‘মুসলিম ৫০% ছাড়ালেই বাংলা শেষ!’ বিস্ফোরক হিমন্ত

কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার আগেই ফের রাজ্যে বাড়ল রাজনৈতিক উত্তাপ। (Himanta Biswa Sarma)এই আবহেই নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।…

himanta-biswa-sarma-muslim-50-percent-bengal-controversy-election

কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার আগেই ফের রাজ্যে বাড়ল রাজনৈতিক উত্তাপ। (Himanta Biswa Sarma)এই আবহেই নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও ভোটার সংখ্যা নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য রাজ্যের রাজনীতিতে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

Advertisements

এক নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের সীমান্তবর্তী শীর্ষ ১০টি জেলায় অস্বাভাবিক হারে ভোটার সংখ্যা বেড়েছে। তাঁর মতে, এই বৃদ্ধি কেবল স্বাভাবিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফল নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে “ডেমোগ্রাফিক শিফট” বা জনবিন্যাসের পরিবর্তন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, অবৈধ অনুপ্রবেশের ফলে এই পরিবর্তন ঘটছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।

   

আরও দেখুনঃ প্রশ্নে নারী নিরাপত্তা! মহম্মদ আজিজের কাণ্ডে রণক্ষেত্র মোদী রাজ্য

হিমন্তের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে তাঁর সেই মন্তব্যকে ঘিরে, যেখানে তিনি বলেন “যদি বাংলাদেশি মুসলিম জনসংখ্যা ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়, তাহলে অসম ও পশ্চিমবঙ্গ তাদের জনসংখ্যাগত পরিচয় চিরতরে হারাবে।” এই মন্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, এই ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসের নীরবতা আসলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট। তাঁর কথায়, “এই বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল কথা বলতে চাইছে না, কারণ এতে তাদের ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব পড়তে পারে।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি সরাসরি শাসক দলকে নিশানা করেন।

Advertisements

তবে এই অভিযোগকে একেবারেই ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের নেতাদের বক্তব্য, এই ধরনের মন্তব্য শুধুমাত্র নির্বাচনের আগে বিভাজনের রাজনীতি উস্কে দেওয়ার জন্যই করা হচ্ছে। তাদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ বরাবরই সম্প্রীতির রাজ্য এবং এখানে কোনওভাবে জনসংখ্যাগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের মন্তব্য নির্বাচনের আগে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলা যেমন মুর্শিদাবাদ, মালদা বা উত্তর দিনাজপুর এইসব জায়গায় এই ইস্যু ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা এটাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি বা ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে স্বাভাবিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি, ভোটার তালিকার আপডেট, অভ্যন্তরীণ স্থানান্তর ইত্যাদি। তাই শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট কারণকে দায়ী করা সবসময় সঠিক নাও হতে পারে।

তবে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই মন্তব্যের তাৎপর্য অনেক বেশি। কারণ নির্বাচনের সময়ে এমন ইস্যু সামনে এলে তা সাধারণ মানুষের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে। বিজেপি ইতিমধ্যেই এই বিষয়টিকে একটি বড় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরতে শুরু করেছে, অন্যদিকে তৃণমূল তা প্রতিহত করার চেষ্টা করছে।

Advertisements