টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এখন বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রিকেট ফরম্যাট। ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ দিয়ে এই ফরম্যাটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পথচলা শুরু হয়। শুরুতে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ তুলনামূলক কম হলেও বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের পাশাপাশি প্রতি দুই বছর অন্তর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হওয়ায় এই ফরম্যাটে ম্যাচের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।
বর্তমানে বিশ্বের ১০৮টি দল টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলেছে। তবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের তালিকায় কয়েকটি দল অনেকটাই এগিয়ে। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শীর্ষ দশে থাকা দলগুলির মধ্যে সাতটি দল অন্তত ১০০টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ জিতেছে।
১০. উগান্ডা, ৯০ জয়
২০১৯ সালে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হলেও উগান্ডা ইতিমধ্যেই ৯০টি ম্যাচ জিতেছে। দলটি মোট ১১৮টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে ২৫টি ম্যাচে হার এবং তিনটি ম্যাচে কোনও ফল হয়নি।
বাংলাদেশ, জিম্বাবোয়ে ও আয়ারল্যান্ডের মতো অপেক্ষাকৃত অভিজ্ঞ দলগুলির তুলনায় উগান্ডার জয়সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ২০২৪ সালের আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও খেলেছিল আফ্রিকার এই দল।
৯. আফগানিস্তান, ৯৮ জয়
আফগানিস্তান প্রথম টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে। এরপর থেকে দলটি নিয়মিত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলেছে এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও একাধিকবার অংশ নিয়েছে। আফগানিস্তান মোট ১৬৫টি ম্যাচ খেলে ৯৮টিতে জয় পেয়েছে। ৬৩টি ম্যাচে হার, তিনটি ম্যাচে টাই এবং একটি ম্যাচে কোনও ফল হয়নি। শীর্ষ দশ দলের মধ্যে তাদের জয়-হারের অনুপাতও উল্লেখযোগ্য।
৮. শ্রীলঙ্কা, ১০৩ জয়
২০০৬ সালের জুনে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক শ্রীলঙ্কার। এই ফরম্যাটের প্রথম দিকের বছরগুলিতে তারা অন্যতম শক্তিশালী দল ছিল। ২০১৪ সালে ভারতকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল শ্রীলঙ্কা। ২০২২ সালেও তারা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এশিয়া কাপ জেতে। এখন পর্যন্ত ২৩৬টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে শ্রীলঙ্কার জয় ১০৩টি। ১২৫টি ম্যাচে হার, ছয়টি ম্যাচে টাই এবং দুটি ম্যাচে কোনও ফল হয়নি।
৭. ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ১০৯ জয়
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া মাত্র তিনটি দলের মধ্যে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ক্যারিবিয়ান দলটি। ড্যারেন স্যামির নেতৃত্বে ২০১২ ও ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলটি এখন পর্যন্ত ২৫৫টি ম্যাচ খেলেছে। জয় ১০৯টি, হার ১৩১টি। তিনটি ম্যাচ টাই হয়েছে এবং ১২টি ম্যাচে কোনও ফল হয়নি।
৬. ইংল্যান্ড, ১২৬ জয়
২০০৫ সালের জুনে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ইংল্যান্ড প্রথম টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে। এই ফরম্যাটে তারা দুবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে, ২০১০ ও ২০২২ সালে। এখন পর্যন্ত ২৩১টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ইংল্যান্ডের জয় ১২৬টি। সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে তাদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে জয়সংখ্যার তালিকায় তারা শীর্ষ পাঁচের কাছাকাছি রয়েছে।
৫. দক্ষিণ আফ্রিকা, ১২৯ জয়
২০০৫ সালের অক্টোবরে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক দক্ষিণ আফ্রিকার। এখনও পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও এই ফরম্যাটে তাদের সামগ্রিক রেকর্ড বেশ শক্তিশালী। দক্ষিণ আফ্রিকা ২৩৫টি ম্যাচ খেলে ১২৯টিতে জয় পেয়েছে এবং ১০১টিতে হেরেছে। দুটি ম্যাচ টাই এবং তিনটি ম্যাচে কোনও ফল হয়নি। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাদের সেরা পারফরম্যান্স আসে। সেই আসরে ফাইনালে উঠলেও শেষ পর্যন্ত রানার্স-আপ হয় প্রোটিয়ারা।
Read More: এক বছরের চুক্তিতে লাল-হলুদে এলেন এই পোলিশ ফরোয়ার্ড
৪. অস্ট্রেলিয়া, ১২৭ জয়
২০০৫ সালে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রথম সরকারি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল। তবে টেস্ট ও একদিনের ক্রিকেটের মতো টি-টোয়েন্টিতে শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার জয়-পরিসংখ্যান ততটা প্রভাবশালী ছিল না। ২০২১ সালে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতে অস্ট্রেলিয়া। এখন পর্যন্ত ২২৯টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে তারা ১২৭টি জিতেছে এবং ৯২টি ম্যাচে হেরেছে। তিনটি ম্যাচ টাই হয়েছে এবং সাতটি ম্যাচে কোনও ফল হয়নি।
৩. নিউজিল্যান্ড, ১৩৫ জয়
২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে প্রথম সরকারি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা নিউজিল্যান্ড এখনও পর্যন্ত এই ফরম্যাটে ১৩৫টি জয় পেয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বা আইসিসির কোনও শিরোপা এখনও জিততে না পারলেও ব্ল্যাক ক্যাপসদের সামগ্রিক জয়-রেকর্ড বেশ শক্তিশালী। নিউজিল্যান্ড ২৬৭টি ম্যাচের মধ্যে ১৩৫টি জিতেছে এবং ১১০টিতে হেরেছে। ১০টি ম্যাচ টাই হয়েছে এবং ১২টি ম্যাচে কোনও ফল হয়নি।
Read More: বুমরাহর সামনে নেটে সমস্যায় বৈভব, আফগানিস্তান সিরিজের আগে কঠিন পরীক্ষা
২. পাকিস্তান, ১৭৩ জয়
টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের তালিকায় দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান শীর্ষস্থানীয় দলগুলির একটি। ১০০টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ জেতা প্রথম দলও ছিল পাকিস্তান। ২০০৯ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল পাকিস্তান। ২০০৭ ও ২০২২ সালের আসরে তারা রানার্স-আপ হয়। এখন পর্যন্ত ২৯৯টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে পাকিস্তানের জয় ১৭৩টি। ১১৪টি ম্যাচে হার, চারটি ম্যাচ টাই এবং আটটি ম্যাচে কোনও ফল হয়নি।
১. ভারত, ১৯২ জয়
টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড ভারতের দখলে। ২০০৭ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে এই ফরম্যাটে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছিল ভারত। ভারত এখনও পর্যন্ত আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ তিনবার জেতা একমাত্র দল। সবচেয়ে বেশি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ জয়ের পাশাপাশি জয়-হারের অনুপাতের দিক থেকেও টেস্ট খেলিয়ে দেশগুলির মধ্যে ভারতের রেকর্ড উল্লেখযোগ্য।
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ভারত মোট ২৯০টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে ১৯২টি ম্যাচে জয়, ৮১টিতে হার, সাতটি ম্যাচে টাই এবং নয়টি ম্যাচে কোনও ফল হয়নি। ভারতের জয়-হারের অনুপাত ২.৩-এর বেশি, যা টেস্ট খেলিয়ে দেশগুলির মধ্যে সর্বোচ্চ। ফলে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জয়সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে থাকা পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের ব্যবধানও যথেষ্ট বড়।
টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি জয়, এক নজরে
| স্থান | দল | ম্যাচ | জয় |
| ১ | ভারত | ২৯০ | ১৯২ |
| ২ | পাকিস্তান | ২৯৯ | ১৭৩ |
| ৩ | নিউজিল্যান্ড | ২৬৭ | ১৩৫ |
| ৪ | অস্ট্রেলিয়া | ২২৯ | ১২৭ |
| ৫ | দক্ষিণ আফ্রিকা | ২৩৫ | ১২৯ |
| ৬ | ইংল্যান্ড | ২৩১ | ১২৬ |
| ৭ | ওয়েস্ট ইন্ডিজ | ২৫৫ | ১০৯ |
| ৮ | শ্রীলঙ্কা | ২৩৬ | ১০৩ |
| ৯ | আফগানিস্তান | ১৬৫ | ৯৮ |
| ১০ | উগান্ডা | ১১৮ | ৯০ |
তথ্য ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ায় ভবিষ্যতে এই তালিকায় দলগুলির জয়সংখ্যা আরও দ্রুত বাড়তে পারে। ভারতের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই ১৯২টি জয় রয়েছে, ফলে সংক্ষিপ্ততম আন্তর্জাতিক ফরম্যাটে তাদের জয়-সংখ্যার রেকর্ড আরও শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে।
