল ফোনের উপর বেশি নির্ভরশীল, তাদের জন্য ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে বাজারে ব্র্যান্ডের সংখ্যা কমে গিয়ে বড় সংস্থাগুলির আধিপত্য আরও বাড়তে পারে।

২০২৮-এর পরেও কি সস্তার ফোন ফিরবে?

মেমোরি সরবরাহ ২০২৮ সালের দিকে স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু তখন স্মার্টফোনের বাজার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না বলেই মনে করছে আইডিসি। সংস্থাটির অনুমান, তখন বিশ্ব স্মার্টফোন বাজারে ইউনিটের সংখ্যা কম থাকবে, কিন্তু মোট বাজারমূল্য বেশি হবে। অর্থাৎ কম সংখ্যক ফোন বিক্রি হলেও মানুষ তুলনামূলক বেশি দামি স্মার্টফোন কিনবেন। বাজার আরও বেশি প্রিমিয়াম সেগমেন্টকেন্দ্রিক হয়ে উঠতে পারে।

ফোল্ডেবল ফোনে আশার আলো

এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও একটি সেগমেন্ট তুলনামূলকভাবে উজ্জ্বল। সেটি হল ফোল্ডেবল স্মার্টফোন। ২০২৬ সালে ফোল্ডেবল ফোনের শিপমেন্ট প্রায় ১২.৬ শতাংশ বেড়ে ২.২৯ কোটি ইউনিট হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালে এই সংখ্যা প্রায় ২.৭ কোটি ইউনিটে পৌঁছতে পারে। অ্যাপল ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে প্রবেশ করলে এই বৃদ্ধির গতি আরও বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

আগামী কয়েক বছর স্মার্টফোন বাজারে বড় পরিবর্তনের সময় হতে চলেছে। মেমোরি চিপের বাড়তি খরচের কারণে কম দামের ফোনের সংখ্যা কমতে পারে, নির্মাতারা প্রিমিয়াম মডেলের দিকে আরও বেশি ঝুঁকতে পারেন এবং ক্রেতাদেরও নতুন ফোন কেনার সময় বাজেট ও প্রয়োজনের মধ্যে আরও সতর্কভাবে ভারসাম্য করতে হতে পারে।

আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯

আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ

আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন

Advertisements