নয়াদিল্লি: নয়াদিল্লির রাজনৈতিক আকাশ আজ আবার উত্তপ্ত। (Rahul Gandhi)শনিবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বাসভবনের সামনে জড়ো হয়েছেন বেশ কয়েকজন শিখ নেতা এবং ১৯৮৪ সালের শিখ দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের হাতে প্ল্যাকার্ড, মুখে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। প্রতিবাদের মূল কারণ একটিই কংগ্রেসের কিছু নেতা প্রাক্তন দলীয় নেতা সজ্জন কুমারকে ‘হিরো’ এবং ‘রোল মডেল’ বলে উল্লেখ করেছেন বলে অভিযোগ।
এই মন্তব্যকে শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ গভীরভাবে আহত করেছে। (Rahul Gandhi)তাঁরা রাহুল গান্ধীর কাছে প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।১৯৮৪ সালের সেই কালো অধ্যায় এখনও শিখ পরিবারগুলোর স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করছে। ইন্দিরা গান্ধীর হত্যার পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে হিংসার ঝড় বয়ে গিয়েছিল, তাতে হাজার হাজার নিরীহ শিখ প্রাণ হারিয়েছিলেন। সজ্জন কুমারের নাম সেই দাঙ্গার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।
আরও দেখুনঃ রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ অনুষ্ঠানে উত্তেজনা! ৫০-৬০ যুব কংগ্রেস কর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের মামলা
আদালতেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। (Rahul Gandhi)এমন একজন ব্যক্তিকে ‘হিরো’ বলে অভিহিত করা হলে সেই আঘাত যে কত গভীর হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। প্রতিবাদকারীরা বলছেন, এমন মন্তব্য শুধু ইতিহাসকে বিকৃত করে না, বরং দাঙ্গায় নিহতদের স্মৃতিকেও অপমান করে।রাহুল গান্ধীর বাসভবনের বাইরে জমায়েত হওয়া শিখ নেতারা শান্তিপূর্ণভাবেই প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল ক্ষমার দাবি এবং ন্যায়বিচারের আওয়াজ।
অনেকেই চোখের জল ফেলতে ফেলতে বলেছেন, তাঁদের পরিবারের সদস্যরা সেদিন খুন হয়েছিলেন। আজও সেই ক্ষত শুকায়নি। এমন পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের কোনো নেতা যদি সজ্জন কুমারকে আদর্শ বলে তুলে ধরেন, তাহলে তা মেনে নেওয়া যায় না। তাঁরা চান, রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)নিজে এগিয়ে এসে এই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চান এবং দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেন।প্রতিবাদস্থলে উপস্থিত কয়েকজন প্রবীণ শিখ নেতা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন সেই দিনগুলোর কথা।
তাঁরা বলেছেন, ১৯৮৪ সালের দাঙ্গা শুধু একটি ঘটনা নয়, এটি একটি গভীর জাতীয় ক্ষত। সেই ক্ষতকে নতুন করে নাড়া দেওয়ার কোনো অধিকার কারও নেই। সজ্জন কুমারের নামে যে মামলা চলেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে ‘হিরো’ বলা আরও বেশি আপত্তিকর। প্রতিবাদকারীরা দাবি করেছেন, কংগ্রেস নেতৃত্ব যেন এমন মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য যাতে আর না আসে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকে।
দিল্লির রাজনৈতিক মহলে এই প্রতিবাদ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, অতীতের ঘটনাকে সামনে এনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করা উচিত নয়। (Rahul Gandhi)আবার অনেকেই মনে করছেন, দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনুভূতিকে সম্মান জানানো জরুরি। শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছেন। তাঁদের সেই অপেক্ষাকে আরও বেদনাদায়ক করে তোলার কোনো অবকাশ নেই। প্রতিবাদকারীরা জানিয়েছেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাবেন যতক্ষণ না তাঁদের দাবি পূরণ হয়।
