‘হিংসা নয় সংবিধান মেনেই বাংলা ছাড়া করা হবে তৃণমূলকে!’ হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

নন্দীগ্রাম: নন্দীগ্রামের মাটিতে আবারও নিজের রাজনৈতিক শক্তির প্রমাণ দিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ২০১৬, ২০২১-এর পর ২০২৬ টানা তিনবার জয়ের হ্যাটট্রিক করে কার্যত নিজের গড়…

suvendu-adhikari-nandigram-victory-bns-statement

নন্দীগ্রাম: নন্দীগ্রামের মাটিতে আবারও নিজের রাজনৈতিক শক্তির প্রমাণ দিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ২০১৬, ২০২১-এর পর ২০২৬ টানা তিনবার জয়ের হ্যাটট্রিক করে কার্যত নিজের গড় আরও মজবুত করলেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। তবে এই জয়োৎসবের মধ্যেও এক ভিন্ন বার্তা দিলেন শুভেন্দু হিংসা নয়, আইন মেনেই প্রতিশোধ নেওয়ার ডাক।

Advertisements

জয়ের পর নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি বলব, হাতে আইন কেউ নেবেন না। আগামী বিজেপি সরকার ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) অনুযায়ী প্রত্যেকটা মামলাকে রি-ওপেন করবে। আমরা ব্যবস্থা নেব।” তাঁর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

   

তিনি আরও বলেন, “আমার কাছে সব নাম লেখা আছে। আমি আপনাদের ঋণ শোধ করব। আপনারা নিশ্চিন্ত থাকুন।” এই বক্তব্যে একদিকে যেমন কর্মী-সমর্থকদের আশ্বস্ত করার বার্তা রয়েছে, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের উদ্দেশে স্পষ্ট সতর্কবার্তাও রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আরও দেখুনঃ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর শপথ! ভুয়ো আমন্ত্রণ পত্রে সরব বঙ্গ বিজেপি

তবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল তাঁর শান্তির আহ্বান। উত্তেজনার মুহূর্তে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “শান্তি বজায় রাখতে হবে। কুকুর মানুষের পায়ে কামড়ায়, কিন্তু মানুষ কখনো কুকুরের পায়ে কামড়ায় না।” এই রূপক মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে প্রতিশোধের পথেও সংযম বজায় রাখা জরুরি।

Advertisements

নন্দীগ্রামের সঙ্গে শুভেন্দুর আবেগের সম্পর্ক নতুন নয়। নিজের বক্তব্যে সেই স্মৃতিচারণও করেন তিনি। বলেন, “এই টাউন ক্লাবে যখন ১৫ অগাস্ট আসতাম, বজরংবলির পুজোতে আসতাম, কালীপুজোর উদ্বোধন করতাম তখন নন্দীগ্রাম এমন ছিল না। পরে এখানে ককটেল বোমা, অগ্নিসংযোগ সব দেখেছি।” তাঁর এই মন্তব্যে অতীতের অশান্ত সময়ের ইঙ্গিত স্পষ্ট।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুভেন্দুর এই বক্তব্যে দ্বৈত বার্তা রয়েছে। একদিকে তিনি কর্মীদের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছেন, অন্যদিকে আইনগত পথে বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। বিশেষ করে ‘মামলা রি-ওপেন’ করার কথা উল্লেখ করায় ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বও বারবার শান্তি বজায় রাখার উপর জোর দিচ্ছে। কারণ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে হিংসার অভিযোগ প্রায়ই ওঠে, যা রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। সেই প্রেক্ষাপটে শুভেন্দুর এই বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

Advertisements