Bepicolombo Mercury Space Mission: সৌরজগতের সবচেয়ে রহস্যময় এবং সূর্যের সবচেয়ে নিকটবর্তী গ্রহ বুধের রহস্যগুলো অবশেষে উন্মোচিত হতে চলেছে। প্রায় আট বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং এক ক্লান্তিকর আন্তঃগ্রহ যাত্রার পর, মানুষের পরিচালিত একটি অভিযান তার গন্তব্যের একেবারে দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে। ইউরোপীয় ও জাপানি মহাকাশ সংস্থার যৌথ অভিযান ‘বেপিকলম্বো’ (BepiColombo) এখন তার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। শতকোটি কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এবং সূর্যের প্রবল মহাকর্ষীয় টান কাটিয়ে ওঠার পর, মহাকাশযান দুটি এখন বুধ গ্রহের কক্ষপথে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রায় আট বছরব্যাপী এক দীর্ঘ ও কঠিন যাত্রাপথ পাড়ি দিয়ে দুটি মহাকাশযান অবশেষে বুধ গ্রহের একেবারে সন্নিকটে এসে পৌঁছেছে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা এবং জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সির যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘বেপিকলম্বো’ (BepiColombo) মিশনটি ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। শতকোটি কিলোমিটার দীর্ঘ এই যাত্রাপথে মিশনটি পৃথিবী, শুক্র এবং খোদ বুধ গ্রহের মহাকর্ষীয় বলকে কাজে লাগিয়ে এগিয়েছে। মিশনটি এখন তার চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
সম্প্রতি বিচ্ছিন্ন হওয়া ট্রান্সফার মডিউল
৩রা সেপ্টেম্বর, বুধ গ্রহের উদ্দেশ্যে যাত্রাপথে শক্তি জোগানো ‘মারকারি ট্রান্সফার মডিউল’টি দুটি বৈজ্ঞানিক মহাকাশযান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি সম্পন্ন হবে ২১শে নভেম্বর, যখন মহাকাশযান দুটি যৌথভাবে বুধ গ্রহের কক্ষপথে প্রবেশ করবে।
বুধ গ্রহে পৌঁছানো এত কঠিন কেন?
সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ হওয়া সত্ত্বেও, বুধ গ্রহে পৌঁছানোকে অত্যন্ত কঠিন কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পৃথিবী থেকে কোনো মহাকাশযানকে বুধের কক্ষপথে প্রবেশ ও সেখানে অবস্থান নেওয়ার জন্য সূর্যের প্রবল মহাকর্ষীয় বলের মোকাবিলা করার পাশাপাশি নিজের গতিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হয়। এ কারণেই ‘বেপিকলম্বো’ (BepiColombo) অত্যন্ত জটিল একটি পথ অনুসরণ করেছিল; যাত্রাপথে এটি মোট নয়বার বিভিন্ন গ্রহের পাশ দিয়ে উড়ে গিয়েছিল (ফ্লাইবাই), যার মধ্যে একবার পৃথিবী, দুবার শুক্র এবং ছয়বার বুধ গ্রহের পাশ দিয়ে যাওয়ার ঘটনা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
দুটি মহাকাশযান, দুটি ভিন্ন অভিযান
এই অভিযানে দুটি প্রধান বৈজ্ঞানিক অরবিটার বা কক্ষপথ-পরিক্রমণকারী যান রয়েছে:
এমপিও (মারকিউরি প্ল্যানেটারি অরবিটার)
এটি ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার (ESA) একটি মহাকাশযান, যা বুধ গ্রহের পৃষ্ঠতল, অভ্যন্তরীণ গঠন এবং উপাদানসমূহ নিয়ে গবেষণা করবে।
‘মিও’ (Mio) বা ‘মারকারি ম্যাগনেটোস্ফেরিক অরবিটার’ হলো জাক্সা (JAXA)-র একটি মহাকাশযান, যা বুধ গ্রহের চৌম্বক ক্ষেত্র এবং সৌর বায়ুর সাথে এর মিথস্ক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করবে।
বুধ গ্রহে পৌঁছানোর পর মহাকাশযান দুটি একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন যে, এই অভিযানের মাধ্যমে গ্রহটির মেরু অঞ্চলের গহ্বরগুলোতে বরফের অস্তিত্ব শনাক্ত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, এটি গ্রহটির পৃষ্ঠতলের রহস্যময় গহ্বর, এর চৌম্বক ক্ষেত্র এবং সূর্যের এত কাছাকাছি এর সৃষ্টির ইতিহাস সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উন্মোচন করতে পারে।
২০২৬ সালের ডিসেম্বরে মহাকাশযান দুটি একে অপরের থেকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে MPO তার চূড়ান্ত কক্ষপথে পৌঁছাবে। এরপর ২০২৭ সালের এপ্রিলে মূল বৈজ্ঞানিক গবেষণা কার্যক্রম শুরু হবে। দীর্ঘ আট বছরের অপেক্ষার পর, বেপিকলোম্বোর (BepiColombo) প্রকৃত বৈজ্ঞানিক অভিযান এখন শুরু হতে চলেছে।
