কলকাতা: ভারতের কমপ্যাক্ট এসইউভি বাজারে আরও বড় পরিবর্তন আনতে প্রস্তুতি নিচ্ছে টাটা মোটরস। সংস্থার জনপ্রিয় টাটা নেক্সনের (Tata Nexon) পরবর্তী প্রজন্মের মডেল ২০২৭ সালে ভারতীয় বাজারে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। ইতিমধ্যেই একাধিকবার পরীক্ষামূলকভাবে রাস্তায় দেখা গিয়েছে নতুন নেক্সনকে। সেই স্পাই ছবিতে গাড়িটির ডিজাইন, কেবিন এবং মেকানিক্যাল পরিবর্তন সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত মিলেছে।
নতুন প্রজন্মের নেক্সনের কোডনেম প্রজেক্ট গরুড়। এটি শুধু সামান্য ফেসলিফট নয়, বরং ডিজাইন, ইন্টেরিয়র, স্ট্রাকচার এবং মেকানিক্যাল দিক থেকে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে।
আরও বক্সি ও আপরাইট ডিজাইন
স্পাই ছবির সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলির মধ্যে রয়েছে নেক্সনের নতুন বডি ডিজাইন। বর্তমান মডেলের তুলনায় ২০২৭ নেক্সনকে আরও আপরাইট এবং বক্সি স্ট্যান্স দেওয়া হতে পারে। এর ফলে কেবিনের ভেতরে জায়গা বাড়ানোর পাশাপাশি গাড়িটির রাস্তায় উপস্থিতিও আরও শক্তিশালী হবে।
তবে টাটা নেক্সনের কুপে-এসইউভি বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি বাদ দিচ্ছে না। নতুন মডেলে বক্সি বডির সঙ্গে কুপে-এসইউভি ডিজাইনের কিছু বৈশিষ্ট্যও থাকতে পারে।
পরীক্ষামূলক গাড়িতে নতুন ধরনের এ এবং সি-পিলার দেখা গিয়েছে। এর ফলে পিছনের সারিতে হেডরুম বাড়তে পারে। একই সঙ্গে গাড়িটি আগের তুলনায় আরও বড় ও কমান্ডিং লুক পেতে পারে।
বদলাবে গাড়ির প্ল্যাটফর্ম ও স্ট্রাকচার
বর্তমান নেক্সন এক্স১ আর্কিটেকচার-এর উপর তৈরি। দ্বিতীয় প্রজন্মের নেক্সনের জন্য এই আর্কিটেকচারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হতে পারে। নতুন স্ট্রাকচারের অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে ক্র্যাশ সেফটি আরও উন্নত করা, কেবিনে এনভিএইচ বা নয়েজ, ভাইব্রেশন ও হার্শনেস কমানো এবং যাত্রীদের জন্য আরও বেশি জায়গা তৈরি করা। অর্থাৎ শুধু বাইরে থেকে নতুন দেখতে নয়, গাড়িটির বডি স্ট্রাকচারেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে।
Sierra-এর ছোঁয়া থাকবে ইন্টেরিয়রে
২০২৭ সালের নেক্সনের কেবিনেও বড়সড় পরিবর্তন প্রত্যাশিত। নতুন ইন্টেরিয়রের বেশ কিছু ডিজাইন ও ফিচার টাটা সিয়েরা থেকে অনুপ্রাণিত হতে পারে। সম্ভাব্য ফিচারের মধ্যে থাকতে পারে দুটি ১০.২৫ ইঞ্চির স্ক্রিন, আলোকিত টাটা লোগো-সহ নতুন স্টিয়ারিং হুইল এবং নতুন ডিজাইনের এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবস্থা।
এছাড়াও নতুন প্রজন্মের এডিএএস, ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেমের নতুন ইউআই/ইউএক্স এবং উচ্চতর ভ্যারিয়েন্টে ইলেকট্রনিক পার্কিং ব্রেক ও অটো হোল্ড ফাংশন পাওয়া যেতে পারে।
শুধু তাই নয়, টাটা মোটরস উচ্চতর ভ্যারিয়েন্টে ট্রিপল-স্ক্রিন ড্যাশবোর্ড দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে। সেক্ষেত্রে নতুন নেক্সনের কেবিন বর্তমান মডেলের তুলনায় প্রযুক্তিগতভাবে অনেক বেশি আধুনিক হয়ে উঠবে।
পেট্রোল ও সিএনজি থাকবে, বাদ পড়তে পারে ডিজেল
ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে টাটা নেক্সনের বর্তমান ১.২-লিটার টার্বো-পেট্রোল এবং টুইন-সিলিন্ডার সিএনজি পাওয়ারট্রেনের ব্যবহার চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত ১.৫-লিটার ডিজেল ইঞ্জিন নতুন প্রজন্মের নেক্সনে বাদ পড়তে পারে। এর অন্যতম কারণ হতে পারে ভবিষ্যতের আরও কঠোর নির্গমন বিধি।
বর্তমান ডিজেল ইঞ্জিনকে নতুন নির্গমন মান পূরণ করার উপযোগী করে তুলতে বড় ধরনের পুনর্নির্মাণ প্রয়োজন হতে পারে। এতে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পুরোপুরি বন্ধ করার আগে টাটা মোটরস সীমিত সময়ের জন্য ডিজেল ইঞ্জিন চালু রাখতে পারে বলেও সম্ভাবনা রয়েছে।
হাইব্রিড ইঞ্জিন নিয়েও ভাবছে টাটা
টাটা মোটরস ইতিমধ্যেই তাদের জনপ্রিয় মডেলগুলিতে হাইব্রিড পাওয়ারট্রেন ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। ফলে ভবিষ্যতে নেক্সনেও হাইব্রিড প্রযুক্তি আসার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে ২০২৭ নেক্সনের ক্ষেত্রে কোন নির্দিষ্ট হাইব্রিড পাওয়ারট্রেন নিশ্চিতভাবে দেওয়া হবে কি না, তা এখনও জানা যায়নি।
২০২৭ টাটা নেক্সন বর্তমান মডেলের তুলনায় ডিজাইন, কেবিন স্পেস, প্রযুক্তি এবং স্ট্রাকচারে বড় পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে। তবে টাটা মোটরস এখনও নতুন নেক্সনের সমস্ত স্পেসিফিকেশন ও ফিচার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। তাই ইঞ্জিন, ভ্যারিয়েন্ট এবং চূড়ান্ত ফিচার সম্পর্কে আরও তথ্যের জন্য সংস্থার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন
