মেটা তাদের নতুন প্রজন্মের এআই স্মার্ট গ্লাস ভারতে নিয়ে এল। Meta Connect-এর মঞ্চে Ray-Ban Meta Gen 3 প্রকাশের পর এবার ভারতীয় বাজারেও এর দাম ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন স্মার্ট গ্লাসে আগের প্রজন্মের তুলনায় ব্যাটারি, অডিও ক্যাপচার, ক্যামেরা এবং ডিজাইনে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে।
ভারতে Ray-Ban Meta Gen 3-এর দাম শুরু হচ্ছে ৪৪,৩০০ টাকা থেকে। অর্থাৎ আগের Ray-Ban Meta Gen 2-এর শুরুর দামের তুলনায় নতুন মডেলটি ৪,৪০০ টাকা বেশি। নতুন প্রজন্মে Wayfarer-এর পাশাপাশি Aviator এবং Zena ফ্রেমও পাওয়া যাচ্ছে। ফলে আগের তুলনায় ডিজাইনের বিকল্পও বেড়েছে।
Ray-Ban Meta Gen 3-এর দাম কত?
ভারতে Ray-Ban Meta Gen 3-এর দাম ফ্রেম এবং লেন্সের ধরনের উপর নির্ভর করছে।
- Aviator, Wayfarer ও Zena: ৪৪,৩০০ টাকা থেকে
- Polarised ভ্যারিয়েন্ট: ৪৬,৫০০ টাকা
- Transitions ভ্যারিয়েন্ট: ৫০,১০০ টাকা
বিশ্ববাজারে মোট ২৭টি ফ্রেম ও লেন্স কম্বিনেশন নিয়ে গ্লাসটি পাওয়া যাবে। এর মধ্যে Black, Havana এবং বিভিন্ন সিজনাল কালার রয়েছে। তুলনায়, Ray-Ban Meta Gen 2 ভারতে ৩৯,৯০০ টাকা থেকে লঞ্চ হয়েছিল। অর্থাৎ নতুন Gen 3-এর এন্ট্রি প্রাইস ৪,৪০০ টাকা বেশি।
ব্যাটারিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন
Ray-Ban Meta Gen 3-এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আপগ্রেডগুলির একটি হল ব্যাটারি। Meta-এর দাবি অনুযায়ী, Gen 3 একবার চার্জে সর্বোচ্চ ৯ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে। Gen 2-এর ক্ষেত্রে এই সময় ছিল সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টা। অর্থাৎ নতুন মডেলে ব্যাটারি ব্যাকআপ প্রায় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে।
চার্জিং কেসের ক্ষেত্রেও সামান্য উন্নতি হয়েছে। Gen 3-এর কেস থেকে সর্বোচ্চ ৫০ ঘণ্টা অতিরিক্ত ব্যাটারি পাওয়া যাবে। Gen 2-এর কেসে এই অতিরিক্ত ব্যাকআপ ছিল ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত। যাঁরা দীর্ঘ সময় বাইরে থাকেন এবং স্মার্ট গ্লাসে নিয়মিত কল, এআই ফিচার বা ভিডিও রেকর্ডিং ব্যবহার করেন, তাঁদের জন্য এই অতিরিক্ত ব্যাটারি সময় কাজে আসতে পারে।
৬টি মাইক্রোফোন, কমবে ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ
অডিও ক্যাপচারের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন করেছে Meta। Ray-Ban Meta Gen 3-তে রয়েছে ছয়টি মাইক্রোফোনের অ্যারে। Meta-এর দাবি, এই সিস্টেম আশপাশের ব্যাকগ্রাউন্ড শব্দের ৯০ শতাংশের বেশি কমাতে পারে। ফলে ব্যস্ত রাস্তা, বাতাস বা মানুষের কথাবার্তার মতো শব্দের মধ্যেও ভয়েস কমান্ড এবং ফোন কলের সময় ব্যবহারকারীর কণ্ঠ আরও স্পষ্টভাবে ক্যাপচার করা সম্ভব হতে পারে। তুলনায় Gen 2-তে ছিল পাঁচটি মাইক্রোফোনের সিস্টেম, যেখানে নয়েজ রিডাকশন অপ্টিমাইজেশন ব্যবহার করা হয়েছিল।
নতুন কাস্টমাইজেবল অ্যাকশন বাটন
Gen 3-তে নতুন একটি কাস্টমাইজেবল অ্যাকশন বাটন যোগ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে Meta AI দ্রুত অ্যাক্সেস করার সুযোগ পাওয়া যাবে। স্মার্ট গ্লাস ব্যবহার করার সময় বারবার ফোন বের না করে নির্দিষ্ট ফিচার চালু করার ক্ষেত্রে এই বাটনটি সুবিধা দিতে পারে।
এছাড়াও Meta Dolby Atmos ক্যাপচারের জন্য সাপোর্ট আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই ফিচার চালু হলে ভিডিও রেকর্ড করার সময় স্পেশাল অডিও বা আরও ইমার্সিভ সাউন্ড রেকর্ড করা সম্ভব হবে। তবে এই সুবিধা পরে সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে আসবে বলে জানানো হয়েছে।
ডিজাইনেও নতুন বিকল্প
Gen 3-তে Meta শুধু হার্ডওয়্যার আপগ্রেড করেনি, ফ্রেমের বিকল্পও বাড়িয়েছে। ভারতে Wayfarer-এর পাশাপাশি নতুন Aviator এবং Zena স্টাইল পাওয়া যাবে। ফলে সাধারণ স্মার্ট গ্লাসের মতো দেখতে না গিয়ে ব্যবহারকারীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী আরও বেশি ফ্রেম বেছে নিতে পারবেন। বিশ্ববাজারে Black, Havana সহ একাধিক রঙ এবং লেন্স কম্বিনেশন থাকছে।
Gen 2 ব্যবহারকারীদের কি আপগ্রেড করা উচিত?
এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। Gen 2 ব্যবহারকারীদের জন্য Gen 3-এর আপগ্রেড কতটা গুরুত্বপূর্ণ? নতুন মডেলে ব্যাটারি ব্যাকআপ ৮ ঘণ্টা থেকে ৯ ঘণ্টা হয়েছে। চার্জিং কেসের ব্যাকআপও ৪৮ ঘণ্টা থেকে ৫০ ঘণ্টায় বেড়েছে। মাইক্রোফোনের সংখ্যা পাঁচ থেকে ছয় হয়েছে এবং নয়েজ কমানোর ক্ষমতাতেও উন্নতির দাবি করা হয়েছে। সঙ্গে নতুন কাস্টমাইজেবল অ্যাকশন বাটন রয়েছে।
তবে Gen 2 ইতিমধ্যেই এআই স্মার্ট গ্লাস হিসেবে কল, ভয়েস কমান্ড, ছবি এবং ভিডিও ক্যাপচারের মতো মূল কাজগুলি করতে পারে। তাই শুধু ব্যাটারি এবং অডিও উন্নতির জন্য Gen 2 থেকে Gen 3-তে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা ব্যবহারকারীর ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। অন্যদিকে, যাঁরা প্রথমবার Ray-Ban Meta কিনতে চাইছেন, তাঁদের সামনে Gen 3 নতুন ডিজাইন, বেশি ফ্রেম অপশন এবং উন্নত হার্ডওয়্যারের সুবিধা দিচ্ছে।
৪,৪০০ টাকা বেশি দিয়ে কী পাওয়া যাচ্ছে?
Gen 3-এর এন্ট্রি প্রাইস Gen 2-এর তুলনায় ৪,৪০০ টাকা বেশি। এই অতিরিক্ত দামের বিনিময়ে পাওয়া যাচ্ছে দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ, নতুন ছয়-মাইক্রোফোন সিস্টেম, কাস্টমাইজেবল অ্যাকশন বাটন এবং নতুন ফ্রেম ডিজাইন। তবে এটি সম্পূর্ণ নতুন প্রজন্মের কোনও বিপ্লবী পরিবর্তন নয়। বরং Meta Gen 3-তে আগের স্মার্ট গ্লাসের মূল অভিজ্ঞতাকে আরও পরিণত করার দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
ফলে প্রথমবার স্মার্ট গ্লাস কিনতে চাইলে Gen 3-এর নতুন ডিজাইন ও হার্ডওয়্যার বিবেচনা করা যেতে পারে। আর Gen 2 ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে আপগ্রেডের প্রয়োজনীয়তা মূলত উন্নত অডিও, অতিরিক্ত ব্যাটারি এবং নতুন ফ্রেমের প্রয়োজনের উপর নির্ভর করবে।
Get your daily dose of tech news and insight. Follow us on X, Facebook, WhatsApp and Google News for instant updates. Catch all the action on our YouTube channel.
