সায়ন সেনগুপ্ত, কলকাতা: গত জুলাইয়ে শেষ হয়েছে এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ। তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় ঊনিশ দিন। এখনও সেই হ্যাংওভার রয়ে গিয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে। এসবের মাঝেই গত শনিবার নিমতার বুকে আয়োজিত হল টিসিটি কাপ (TCT Cup)। দি কমার্স টিউটোরিয়াল নামক এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে এবার চতুর্থ বর্ষে পা রাখল এই টিসিটি ফুটবল টুর্নামেন্ট। গতবারের মতো এবারও দুপুর থেকেই স্টিফেন টার্ফ এরিনায় স্কুল ও কলেজ পড়ুয়াদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে কার্যত মোবাইল বন্দি নতুন প্রজন্ম। যারফলে আগাছায় ঢাকতে শুরু করেছে বিভিন্ন খেলার মাঠ গুলি।
সেখানে দাঁড়িয়ে আরও একবার ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনায় সাক্ষী থাকল দমদমের এই স্টিফেন টার্ফ। যেখানে স্কুলের একাদশ – দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি টুর্নামেন্টে অংশ নিতে দেখা গিয়েছিল কলেজের একাধিক ছাত্র-ছাত্রীদের। সোশ্যাল মিডিয়াকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তরুণ প্রজন্মকে ফুটবল পায়ে মাঠে টেনে নামানোর এই প্রয়াস যথেষ্ট নজর কেড়েছে সকলের। এদিন বেলা আড়াইটে নাগাদ প্রয়াত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নীরবতা পালনের পর জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই ফুটবল টুর্নামেন্ট। যেখানে প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল টিসিটি রয়্যাল ওয়ারিয়র্স এবং টিসিটি ব্লাস্টার্স। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের ব্যবধানে জয়লাভ করে টিসিটি ব্লাস্টার্স। গোলদাতা নয় নম্বর জার্সিধারী শিবম রাম।
তারপর সূচি অনুযায়ী মাঠে নামে টিসিটি শিল্ড থেকে শুরু করে টিসিটি লিজেন্ড, টিসিটি স্যান্ডারসন, টিসিটি জেএমটির মতো দলগুলি। সব মিলিয়ে নয়টি দলে আয়োজিত হয় এই ফুটবল টুর্নামেন্ট। যেখানে শেষ পর্যন্ত টিসিটি লিজেন্ড বয়েজ দলকে পরাজিত করে খেতাব জয় করে টিসিটি জেএমটি। গোটা টুর্নামেন্টটির প্রসঙ্গে মূল উদ্যোক্তা ডঃ সৌরভ সাহা বলেন, ‘ আমরা মনে করি শুধুমাত্র পড়াশোনা করলে চলবে না। স্বামী বিবেকানন্দ যেমন বলেছিলেন, গীতা পাঠের থেকে ফুটবল খেললে বাচ্চারা অনেক বেশি তৈরি হবে। স্বামীজির সেই অঙ্গীকারকে নিয়ে আমরা প্রতি মুহূর্তে চেষ্টা করি পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীরা যাতে খেলাধুলো, সাংস্কৃতিক চর্চা, নাচ, গান, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, ইত্যাদি বিষয়ে নিজেদের প্রতিভাকে তুলে ধরতে পারে।’
আরও বলেন, ‘ সারাটা বছর ধরে ছাত্ররা অপেক্ষা করে যে কবে টিসিটি কাপ আসবে। ফেসবুক হোক, সোশ্যাল মিডিয়া হোক সব জায়গায় তারা ছবি পোস্ট করে। ছাত্রছাত্রীরা এই টুর্নামেন্টের কথা মাথায় রেখে নিজেদের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে সবটাই ওরা করে। এমনকি ম্যানেজমেন্টের দিক থেকেও ছাত্ররা যথেষ্ট সাহায্য করেছে।’ তবে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে তরুণ প্রজন্মকে মাঠে নামানো কতটা চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার সেই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ‘ এখনও ছাত্রদের মধ্যে ছাত্র সুলভ বিষয়টা রয়েছে। ওরা অনেকটা মাটির দলার মতো। তাদের যদি আমরা একটু উৎসাহ দিই ঠিক পথে চালিত করি, আমরা নিশ্চয়ই তৈরি করে নিতে পারব যে মূর্তিটা আমরা গড়তে চাই। তাছাড়া আমি ওদের চোখে উৎসাহ দেখেছি, তাই একবার যদি আমরা ওদের মাঠের টান দিতে পারি, তাহলে ওরা মাঠের টানে বল নিয়ে এগিয়ে যাবেই।’ এমনকি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনও ছাত্র ভবিষ্যতে ফুটবল নিয়ে এগিয়ে যেতে চাইলে উদ্যোক্তাদের তরফ থেকেও যে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হবে সেটাও জানিয়ে দেন তিনি।
পাশাপাশি উদ্যোক্তা ভারতী জানা বলেন, ‘ সারা বছর বাচ্চারা কিছু না কিছু করেই চলেছে, তবে ওদের খেলাধুলার জায়গার অভাব হয়ে যাচ্ছে এখন, মাঠ নেই চারিপাশে বললেই চলে। একদিন সম্পূর্ণ ওদের মতো করে আনন্দ করার জন্যই ভাবনা চিন্তা করা হয়েছিল, দেখতে দেখতে চার বছর হয়েও গেল। আগামী বছর পাঁচ বছর হবে আরও বড় করে কিছু করার ভাবনাচিন্তা হচ্ছে দেখা যাক কতদূর এগোনো যায়।’ ছেলেদের পাশাপাশি মহিলাদের টুর্নামেন্ট নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে তবে এক্ষেত্রে সংখ্যাটা কিছুটা কম তবে আগামী দিনে যারা আসবে তারা আগ্ৰহী হলে অবশ্যই আমরা আয়োজন করবো।’ তবে এখনও বহু মানুষের ভাবনায় শুধুমাত্র পড়াশোনা করলেই ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যত তৈরি করা সম্ভব। উত্তরে তিনি বলেন, ‘ এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। আমরা পড়াই বাচ্চারা পড়ে কিন্তু তাদের যদি এন্টারটেইনমেন্টের জায়গা না দেওয়া হয় তাহলে ওরা ফোন বন্দি হয়ে যাবে। যেটা আরও বেশি সমস্যার। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এগোতে গেলে ফোন ব্যবহার করতেই হবে কিন্তু ভার্চুয়ালি খেলাধুলা করার থেকে মাঠে নেমে খেলাটাই বেশি প্রয়োজন।’
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা
Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন
Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের
