প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই ছক্কা হাঁকিয়ে পথ চলা শুরু গেরুয়া সরকারের

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর (cabinet meeting)। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পালাবদলের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায়…

suvendu-adhikari-first-cabinet-meeting-nabanna-2026

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর (cabinet meeting)। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পালাবদলের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। আর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সোমবার নবান্নে নিজের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক করলেন শুভেন্দু অধিকারী। এই বৈঠক থেকেই রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক কাঠামোয় বদলের ইঙ্গিত ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক আলোচনা।

Advertisements

নবান্নে অনুষ্ঠিত এই প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু এবং অশোক কীর্তনিয়া। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, রাজ্যের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে সামনে রেখেই একাধিক বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

   

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাগুলির মধ্যে ছিল সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে পদক্ষেপ। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজে যাতে আর কোনো প্রশাসনিক বাধা না থাকে, সেই কারণে প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং মুখ্য সচিবকে আজ থেকেই সেই কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়ে বিজেপি সরকার তাদের জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত অবস্থান আরও স্পষ্ট করে দিল।

আরও দেখুনঃ প্রতিরক্ষা খাতে বড় রদবদল? আজ বৈঠকে বসছেন রাজনাথ সিং

একই সঙ্গে রাজ্যে বহু আলোচিত কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালু করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্প কার্যকর হয়নি। নতুন সরকারের দাবি, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও সহজলভ্য করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বহু নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার সরাসরি উপকৃত হতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisements

এছাড়াও কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি রাজ্যে পূর্ণমাত্রায় চালু করার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনিক স্তরে সমন্বয় শুরু হবে। নির্বাচনী ইস্তাহারে উল্লেখ করা ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর মতো সামাজিক প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

আইন ও বিচার ব্যবস্থাতেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। রাজ্যে কেন্দ্রীয় আইন ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ মেনেই প্রশাসনিক ও বিচার প্রক্রিয়া পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় কেন্দ্রের সঙ্গে আরও সমন্বিত কাঠামো তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও নতুন ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার। বৈঠকে ন্যাশনাল ক্যাডারের আধিকারিকদের আরও সক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতেই এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। এবার থেকে রাজ্যের আইএএস আইপিএস এবং WBCS অফিসাররাও কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন। এছাড়াও সরকারি চাকরির প্রার্থীদের বয়সের মেয়াদ বাড়ানো হবে ৫ বছর।

এদিকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সপ্তম পে কমিশন চালু করা এবং বকেয়া ডিএ মেটানোর বিষয়ে সরকার ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবুও সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।

Advertisements