নয়াদিল্লি: বিজেপির সাংগঠনিক স্তরে বড়সড় রদবদলের (Sunil Bansal)মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফের বহাল হলেন সুনীল বনসল। দলের নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নেতৃত্বে সোমবার নতুন জাতীয় দল ঘোষণা করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। সেই তালিকায় সুনীল বনসলকে জাতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে রাখা হয়েছে। ফলে দলের শীর্ষ সাংগঠনিক কাঠামোয় তাঁর গুরুত্ব যে এখনও অটুট, তা স্পষ্ট হয়ে গেল।
বিজেপির নতুন কেন্দ্রীয় টিমে মোট ১৩ জন জাতীয় সহ-সভাপতির পাশাপাশি আটজন জাতীয় সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সাধারণ সম্পাদকদের তালিকায় সুনীল বনসলের (Sunil Bansal)সঙ্গে রয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব, বিনোদ তাওড়ে, সতীশ পুনিয়া, গজেন্দ্র পটেল, হরিশ দ্বিবেদী এবং সঞ্জয় ভাটিয়া। দলের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বি এল সন্তোষকেও বহাল রাখা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ নেতাজির অন্তর্ধান রহস্য! চন্দ্রচূড় ঘোষের গবেষণা নিয়ে নয়া সিরিজ OTT তে
বিজেপির এই সাংগঠনিক রদবদলকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, দলীয় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্য বিভিন্ন রাজ্যে সাংগঠনিক প্রস্তুতি বাড়ানোই এই ধরনের রদবদলের অন্যতম লক্ষ্য। (Sunil Bansal)নতুন টিমে অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যে সংগঠন সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন নেতাদেরও জায়গা দেওয়া হয়েছে। আবার সুনীল বনসলকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে অনেকেই বলেছেন বাংলার নির্বাচনে যেভাবে তিনটি স্ট্রাটেজি সাজিয়ে বিজেপিকে বাংলা জয় করতে সাহায্য করেছেন তার পুরস্কার স্বরূপ তাকে এই পদ দেওয়া হয়েছে।
সুনীল বনসলের (Sunil Bansal)ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাই সবচেয়ে বড় সম্পদ। উত্তরপ্রদেশে বিজেপির সংগঠন মজবুত করার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বুথস্তর থেকে সংগঠনকে সক্রিয় করা, কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং নির্বাচনী কৌশল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতার কথা দলের অন্দরে বহুবার উঠে এসেছে। সেই অভিজ্ঞতার কারণেই জাতীয় স্তরে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে ২০২২ সাল থেকেই জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বনসল (Sunil Bansal)। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং তেলঙ্গানার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের সাংগঠনিক দায়িত্বও তাঁর কাঁধে ছিল। এই তিন রাজ্যের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে সংগঠন বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছে দল। ফলে বনশলের মতো অভিজ্ঞ সংগঠককে জাতীয় টিমে রেখে দেওয়া পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষ করে বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিজেপির সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নির্বাচনী লড়াইয়ের পাশাপাশি বুথস্তরে সংগঠন ধরে রাখা, নতুন কর্মী তৈরি করা এবং দলের ভোটব্যাঙ্ককে আরও বিস্তৃত করার মতো বিষয়গুলি দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বনশলের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা আগামী দিনে বাংলাতেও কাজে লাগতে পারে বলে বিজেপির রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
