ভারতীয় ক্রিকেটের অন্দরমহলে এখন কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে নির্বাচক কমিটির বিদায়ঘণ্টা। রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ নিয়ে বোর্ড (BCCI) এবং নির্বাচকদের মধ্যে যে সংঘাতের আগুন ধিকধিক করে জ্বলছিল, তা এবার দাবানলের আকার নিয়েছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকরসহ গোটা নির্বাচক মণ্ডলীকেই ছেঁটে ফেলার পথে হাঁটতে চলেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। সম্প্রতি আগরকরের মেয়াদ বাড়ানো হলেও, এই প্রবল অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে তাঁর বিদায় এখন কার্যত সময়ের অপেক্ষা।
বোর্ডের অন্দরমহলের খবর, আগামী সেপ্টেম্বরে আসন্ন বার্ষিক সাধারণ সভায় এই রদবদলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিলমোহর পড়তে চলেছে। আগরকরকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় প্রধান নির্বাচকের গুরুদায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বোর্ডের উৎকর্ষ কেন্দ্রের বর্তমান প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণকে। শুধু আগরকর নন, তাঁর নেতৃত্বাধীন গোটা নির্বাচক কমিটিকে সরিয়ে নতুন মুখ আনার পরিকল্পনা প্রায় পাকা করে ফেলেছেন ক্ষুব্ধ বোর্ডকর্তারা।
নির্বাচক কমিটির এই চরম পরিণতির নেপথ্যে রয়েছে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লর্ডস এক দিনের ম্যাচের প্রেক্ষাপট। প্রথম দু’ম্যাচে রোহিতের রান না পাওয়ার পর যখন তাঁর অবসর জল্পনা তুঙ্গে, তখন প্রকাশ্যে ‘হিটম্যান’-এর পাশে দাঁড়ান বোর্ড কর্তা তথা সচিব দেবজিৎ শইকীয়া। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রোহিত এখনই অবসর নিচ্ছেন না এবং আরও অনেক দিন খেলবেন। লর্ডসের মাটিতে ১৩৮ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে রোহিত নিজেও সেই কথার মান রাখেন। কিন্তু শইকীয়ার এই প্রকাশ্য মন্তব্যেই তীব্র আপত্তি জানান আগরকর। পরিস্থিতি এতটাই তেতে ওঠে যে, বোর্ডের পূর্ব নির্ধারিত পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে মন্তব্য করায় শইকীয়াকে তিনি ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলেন।
নির্বাচকদের মূল লক্ষ্য ছিল ২০২৭ সালের এক দিনের বিশ্বকাপ। সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় তাঁরা রোহিতকে রাখতে রাজি ছিলেন না। নতুনদের সুযোগ দেওয়ার এই ভাবনা বোর্ড এবং খোদ রোহিতকেও আগেই জানানো হয়েছিল বলে খবর। কিন্তু বোর্ডের শীর্ষকর্তারা যেভাবে প্রকাশ্য মঞ্চে রোহিতের পাশে দাঁড়িয়ে নির্বাচকদের সিদ্ধান্তকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন, তাতেই সংঘাত চরমে পৌঁছয়। আর ক্ষমতার অলিন্দে তৈরি হওয়া এই প্রবল স্নায়ুযুদ্ধে শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়াতেই হচ্ছে আগরকর এবং তাঁর গোটা দলকে। এখন শুধু সেপ্টেম্বরের সভার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।
